ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কথিত গায়েবী হাত, এলাকায় তোলপাড়

২৮ অক্টোবর, ২০১৯ : ১২:১৯ অপরাহ্ণ ২৫১৫

সীমান্ত খোকন: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরের কেনা গ্রামে বাশঝারে কথিত গায়েবী হাত বের হওয়া নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। সেই হাত দেখতে হাজার হাজার মানুষ ওই বাড়িতে ভির করছেন। গতকাল রোববার গ্রামের মোল্লা বাড়ির আজম মোল্লার বাশঝারে এই ঘটনা ঘটে।
এঘটনাকে কেন্দ্র করে সেখানে বাশঝারে ফকির দরবেশগণ আস্তানা গড়েছেন। দেওয়া হচ্ছে পানিপড়া।
সরেজমিন অসুন্ধানে গিয়ে দেখা যায় হাজার হাজার মানুষের ভীর। সেখানে পাশের গ্রামের আহাম্মদ নামে একজন দরবেশ আস্তানা গড়েছেন। আগরবাতি লাগানো হয়েছে সেখানে। কৌতুহলী মানুষের ভীর সামলাতে দেওয়া হয়েছে বাশের বেড়া।
দরবেশ আহাম্মদ জানান, রোববার (২৭ অক্টোবর) সকালে এই মানুষের হাত আকৃতির বস্তুটিকে দেখতে পাওয়া যায়। একটি কাটা বাশের গুড়িতে এটি বের হয়। গাছের গুড়িতে এটিকে বসানো অবস্থায় দেখা যায়। আহাম্মদ জানান, রাতের আধারে হাতের পাশের আরো ৩টি গাছের গুড়ি থেকে অলৌকিক ভাবে পানি বের হয়েছে। ফজরের সময় সেই পানি বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু তখন সেই পানি কিছু সংগ্রহ করে রাখা হয়। সেই পানি সাধারন পানির সাথে মিশিয়ে এলাকার কিছু সাধারন মানুষ নিয়ে যাচ্ছে বিভিন্ন রোগ মুক্তির আশায়। সে ক্ষেত্রে কিছু টাকাও দিয়ে যাচ্ছে মানুষ।
এ বিষয়ে আলি আজম সাহেবের ছেলে হৃদয় জানান, এই হাতটিকে দা দিয়ে কোপ দিয়েছিলেন তিনি, কিন্তু কোপ দেওয়ার পর দা ফিরে এসেছে, হাতটি কাটেনি।
এ বিষয়ে কেনা আসমা ইসলাম উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জানান, তিনি মনে করেন এটি ব্যাঙের ছাতা বা মাশরুম জাতীয় কিছু হতে পারে। এটি নিয়ে অতি উৎসাহের কিছু নেই।
এ বিষয়ে কেনা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ইমাম আমিনুল ইসলাম বলেন, আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখেছি। আমার যা মনে হয়, এটি ব্যাঙের ছাতার শক্ত অংশ। এটি অলৌকিক কিছু নয়। ইসলাম ধর্মে এর কোন ভিত্তি নেই। আমি নিজে সেখানে গিয়ে কথিত সেই হাতের কিছু অংশ ভেঙ্গেছি। ভাঙ্গার পর গুজব রটেছে আমি নাকি অসুস্থ হয়ে গেছি। যা সম্পুর্ন মিথ্যা। আমি সুস্থ আছি।
এ বিষয়ে বিজয়নগরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহের নিগার বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। পুলিশ এ ব্যাপারে ব্যাবস্থা নিবে।
বিজয়নগর থানার ওসি ফয়জুল আমিন জানান, তিনি তার অফিসারকে নির্দেশ দিয়েছেন বিষয়টি দেখার জন্য। অপরাধমূলক কিছু দেখলে ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।