রোগে-শোকে নয়, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পানিতে ডুবেই মারা যাচ্ছে বেশিরভাগ শিশু

১২ আগস্ট, ২০২০ : ৪:৩২ অপরাহ্ণ ১০৩৪

আসাদুজ্জামান আসাদ: প্রতিবছর ০১ থেকে ১৭ বছর বয়সী কমপক্ষে ১৮ হাজার শিশুর পানিতে ডুবে মৃত্যু হয় বাংলাদেশে। মারা যাওয়া বেশিরভাগ শিশুর বয়স ১০ মাস থেকে ৩ বছরের মধ্যে।

২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়াতেই প্রায় ২৫ জন পানিতে ডুবে মারা গেছে।এর মাঝে সবচেয়ে বেশি মারা গেছে পুকুরে ডুবে।

গতকাল মঙ্গলবার (১১ই আগস্ট) দুপুর ২টার দিকে সদর উপজেলার নাটাই দক্ষিন ইউনিয়নের ছাপুর বাড়ির দক্ষিনপাশের পুকুরের পানিতে ডুবে  রুবেল মিয়ার ২বছরের মেয়ে রোজা মারা যায়।

গত ৮ই আগস্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলায় ২শিশু ও নবীনগর উপজেলায় ১সহ জেলায় ৩জন পানিতে ডুবে মারা যায়।

এর ২দিন আগে ৫ই আগস্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ পানিতে ডুবে আমিন নামে ৫ বছরের এক ছেলে শিশুর মৃত্যু  হয়।

গত ২৬ জুলাই ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার উলচাপাড়ায় পানিতে ডুবে রোজা নামে তিন বছরের এক মেয়ে শিশুর মৃত্যু  হয়।

গত ২৭মে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে  পানিতে ডুবে হোসাইন মিয়া (৩) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়।

গত ১২ মে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় পুকুরের পানিতে ডুবে সুমাইয়া আক্তার (৬) ও সামিয়া আক্তার (১০) নামে দুই বোনের মৃত্যু হয়।

এর আগে গত ১৫ ফেব্রুয়ারী দাতিয়ারা মহল্লার ইয়াছিন মিয়ার ছেলে সাকিব(১৪) এর পানিতে ডুবে মৃত্যু হয়।

৮ফেব্রুয়ারী ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর শহরের কাজি পাড়ায় পানিতে ডুবে মুগ্ধ (৮) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়।

খেলাধুলা করতে গিয়ে পুকুরে ডুবে শিশু মৃত্যুর সংখ্যা বেশি।

বাংলাদেশ হেলথ অ্যান্ড ইনজুরি সার্ভে অনুযায়ী বাংলাদেশে প্রতি ৩০ মিনিটে একটি শিশু পানিতে ডুবে মারা যায়। আর দিন শেষে গড়ে মৃত শিশুর সংখ্যা দাঁড়ায় ৫০-এ। প্রতিবেদন অনুযায়ী, অন্য যেকোনও কারণে মৃত্যুর চেয়ে পানিতে ডুবে মৃত্যুর সংখ্যা বেশি।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, শহরের চেয়ে গ্রামে পানিতে ডুবে শিশুমৃত্যুর হার অনেক বেশি। তবে মহানগর ও পৌর শহরেও পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঘটনা কম নয়।

ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে ঘিরে রাখা তিতাস, মেঘনা, আউলিয়াজুরী, কালাছড়ি, খাস্তি, ছিনাইহানি, ডোলভাঙ্গা, পাগলা, পুটিয়া, বলভদ্র, বলাক, বালিয়াজুড়ি, বালুয়া, বিজনা, বুড়ি, বেমালিয়া, মধ্যগঙ্গা, রোপা, লংঘুন, লাহুর, সোনাই, হাওড়া, হুরুল নদীতে অনেক শিশু ডুবে যায়। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নিচু এলাকা বা বিলের ওপর গড়ে ওঠা গ্রামের শিশুরা বিলে ডুবে মারা যায় বেশি। সর্বশেষ এ ধরনের একটি দুর্ঘটনার বলি হয় নবীনগর উপজেলার এক শিশু।

বর্ষা মৌসুমে বিলের পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যুর হার বৃদ্ধি পায়।

দীর্ঘদিন প্রতিবন্ধী ও শিশুদের নিয়ে কাজ করা এডঃ তাসলিমা সুলাতানা খানম নিশাত মনে করেন, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলে সাঁতার শেখানোর মধ্য দিয়ে পানিতে ডুবে শিশুমৃত্যুর হার কমানো সম্ভব। তিনি বলেন, শিশু হামাগুড়ি দিতে শেখার সময় থেকে পাঁচ বছর বয়স পর্যন্ত তার ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখতে হবে। ডোবা ও পুকুরের চারপাশে বেড়া দেওয়ার পাশাপাশি শিশুকে পানিতে পড়ার ক্ষতিকর দিকও জানাতে হবে এবং ছয় বছরের পরই তাকে সাঁতার শেখানোর চেষ্টা করতে হবে।

হাওর অঞ্চল নিয়ে কাজ করা ইঞ্জিনিয়ার শফিকুল ইসলাম বলেন, আমাদের পর্যবেক্ষণ বলছে বর্ষা মৌসুমে এমনটা বেশি ঘটে। বর্ষার তিন-চারটে মাস যদি আমরা অভিভাবকদের ভূমিকা এবং দায়িত্ব নিয়ে কর্মসূচি আনতে পারি তাহলে এ মৃত্যুর হার কমানো সম্ভব। তিনি বলেন, সকাল ১০টা থেকে দুপুরের পরপর এই ঘটনাগুলো বেশি ঘটে। এ থেকে বোঝা যায়, অভিভাবকরা যখন কাজের মধ্যে থাকেন তখনই ঘটনাগুলো বেশি ঘটে। সেক্ষেত্রে কিভাবে ওই সময়টা শিশুদের নজরে রাখা যায় সেটাই লক্ষ্য হওয়া দরকার।

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।