ঈদ উপলক্ষে জনসমুদ্র “রসুলপুর”, দেখার কেউ নেই

৪ আগস্ট, ২০২০ : ৭:০৬ অপরাহ্ণ ৯৬৪

কাজী আশরাফুল ইসলাম: পবিত্র ইদুল আযহার ছুটিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরতলীর গোকর্ন ঘাট- রসুলপুর এলাকা যেন জনসমুদ্রে পরিনত হয়েছে।বর্ষার ভরা মৌসুমে তিতাসের পূর্ণ যৌবন এবং নদীর তীরে সূর্যাস্ত উপভোগ করতে ইদের দিনসহ গত তিনদিনে প্রায় লক্ষাধিক মানুষের সমাগম ঘটেছে রসুলপুরে,যা এখনও বিধ্যমান। হাজার হাজার মানুষের ভীড় এবং শতশত গাড়ির চাপে ইদের দ্বিতীয় দিন পৈরতলা বাস স্ট্যান্ড থেকে রসুলপুর পর্যন্ত ৬ কিলোমিটার দীর্ঘ যানযট সৃষ্টি হয়।
করোনাকালীন সময়ে স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করে সাধারণ মানুষের এধরণের অবাধ চলাফেরাকে আত্মঘাতী বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এমন ভয়াবহ অবস্থা তৈরি হলেও সমাধানের জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই বলছেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়াবাসী হয়তো ভুলে গিয়েছে দেশে করোনা ভাইরাস বলতে যে কিছু আছে। এত ভীড় ঠেলে মাস্ক বিহীন অবস্থায় কেন রসুলপুর এলেন জানতে চাইলে ঘাটুরা গ্রামের ইব্রাহিম হাজারী বলেন,’ইদের আমেজে বন্ধুদের সাথে নদীর সৌন্দর্য দেখতে এসেছিলাম কিন্তু এত মানুষের জমায়েত হবে ভাবতে পারিনি।’

সুলতানপুর গ্রামের ফাহিম হাসান বলেন,”রসুলপুরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সম্পর্কে অনেক শুনেছিলাম,কিন্তু এখন মনে হচ্ছে আজকের দিনে এখানে আসাটা উচিত হয়নি।’ দর্শনার্থীদের পাশাপাশি বখাটেদের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মত। ইঞ্জিন চালিত নৌকায় স্পিকার বাজিয়ে উচ্চস্বরে গানের শব্দ আর যানবাহনের হর্নের আওয়াজে রসুলপুরে বিদঘুটে পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছিল।

ইভটিজারদের অত্যাচারে অনেক মেয়েকেই অসহায় ভাবে স্থান ত্যাগ করতে দেখা গিয়েছে। যদিও ইভটিজিং এর বিরুদ্ধে প্রশাসনিক কোন উদ্যোগ চোখে পড়েনি।

করোনার এই মহামারীতে লাখো মানুষের জমায়েত বেআইনী কিনা এবং প্রশাসন চাইলে এ ধরনের জমায়েত রোধ করতে পারতো কিনা জানতে চাইলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ শামসুজ্জামান তেপান্তরকে বলেন,’আমরা এ বিষয়ে অতি দ্রুতই ব্যাবস্থা নিচ্ছি।।’
তাছাড়া তিনি জনসাধারণকে আরও স্বাস্থ্য সচেতন হবার জন্য অনুরোধ জানান।

উল্লেখ্য, গত দু’দিন যাবৎ আখাউড়া উপজেলার কোড্ডা বাইপাস নামক জায়গার তিতাস নদীর তীরে প্রতিদিন হাজারো মানুষের জমায়েত হতো। এ বিষয়ে তেপান্তরে গত সোমবার সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর গতকাল সন্ধার পর থেকে ওখানে প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুলিশ পাহাড়া বসানো হয়েছে এবং জন সাধারণকে নদীর তীরে যেতে দেওয়া হচ্ছে না।

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।