ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা যুবলীগের রেকর্ড, এক কমিটিতেই ১৬ বছর

৩০ জুলাই, ২০২০ : ১১:৪৩ পূর্বাহ্ণ ৬১৪

আসাদুজ্জামান আসাদঃ তিন বছর মেয়াদের কমিটির বয়স এখন ১৬ বছর। কমিটি রাজত্বের এই রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা যুবলীগে। কমিটির অর্ধেক সদস্যেরই ঠিকানা পরিবর্তন হয়েছে এই সময়ে। কেউ আওয়ামী লীগে, কেউ যুবলীগের অন্য ইউনিটে চলে গেছেন। মারাও গেছেন কয়েকজন। জেল, বিদেশে এবং অন্য পেশায় আছেন আরো কয়েকজন। জেলার মতো উপজেলা কমিটিও মেয়াদের লাগামছাড়া। শুধু তাই নয়, চমকপ্রদ আরো রেকর্ড সৃষ্টি করেছেন জেলা ইউনিটে কর্তৃত্বকারী নেতারা।

সকালে এক উপজেলায় কমিটি দিয়ে রাতে তা বিলুপ্ত করার কারিশমা দেখিয়েছেন তারা।
সূত্রমতে, ২০০৪ সালের ২৮শে জুন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা যুবলীগের সম্মেলন হয়। ৭১ সদস্য বিশিষ্ট এই কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হন এডভোকেট মাহবুবুল আলম খোকন আর সিরাজুল ইসলাম ফেরদৌস। প্রায় একবছর পর ২০০৫ সালের ১৮ই জুন কেন্দ্রীয় যুবলীগ চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর কবির নানক ও মির্জা আজম এই কমিটির অনুমোদন দেন। সেখানে সম্মেলনের তারিখ থেকে ৩ বছরের জন্য কমিটি অনুমোদন দেয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। কিন্তু এখনো বহাল আছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা যুবলীগের সেই কমিটি।ছবি- ২০০৫ সালে দেয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কমিটি।

কমিটির সভাপতি মাহবুবুল আলম খোকন ৫ বছর আগে জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হয়ে যুবলীগ ছেড়ে যান। তখন ভারপ্রাপ্ত সভাপতি করা হয় সহ-সভাপতি এডভোকেট শাহনুর ইসলামকে। ভারপ্রাপ্ত হিসেবে তার দায়িত্বের মেয়াদও কয়েক বছর পেরিয়েছে। জেলা যুবলীগের ১ নম্বর সদস্য মো. শাহআলম সরকারও জেলা আওয়ামী লীগে সাংগঠনিক সম্পাদক পদ পান।

এছাড়া সহ-সভাপতি মাহমুদুর রহমান জগলু, সদস্য স্বপন রায় ও খোকন কান্তি আচার্য্য জেলা আওয়ামী লীগে পদ প্রাপ্ত হয়েছেন। স্বাস্থ্য ও পরিবেশক সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান আনছারী পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি, সহ-জনশক্তি ও কর্মসংস্থান সম্পাদক এএইচএম মাহবুবুল আলম সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সদস্য শাহজাহান আলম সাজু আশুগঞ্জ আওয়ামী লীগে সদস্য, সৈয়দ মোহাম্মদ মহসীন কেন্দ্রীয় যুবলীগের সদস্য, মজিবুর রহমান চৌধুরী বিজয়নগর আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ সম্পাদক, জাহাঙ্গীর কবির খান দুলাল সুহিলপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, মো. খায়রুল আমীন নবীনগর পৌর আওয়ামী লীগে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, মোস্তাফিজুর রহমান নান্নু নবীনগর উপজেলা আওয়ামী লীগে শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক, মো. দেলোয়ার হোসেন আশুগঞ্জ সদর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, ত্রাণ ও সমাজ কল্যান সম্পাদক আমজাদ হোসেন রনি শহর যুবলীগের আহবায়ক, সহ-ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ সম্পাদক আলী আজম সদর উপজেলা যুবলীগ সভাপতির পদে রয়েছেন বর্তমানে।

মারা গেছেন সহ-সভাপতি আশিকুল আলম বাবলু, সদস্য আবু শামীম ভূইয়া ও মো. মনিরুল ইসলাম। হত্যা মামলায় ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত এবং অস্ত্র মামলায় জেলে রয়েছেন সদস্য মো. সোহেল রানা, সহ-সভাপতি মোহাম্মদ সুমন মিয়া। এছাড়া যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোবাশ্বের আলী খাদেম বাবু এবং সদস্য জহিরুল হক ভূইয়া সাচ্চু ঢাকায় ব্যবসা করছেন, অর্থ সম্পাদক সাঈদুজ্জামান হিমেল ও সাফায়েত হক খন্দকার ইতালি এবং মো. লিটন মিয়া লিবিয়া প্রবাসী, মো. তসলিম আহমেদ ও মো. জামাল উদ্দিন চাকরিজীবি, নিষ্ক্রিয় রয়েছেন সদস্য পদে থাকা মাহবুব মুন্সি। এভাবে অর্ধেক সদস্যই অস্তিত্বহীন জেলা যুবলীগ কমিটিতে।

ওদিকে উপজেলা ইউনিটগুলোও বেহাল। সদর, নবীনগর, কসবা, বাঞ্ছারামপুর ও নাসিরনগর উপজেলা কমিটি মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে ৫/৬ বছর আগে।  ২০১৪ ও ১৫ সালে এসব ইউনিটের সম্মেলন হয়েছিলো। ২০১৩ সালে জেলা থেকে কসবা উপজেলা কমিটি করা হলে সেখানে উত্তেজনা দেখা দেয়। মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে ওই কমিটি দেয়ার অভিযোগ উঠে।

আখাউড়া উপজেলায় কেন্দ্র থেকে কমিটি দেয়া হয়েছে। সরাইল উপজেলা যুবলীগ সভাপতি আশরাফ উদ্দিন মন্তু ও সাধারণ সম্পাদক শের আলম হত্যা মামলার আসামি হওয়ায় গত ২১শে জুলাই কেন্দ্র থেকে কমিটি বিলুপ্ত করা হয়।

২২শে জুলাই আশুগঞ্জ উপজেলা যুবলীগের সাইফুর রহমান মনি ও আতাউর রহমান কবীরের নেতৃত্বাধীন বর্তমান আহবায়ক কমিটি বিলুপ্ত করে ১৫ সদস্য বিশিষ্ট নতুন কমিটি ঘোষণা করে জেলা যুবলীগ। এতে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক করা হয় আশুগঞ্জ সদর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মো. সালাহ উদ্দিন ও মো. শাহীন আলম বকশীকে। যুবলীগের কেন্দ্রীয় কার্যকরী সংসদের সাথে পরামর্শ  করে এই কমিটি দেয়া হয়েছে বলে প্রেসবিজ্ঞপ্তি দেয় জেলা যুবলীগ। ওইদিন রাতেই আবার আরেক প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে সালাউদ্দিন-বকশীর কমিটি বিলুপ্ত করে আগের আহবায়ক কমিটি পুনর্বহাল করেন জেলা যুবলীগ নেতারা। এক্ষেত্রেও তারা কেন্দ্রীয় কমিটির নির্দেশের উল্লেখ করেন এবং ভুল তথ্যের ভিত্তিতে কমিটি দেয়ার জন্যে ক্ষমা চান।ছবি-আশুগঞ্জ এ দেয়া নতুন কমিটি যা একই দিনের সন্ধ্যায় বিলুপ্ত।

তারা জানান, জেলা যুবলীগের ১০টি ইউনিট রয়েছে। এরমধ্যে ৮টি ইউনিটের কমিটি তারা সম্মেলনের মাধ্যমে করেছেন। জেলা সম্মেলন করার জন্যও তারা ৫/৬ বছর আগে কাউন্সিলরের তালিকা করে কেন্দ্রে জমা দিয়েছেন। সম্মেলনের জন্য তারা প্রস্তুত আছেন সবসময়।

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

  • 485
    Shares