ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পাওনা টাকা ফেরত চাওয়ায় পাওনাদারের বিরুদ্ধে মামলা

১৬ আগস্ট, ২০২০ : ২:০১ অপরাহ্ণ ১৩৯৭

আসাদুজ্জামান আসাদঃ ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর এর সুহিলপুর ইউনিয়নে পাওনা টাকা ফেরত চাওয়ায় পাওনাদারের বিরুদ্ধে দেনাদারের মামলা। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পাওনাদার এবং দেনাদার দুই পক্ষ-ই পাল্টাপাল্টি মামলা করেছেন।পাওনাদার এ নিয়ে গ্রামের চেয়ারম্যান,মেম্বারদের নিয়ে একাধিক বার শালিস বৈঠক করলেও তা সমাধান হয়নি।

সরজমিনে গিয়ে এবং পাওনাদারের মামলার এজহারে জানা যায়, সুহিলপুর ইউনিয়নের মুসলিম পাড়ার মোঃআব্দুল আজিজ থেকে প্রবাসে ব্যবসার কথা বলে বুধল ইউনিয়নের সুতিয়ারা গ্রামের আঃরাজ্জাকের ছেলে তোফাজ্জল মিয়া ও তার বড় ভাই উজ্জ্বল মিয়া ৪৭১৮০০০(সাতচল্লিশ লক্ষ ১৮হাজার) টাকা ধার নেন।বিগত ৩-৪ বছরে সর্বমোট প্রায় ৩১লক্ষ টাকা ফেরত ও দেন তারা।কিন্তু এরপর থেকেই শুরু করেন তাল বাহানা।এ বিষয়টি নিয়ে গ্রামের মেম্বার, চেয়ারম্যানদের জানানোর পরও কোন সমাধান না হওয়ায় দেনাদার তোফাজ্জল ও উজ্জ্বল এর বিরুদ্ধে মামলা করেন আব্দুল আজিজ।কিন্তু টাকা দেয়ার সময় কোন প্রকার দলিল না হওয়ার সুযোগ নিয়ে পাওনাদার আব্দুল আজিজের বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা করেন তোফাজ্জল ও উজ্জ্বল।

ছবি: পাওনাদার আব্দুল আজিজের করা মামলার এজহার

এব্যাপারে আব্দুল আজিজ তেপান্তর কে জানান,তোফাজ্জল আমার ছোট ছেলের বন্ধু। সেই সুবাদে তার সাথে আমাদের পারিবারিক একটি সম্পর্ক তৈরি হয়।সে যখন প্রথম প্রবাসে যাওয়ার ভিসা পায় তখন আমার ছেলের কথায় তাকে ৫লক্ষ টাকা দেয়।এরপর তোফাজ্জল প্রবাসে ব্যবসার প্রস্তাব করলে তোফাজ্জল ও তার ভাই উজ্জ্বলকে কোন প্রকার দলিল ছাড়াই সরল বিশ্বাস এর উপর ৪৭১৮০০০ টাকা দেয়।সেই টাকা হতে সর্বমোট প্রায় ৩১ লক্ষ টাকা ফেরত দেয় তারা। বাকি টাকা ফেরত না দিয়ে টালবাহানা শুরু করে।তোফাজ্জল তার মোবাইল ফোন বন্ধ রাখে যার কারণে প্রায় ৭ মাস যোগাযোগ করা সম্ভব হয় নাই। সর্বশেষ তোফাজ্জল এর বড় ভাই উজ্জ্বল আরো ৫ লাখ টাকা পরিশোধ করে বাকি প্রায় ২১০০০০ (একুশ লক্ষ) টাকা ফেরত দিতে অসমর্থ জানায়।এ বিষয়টি তাদের গ্রামের চেয়ারম্যান গ্রামের সবাইকে জানালে উজ্জল এবং তোফাজ্জল আমার পাওনা টাকা আমাকে ফেরত দেয়ার চেক দেখিয়ে আমার নামে উল্টো প্রতারণার মিথ্যা মামলা করে।তারা এই মামলা করে যেন তাদের কাছে আর টাকা ফেরত চাইতে না পারি।আর তোফাজ্জল এর করা মিথ্যা মামলায় ১নং সাক্ষী তার মা,২নং সাক্ষী তার বাবা,৩নং সাক্ষী তার বড় ভাই আমার মামলার আসামি উজ্জ্বল এবং ৫নং সাক্ষী ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার পুনিয়াউট এলাকার আদিল মিয়া।তোফাজ্জল এর পরিবারের সবাই মিলে এই মিথ্যা মামলা করেছে যেন তাদের কাছে আর টাকা ফেরত চাইতে না পারি। যা তার মামলার ৫ নং সাক্ষি আদিল নিজেই স্বিকার করেছেন,যার ভিডিও ক্লিপ আমার কাছে আছে।

এ ব্যাপার বধুল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল হক তেপান্তর কে বলেন,সুহিলপুর গ্রামের আব্দুল আজিজ, সুতিয়ারা গ্রামের তোফাজ্জল ও উজ্জ্বল এর কাছে টাকা পাওনা এই ব্যাপারটি আব্দুল আজিজ এবং সদর থানার এস আই শামিম আমাকে জানিয়েছিল। এবং এইটা সমাধান এর জন্যও বলেছিল।উজ্জ্বল এবং তোফাজ্জল এর বাবাকে এই ব্যাপারে জানালে তারা ঈদের পর বসার কথা জানিয়েছিল কিন্তু এরপর আর কোন খোঁজখবর আমি পাইনি।

ছবি: পাওনাদারের বিরুদ্ধে করা তোফাজ্জল মিয়ার মামলার এজহার।

এব্যাপারে জানাতে উজ্জ্বল ও তোফাজ্জলদের বাড়িতে গেলে উজ্জ্বল তেপান্তর কে বলেন,আমরা যে তাদের কাছ থেকে টাকা পয়সা নিয়েছি তার কোন প্রমাণ নেই তাদের কাছে।কিন্তু আমরা টাকা দিয়েছি তার অনেক প্রমাণ আছে যা মামলায় উল্লেখ্য।পুলিশ মামলার তদন্ত করছে তাই এই ব্যাপারে আর কিছুই বলতে চাই।

মামলার বর্তমান তদন্ত অফিসার এস আই হারুন তেপান্তর কে বলেন,মামলাটি আগে এস আই শামিম এর কাছে ছিল।এখন আমাকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।এখানে দুই পক্ষের ই মামলা আছে এবং দুইজন ই টাকা পাওনা দাবী করছে।দুইটি মামলার ই তদন্ত চলছে বলে জানান তিনি।

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।