সেই রাতের বর্ণনা দিলেন ছাত্রকল্যাণ পরিচালক

২৯ অক্টোবর, ২০১৯ : ৬:০৭ অপরাহ্ণ ১৪৩

তেপান্তর রির্পোট: বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ কৌশল বিভাগের ছাত্র আবরার ফাহাদকে হত্যার ঘটনার রাতের বর্ণনা দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকল্যাণ পরিচালক ড. মিজানুর রহমান।

AL MADINA IT ad

ওই রাতের সিসি টিভি ফুটেজে আবরারের লাশের পাশে অবস্থান করার ভূমিকা নিয়ে শিক্ষার্থীরা প্রশ্ন তুললে তিনি তার সামনে ঘটে যাওয়া বিষয়ে বর্ণনা দেন।

ড. মিজানুর বুধবার দুপুরে বুয়েট শহীদ মিনারের পাশে আবরার হত্যার বিচারিসহ ১০ দফা দাবিতে চলা আন্দোলনে বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীদের সামনে আসেন।

সে সময় তিনি জানান, রোববার রাত পৌনে তিনটার দিকে শেরে বাংলা হলের প্রাধ্যক্ষ এবং সহকারী প্রাধ্যক্ষ তার বাসায় গিয়ে ডাকেন। বের হয়ে কারণ জানতে চাইলে তারা হলে মার্ডার হওয়ার বিষয়টি জানায়। পরে তিনি পোশাক পরিবর্তন করে তাদের নিয়ে হলে যান।

সিসি টিভি ফুটেজে ছিলেন জানিয়ে মিজানুর রহমান বলেন, তার পাশে সাদা পাঞ্জাবি পরিহিত ব্যক্তি ছিলেন ডাক্তার। তিনি পরীক্ষা নীরিক্ষা করে জানান আবরার মারা গেছে।  ওই সময় কয়েকজন ছেলে আবরারের লাশ সরিয়ে দেওয়ার জন্য ডাক্তারকে  চাপ দিতে থাকে।

কিন্তু ডাক্তার এ কাজ করতে অস্বীকৃতি জানান।  আমিও লাশ না সরাতে বলি। কারণ এটা পুলিশ কেস।  চাপ দেওয়াদের মধ্যে আমি শুধু রাসেলকে চিনি।  পরে ভিসিকে টেলিফোনে বিষয়টি জানাই। তিনি পুলিশকে খবর দিতে বললে আমরা চকবাজার থানা পুলিশকে জানাই।

মিজানুর রহমান আরো বলেন, পুলিশে খবর দেয়ার পর বিভিন্ন পর্যয়ের কর্মকর্তা আসেন। পরে পুলিশ সুরতহাল প্রতিবেদন শুরু করে।  এ সময় আমি দেখি তার শরীরে মারের দাগ স্পষ্ট আছে।  তার শরীরের সব অঙ্গ প্রত্যঙ্গ পরীক্ষা করার জন্য পরে লাশ ক্যান্টিনে নেওয়া হয়।  সুরতহাল যারা তৈরি করেন তারাই লাশের ছবি তোলেন।  সেখানে তখন  প্রাধ্যক্ষ, সহকারী প্রাধ্যক্ষও ছিলেন।

সুরতহাল শেষ করার জন্য লাশের বিস্তারিত তথ্য প্রয়োজন ছিল। এর মধ্যে কেউ একজন তার ফোন দিয়ে যায়।  আমি তাকে চিনি না। সিকিউরিটি গার্ড কললিস্ট থেকে তার পরিবারের নাম্বারে ফোন দিয়ে নাম, বাড়ির ঠিকানা জেনে নেয়। সুরতহাল শেষে কখন কীভারে লাশ হস্তান্তর করবে সে বিষয়ে আমাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়।  এর মধ্যে একজন সিনিয়র পুলিশ কর্মকর্তা আসেন। পরে লাশ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

  • 12
    Shares
ZamZam Graphics