বিরোধে হার-জিতের গুটি বৃদ্ধা আনোয়ারা

১৭ জুলাই, ২০২০ : ৫:৫৭ অপরাহ্ণ ২৮৫

তেপান্তর রিপোর্ট: বয়সের ভাড়ে কাহিল আনোয়ারা বেগমের (৮০) শরীর। বিভিন্ন সময় তার মৃত্যুর খবরও ছড়িয়েছে। সেই বৃদ্ধাকেই বিরোধে হারজিতের গুটি বানানো হয়েছে। তাকে মেরে হত্যা মামলা দেয়া হবে। এনিয়ে দুঃশ্চিন্তায় ঘুম হারাম একপক্ষের। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলের নোয়াগাঁও ইউনিয়নের কাটানিসার গ্রামে এখন আলোচনা ওই বৃদ্ধাকে নিয়েই।

৮জুলাই উত্তর কাটানিসার গ্রামে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। ওই সময় গ্রামের আবুল কাশেমের ঘরে হামলা চালিয়ে তার বৃদ্ধা স্ত্রী আনোয়ারাকে কপালে রাম দা’ দিয়ে কুপ দেয়ার অভিযোগ উঠে প্রতিপক্ষের লোকজনের বিরুদ্ধে। অপরপক্ষের লোকজনের দাবী আনোয়ারা দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ হয়ে শয্যাশায়ী। বেশ কিছুদিন আগে মারা গেছে এমন খবরও প্রচার হয়েছিলো গ্রামের মাইকে। নানা রোগে আক্রান্ত সেই আনোয়ারাকে প্রতিপক্ষকে ঘায়েলে ব্যবহার করার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয় আনোয়ারাকে। ১১ জুলাই তাকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেয়া হয়।

পূর্ব বিরোধের জের ধরে কাটানিসার গ্রামের দু’দলের মধ্যে সংঘর্ষে অর্ধশত লোক আহত হয়। এসময় ৮-১০টি ঘরবাড়ি ভাঙ্গচুর ও লুটপাট হয়। বর্তমান ইউপি সদস্য মিজান মিয়া ও সাবেক ইউপি সদস্য অলি মিয়ার মধ্যে পূর্ব বিরোধে এ সংঘর্ষ বাধে। ওইসময় আহত আনোয়ারা বেগম মারা গেছে বলে গুজব ছড়িয়ে দেয় একটি পক্ষ। এতে উত্তেজনা আরো বেড়ে যায়। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে পুলিশ এ্যাসল্ট মামলা দায়ের করে। ওই মামলায় দু’পক্ষের ২১জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

সরজমিনে ওই গ্রামে গিয়ে জানা যায়, মিজান মেম্বারের পক্ষের লোক আবুল কাশেম। প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে কাশেম তার প্রথম স্ত্রীকে হাসপাতালে এনে ভর্তি করে। তার কপালে দা দিয়ে কুপানোর অভিযোগ আনা হয়। অপরপক্ষ বলছে, মামলা সাজাতে আনোয়ারার কপালে তার মেয়ে ব্লেড দিয়ে পোঁচ দেয়।

আনোয়ারার ভাই ফরিদ মিয়া বলেন, তার বোন বাড়িতে শয্যাশায়ী ছিলেন। দুই পক্ষ গোলমাল করে তার বোনের কপাল কাইট্টা এনে হাসপাতালে ভর্তি করেছে। আরেক ভাই বাচ্চু মিয়া বলেন, তার বোন মারা গেছে এই খবর শুনে তারা বোনের বাড়িতে ছুটে আসেন। দেখেন তার বোন ভালোই আছেন। তারপরও তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে আমার বড় ভাই বোনের স্বামীকে বলে দেন তাকে হাসপাতালে ভর্তি করে কোন মামলা-মোকদ্দমা দিয়ে প্রতিপক্ষকে যেন কাহিল করা না হয়। গ্রামের রেহান উদ্দিন জানান, অলি মিয়া ও মজিান মেম্বারের মধ্যে নির্বাচন নিয়ে ১০বছর ধরে বিরোধ চলছে। গত তিন মাস ধরে তাদের মধ্যে ঝগড়া চলছে। রেহান আরো জানান, ঘরের বেড়ায় দায়ের কোপ দিলে বেড়া কেটে দায়ের আচর লাগে আনোয়ারা বেগমের কপালে।

এদিকে সংঘর্ষের ঘটনার পর থেকে পুরুষশূন্য রয়েছে গ্রামটি। সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আল মামুন মুহাম্মদ নাজমুল আলম জানান, মুরগীর খামারের পানি রাস্তায় পড়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ হয়। ওই সময় এক বৃদ্ধা মারা গেছে বলে রিউমার ছড়ানো হয়। তাকে কেন্দ্র করে মামলা দিতে চাচ্ছে একটি পক্ষ তিনি তা শুনেছেন। বলেন ওই মহিলার বয়স ৮০ বছর। তার ব্রেইন ষ্ট্রোক করেছিলো। সে কথাও বলতে পারেনা। ঝগড়ায় সে আক্রান্ত হয়নি।

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

  • 35
    Shares