“ক্রসফায়ারের হুমকি” মামলার আসামিদের গড়মিল বক্তব্য: এসআই হুমায়ূনের মাথা নষ্ট -ওসি

১৩ আগস্ট, ২০২০ : ৪:৪১ অপরাহ্ণ ৭২৩

আসাদুজ্জামান আসাদঃ আখাউড়া থানায় ক্রসফায়ার এর ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়ের মামলায় অভিযুক্ত পাঁচজন পুলিশ সদস্যদের বক্তব্যে গড়মিল পাওয়া গেছে।মামলার পর তারা একে অন্যর উপর দায় চাপানোর চেষ্টা করছেন। বৃহস্পতিবার(১৩ই আগস্ট) তেপান্তর এর পক্ষ থেকে আসামিদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা এই গড়মিল বক্তব্য দেন।

মামলার আসামি এস আই মতিউর রহমান তেপান্তর কে বলেন,আমার নামে মামলা করা ব্যাক্তি হারুন মিয়াকে আমি চিনিনা।ঘটনার দিন রাতে এস আই হুমায়ুন আখাউড়ায় মাদক সহ একজনকে আটক করে। আটককৃত ব্যাক্তি জানায় তার কাছে থাকা মাদক সে চিকুনি বেগম থেকে কিনেছে।এই তথ্য হুমায়ুন থানায় জানালে আমি ওসির অনুমতি নিয়ে হুমায়ুনের সাথে চিকুনি বেগমের বাড়িতে যায় এবং চিকুনি বেগমের আত্নীয়দেরসহ গ্রেফতার করি।কিন্তু তার বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে কোন মাদক না পাওয়া যাওয়ায়, সেদিন রাতেই তাকে আবার ছেড়ে দেয়া হয়।পরে সেই রাতেই হুমায়ুন আবার হারুন মিয়ার বাড়িতে যায়।যাওয়ার পর সেখানে কি হয়েছে এব্যাপারে আমি কিছুই জানিনা।

এ ব্যপারে এস আই হুমায়ুন তেপান্তর কে বলেন,হারুন কিংবা চিকুনি বেগম কাউকেই আমি চিনি না।এস আই মতিউর রহমান আমাকে সেখানে নিয়ে গিয়েছিল। আমি অনেকদিন যাবত অসুস্থতার কারণে ছুটি কাটিয়ে এখন পুলিশ লাইনে আছি।গতকাল যেই মামলা ব্যপারে জেনেছি হয়ত এখন আর আখাউড়া থানায় যেত পারব না।আমার প্রমোশনের প্রসেসিং চলছিল তাই আমি আখাউড়া থানায় ১১মাস চাকুরিকালে কোন প্রকার অন্যায়ের সাথে জড়িত হয় নাই।যদি কেউ আমার বিরুদ্ধে কোন প্রকার অন্যায়ের প্রমাণ দিতে পারে তবে পুলিশের চাকুরী ছেড়ে দিব।

মামলার আরেক আসামি এ এস আই মোরশেদ তেপান্তর কে বলেন, রমজান ঈদের আগের রাতের ঘটনা এইটা।মতিউর ও হুমায়ুন স্যারের কল পেয়ে আমি আমার টহল টিম নিয়ে চিকুনি বেগমের বাড়িতে যায়।সেখানে আগে থেকেই উনারা দুইজন উপস্থিত ছিলেন।আমরা যাওয়ার পর চিকুনি বেগমের ঘরে তল্লাশি চালানো হয় এবং তাকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।পরে হুমায়ুন স্যার আবার তার বাড়িতে যায়।

তিনি আরো বলেন,ঈদের আগের দিন থেকে হুমায়ুন স্যারের মাথায় সমস্যা দেখা দেয় যদিও তখন আমরা তা বুজতে পারি নাই।তবে ঈদের ২দিন পর হুমায়ুন স্যার থানায় অন্যান্য সদস্যদের মারধর শুরু করেন।এ ব্যাপারটি আমরা উর্ধতন কর্মকর্তাদের জানায়।তখন উনাকে ছুটিতে পাঠানো হয়।

অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের বক্তব্যের ব্যাপারে জানতে চাইলে আখাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রসূল আহমেদ নিজামী বলেন,কে কিসের বক্তব্য দিল?হুমায়ূনের তো মাথাই ঠিক নাই।
গতকাল মামলা হয়েছে জেনেছি।কোর্ট থেকে নোটিশ আসলে এব্যাপারে আলোচনা করে জানানো হবে।এ কথা বলেই ফোন কলটি কেটে দেন ওসি রসূল নিজামী।

ছবি: ওসি রসূল আহমেদ নিজামী

উল্লেখ্য, ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় এর অভিযোগ এনে আখাউড়া থানার পাঁচ পুলিশ সদস্যর বিরুদ্ধে গত ১২ আগস্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া সিনিয়র জুডিশিয়াল আদালতে মামলা করেন আখাউড়া পৌরএলাকার মসজিদ পাড়ার বাসিন্দা হারুন মিয়া।
মামলার এজহারে জানা যায়,মাদক ব্যবসায়ী চিকুনি বেগম কে গ্রেফতারের নাটক সাজিয়ে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যরা হারুন মিয়া ও তার স্ত্রীকে মিথ্যা মাদক মামলার ভয় দেখিয়ে গ্রফতার করে ১ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবী করে।চাদাঁ না দিলে ক্রসফায়ারের হুমকি দেয়া হয় তাদের।

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

  • 572
    Shares