“রাতে কেন ব্যথা উঠে”? ব্রাহ্মণবাড়িয়া স্বাস্থ্য সেবায় পৈশাচিক নিয়ম

৬ আগস্ট, ২০২০ : ২:৩৪ অপরাহ্ণ ১২৬৯

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের ভিতর ঢুকতে দিচ্ছেনা রোগীর স্বজনকে।

তেপান্তর রিপোর্ট: “ব্যথা রাত ১০টায় কেন উঠলো, দিনে কেন ব্যথা উঠেনি”?
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এক গর্ভবতী নারীর প্রসব ব্যথা উঠায় হাসপাতালে নেওয়ার পর ডাক্তার ও হাসপাতালের কর্মীরা এই প্রশ্ন করে ধুর ধুর করে তারিয়ে দিয়েছেন রোগী ও তার স্বজনদের। তারপর ৫ হাসপাতাল ঘুরেও কোন হাসপাতালেই ভর্তি করা গেলোনা রোগীকে। পরে উপায়ান্তর না পেয়ে বাধ্য হয়ে সদর হাসপাতালে রোগীকে নিয়ে যায় তার স্বজনরা। বুধবার (৫ আগষ্ট) রাত ১০ টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে এই পৈশাচিক ঘটনা ঘটে। তখন রোগী ব্যথায় অভিরত চিৎকার করলেও মন গলেনি কোন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের। শুধু তাই নয়, ৯৯৯ এ ফোন করেও কোন প্রতিকার মেলেনি। শেষমেশ রোগীর স্বজনরা ফেইসবুক লাইভে এসে ক্ষোভ ঝাড়েন।

সেই ভিডিওতে দেখা যায়, রোগী ও তার স্বজনরা শহরের মধ্যপাড়ার ডাক্তার আবু সাঈদের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে আকুতি মিনতি করেও মন গলাতে পারেনি হাসপাতালের কর্তব্যরতদের। তখন রোগী সিএনজিতে বসে ব্যাথার কারনে চিৎকার করছিলেন। তবু রোগীকে ভর্তি করেনি তারা। শুধু তাই নয়, গ্রীলের গেইট পর্যন্ত খোলেনি এই হাসপাতালের লোক।
তবে এই রোগী ও তার স্বজনদের পরিচয় জানা যায়নি।

সিএনজিতে যন্ত্রনায় ছটফট করছে রোগী।

লাইভের সেই ভিডিওতে রোগীর স্বজনরা বলেছেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের গ্লোবাল হসপিটাল, মিশন হসপিটাল, সেবা হসপিটাল ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালসহ ৫টি হাসপাপাতালে রোগীকে মূমুর্ষ অবস্থায় নিয়ে যাওয়ার পরও কেউ চিকিৎসা করেনি। সবাই বলে “এখানে হবেনা”। রাত ১০টা বাজার কারনে কোন হাসপাতাল চিকিৎসা করেনি বলে লাইভে জানান রোগীর স্বজনরা। তারা আরো জানান, শহরে বিভিন্ন হাসপাতালে ৫ ঘন্টা ধরে ধরনা দিয়েও কোন লাভ হয়নি। একাধিক ডাক্তার ও হাসপাতালের মালিকের সাথে ফোনে কথা বলেও আকুতি মিনতি করেছেন তারা, তবু মন গলেনি কারো। ক্ষোভের সাথে তারা লাইভে আরো বলেন, হাসপাতালগুলো কসাইখানা।

৬ আগষ্ট ভিডিওটি ফেইসবুকে পোষ্ট হলে মূহুর্তেই তা ভাইরাল হয়ে যায়।

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

  • 1K
    Shares