সব দলের কাছেই “আব্দুল্লাহ আল বাকি” ছিলেন জনপ্রিয় রাজনীতিবিদ

১০ আগস্ট, ২০২০ : ১০:০৫ পূর্বাহ্ণ ৯০৪

জাহাঙ্গীর আলম বিপ্লব: আমরা যখন মিশন স্কুলের ছাত্র তখন আব্দুল্লাহ আল বাকি(মামা)ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জনপ্রিয় ছাত্রনেতা। তিনি প্রায় ছয় ফুট লম্বা ছিলেন তার গায়ের রং ছিল উজ্জ্বল ফর্সা। আব্দুল্লাহ আল বাকি সবসময় পরিপাটি হয়ে রাজপুত্রের মতো সদলবলে চলাফেরা করতেন। নব্বই দশকে উনি যখন হেটে চলাফেরা করতেন উনার পিছনে পিছনে দলীয় কর্মী ও ভক্তদের পায়ের ধুলো রাস্তা অন্ধকার হয়ে যেত। মানুষটি সব দলের কাছেই জনপ্রিয় ছিল। দলীয় আদর্শিক কারো প্রতি কোনো বিরোধ ছিল না। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পাওয়ার হাউস রোডের বাসভবনে দলীয় ও সাধারণ মানুষ এবং আর্থিক সাহায্য প্রার্থী মানুষের ভিড় লেগে থাকতো। তাঁর আর্থিক বিশালতা ছিলো না কিন্তু তাঁর আত্মা ছিলো বিশাল। গরীব দুঃখীদের অকাতরে টাকা-পয়সা বিলি করতেন। অনেক সময় তাঁকে দেখেছি পকেটে টাকা শেষ হবার পর ধার করেও মানুষদের আর্থিক সহায়তা করছেন।

ক্ষণজন্মা প্রাণবন্ত এই মানুষটি ব্রাহ্মণবাড়ীয়ার রাজনৈতিক অঙ্গনে ছিলেন আলোচিত আলোকিত ও জনপ্রিয়। ব্রাহ্মণবাড়ীয়া বিএনপির প্রতিষ্টার অন্যতম প্রধান প্রাণপুরুষ আব্দুল্লাহ আল বাকি। জেলা ছাত্রদলের প্রতিষ্টাতা সভাপতি, জেলা যুবদল সভাপতি ও জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন |

বর্তমান জেলা বিএনপির নেতৃত্বের অনেকেই তাঁর হাত ধরেই সৃষ্টি, এ দাবি ব্রাহ্মণবাড়ীয়ায় আব্দুল্লাহ আল বাকি ব্যতীত অন্য কেউ করতে পারবে না।
জনপ্রিয় সাবেক ছাত্রনেতা আব্দুল্লাহ আল বাকি এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে অগ্রভাগে ছিলেন। সেজন্য তিনি রাজনৈতিক মামলায় বারবার জেল খেটেছেন।
তিনি ১৯৮৪ সালে জেলা আন্দোলনেও জেল খাটেন। ব্রাহ্মণবাড়ীয়ার কলেজ ছাত্রসংসদের আজীবন সদস্যের একমাত্র ঈর্ষনীয় পদটি তার গ্রহনযোগ্যতারই মাপকাঠি। ব্রাহ্মণবাড়ীয়া কলেজের প্রতি ভালোবাসা ছিল অপরিসীম।
সদ্যপ্রয়াত ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজর জনপ্রিয় সাবেক ছাত্রনেতা আব্দুল্লাহ আল বাকি
ছিলেন সাদা মনের, অতি আবেগী,কর্মময় মানুষ। আমরা তাঁর স্নেহ পেয়েছি, অপার ভালোবাসায় সিক্ত হয়েছি। সবার কাছেই তিনি ভালো মানুষ ছিলেন। তাঁকে কখনো রাগ হতে দেখিনি। তিনি মানুষকে ভালোবাসতেন। সব বয়সী মানুষের সাথে নিঃসঙ্কোচে মিশে যাওয়ার স্বভাব তাঁর ছিলো। অনেক বছর ধরে তাঁর সাথে দেখা হয়েছে, কথা হয়েছে, কিন্তু তাঁর মধ্যে কখনো আন্তরিকতার ঘাটতি দেখিনি।

তিনি আমার প্রিয় মানুষ, প্রিয় স্বজন ছিলেন। তাঁর পরিবারের সাথে আমার স্বার্থহীন ভালোবাসা গভীর বন্ধুত্ব ছিলো এবং আছে। আমরা তাঁর কাছে ঋণী। তিনি চলে গেছেন ভাবতেই পারিনি। তিনি তাঁর কর্মের মাধ্যমে ব্রাহ্মণবাড়িয়াবাসীর মনে দীর্ঘদিন বেঁচে থাকবেন। আমরা তাঁর আত্মার শান্তি কামনা করি। পরম করুণাময় যেনো তাঁকে যথাস্থানে রাখেন |

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।