রক্ত ও চুল ফেলে ৩ সন্তানের মায়ের প্রেমিকের সাথে পালায়ন, উদ্যেশ্যে স্বামীর পরিবারকে ফাসানো

৭ আগস্ট, ২০২০ : ৯:৩৬ অপরাহ্ণ ৯১৩
আটককৃত খাদিজা ও তার প্রেমিক আনোয়ার।

সীমান্ত খোকন: ২৬ বছর বয়সী খাদিজা। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আশুগঞ্জ উপজেলার শরীফপুর গ্রামের নদীর পাড়ের সোহেল মিয়ার স্ত্রী। বাবার বাড়ি সদর উপজেলার চিলোকুট গ্রামে। বৈবাহিক জীবনের প্রায় ১০ বছর অতিক্রম করেছেন, হয়েছেন তিন সন্তানের মা। এই অবস্থায় জরিয়ে পড়েন পরকীয়ায়। ফলে গত ৩ আগষ্ট তিন সন্তানকে ঘরে ফেলে রেখে প্রেমিকের হাত ধরে পালিয়ে যায়। কিন্তু যাওযার সময় তার স্বামীর পরিবারের উপর খুনের অভিযোগ চাপাতে রান্না ঘরে ফেলে গেছেন কিছু চুল ও রক্ত। ব্যস, শুরু হলো তোলপাড়। বাড়িতে জড়ো হতে লাগলো কৌতুহলী মানুষ। যেনো বাধ ভেঙ্গে মানুষ যেতে লাগলো ওই বাড়িতে। অনেকে ধারণা করছিল খুন করা হয়েছে। তবে স্বামী সোহেলের পরিবার থেকে বার বার বলা হচ্ছে খাদিজা পালিয়ে গেছে। কিন্তু কেউ বিশ্বাস করলোনা। আশুগঞ্জ থানা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পুলিশের সদস্যরা গেলেন ঘটনাস্থলে। গিয়েছেন পুলিশের ঊর্ধতন কর্মকর্তাও। মেয়ের বাবার বাড়ির লোকেরা অভিযোগ করেছে খাদিজাকে খুন করা হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে খাদিজার স্বামী,শশুর,শাশুড়িসহ আটক করা হয়েছে পরিবারের ৪/৫ জনকে। কিন্তু রহস্যের কোন ক্লু পাওয়া যাচ্ছিলনা।

সবশেষ গত ৬ আগষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থেকে খাদিজা ও তার প্রেমিককে আটক করে সদর থানা পুলিশ। তারপর তাদেরকে হস্তান্তর করা হয় আশুগঞ্জ পুলিশের হাতে। এই ঘটনা দেখে হতবাক শরীফপুরবাসী। গ্রামের কোন মহিলা এমন কান্ড করতে পারে তা কারো ধারণা ছিলনা।
খাদিজার প্রেমিকের নাম আনোয়ার হোসেন(২৫), তিনি ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার ইয়ার নূরুল্লাহপুর গ্রামের আবুল বাশারের ছেলে।
এর প্রেক্ষিতে খাদিজার স্বামী সোহেল মিয়া মামলা করলে ৭ আগষ্ট তাদের অভিযুক্তদের আদালতে পাঠায় আশুগঞ্জ থানা পুলিশ।

এদিকে ঘটনার প্রথম দিনেই (৩ আগষ্ট) খাদিজার বাবার বাড়ির লোকেরা শরীফপুর মেয়ের স্বামীর বাড়িতে এসে খুনের অভিযোগ তুলে তান্ডব চালিয়েছে। হামলা করেছে বাড়ির প্রায় সবার উপর। তাদের হামলা থেকে বাদ যাননি ইউপি সদস্য ও সোহেলের চাচা মোহন মেম্বারও।

এখন শরীফপুর গ্রামবাসী এসব হামলা ও মিথ্যা অভিযোগে একটি পরিবারকে হয়রানী করার জন্য সঠিক বিচার দাবী করছেন।

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

  • 81
    Shares