স্বাস্থ্যবিধি নিয়ে জেলা জুড়ে চলছে প্রশাসনের সাথে জনগণের চোর-পুলিশ খেলা

২৩ জুলাই, ২০২০ : ৫:১২ অপরাহ্ণ ৬১৬

কাজী আশরাফুল ইসলাম: ‌চলমান করোনাভাইরাস আতঙ্কে প্রায় প্রতিদিনই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় বাড়ছে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা।সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন বিধিনিষেধ আরোপ করা হলেও প্রায় সকল ক্ষেত্রেই তা উপেক্ষা করছেন জেলার সাধারণ জনগণ। এক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের অসচেতনতার পাশাপাশি প্রশাসনের নিষ্ক্রিয় ভূমিকাকেও দায়ী করছেন জেলার সচেতন নাগরিকবৃন্দ।

অনেকেরই অভিযোগ, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্বাস্থ্যবিধি বিষয়ক প্রচার প্রচারণার অভাবেই সাধারণ মানুষ পরিস্থিতির ভয়াবহতা উপলব্ধি করতে পারছে না।শহরের গুরুত্বপূর্ণ বাজার ও মার্কেটসমূহে প্রতিদিনই সাধারণ মানুষের উপচে পড়া ভীড় পরিলক্ষিত হচ্ছে।করোনা মহামারীর প্রথম তিন মাস বিয়েসহ বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠান আয়োজনে সাধারণ মানুষের মাঝে অনীহা থাকলেও জুলাই মাসে এসে যেন হটাৎ করেই সবাই তাড়াহুড়ো করে সামাজিক অনুষ্ঠান আয়োজন করছেন।

স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করে এধরনের জনসমাগমের কারনে জেলায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে লাফিয়ে লাফিয়ে।যদিও জেলা শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে মাস্কবিহীন চলাফেরা করলে কিংবা গণপরিবহনে অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন করলে ভ্রাম্যমাণ আদালত কর্তৃক জরিমানা আদায় করা হচ্ছে।কিন্তু তাতেও সচেতন হচ্ছে না সাধারণ জনগণ। বরং ভ্রাম্যমাণ আদালতের উপস্থিতি দেখলে চালকরা অল্প কিছুক্ষনের জন্য যাত্রী সংখ্যা কমিয়ে, মোবাইল কোর্টের ব্যারিকেডটুকু পেরিয়েই পুনরায় যাত্রী উঠাচ্ছেন।অনেকটা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সামনেই ঘটছে এইসব যাত্রী উঠা নামার খেলা।অথচ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অনেক জায়গায় দেখা গেছে নির্বিকার ভূমিকায়।জেলা শহরের ভাদুঘর এলাকায় সিলেট – কুমিল্লা মহাসড়কে প্রায় প্রতিদিনই মোবাইল কোর্ট বসানো হয়। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে,কাউতলী থেকে সিএনজি অটোরিকশায় পাচজন যাত্রী তুলে,ভাদুঘর সিএনজি পাম্পের সামনে গিয়ে মোবাইল কোর্টের দু’শ গজ আগে যাত্রী নামিয়ে দেয়া হচ্ছে।মোবাইল কোর্টের স্থানটুকু যাত্রীরা হেটে পার হয়ে দু’শ গজ সামনে থেকে আবারো চাপাচাপি করে গাড়িতে বসছেন। এতে করে মোবাইল কোর্টের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেট বলছেন,সাধারণ মানুষ যদি নিজে থেকে স্বাস্থ্য সচেতন না হয় তাহলে জরিমানা করে করে জনজীবনে শৃঙ্খলা ফেরানো যাবেনা।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা জোরদার করলে এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য সচেতনতা বিষয়ক প্রচার প্রচারণা জোরদার করলে সাধারণ জনগণের ভেতরে পরিবর্তন আসবে বলে মত দিয়েছেন জেলার সচেতন নাগরিকবৃন্দ।

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

  • 208
    Shares