আশুগঞ্জে মাদ্রাসা অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে ছাত্রীকে ধর্ষনের মামলা

১৯ আগস্ট, ২০২০ : ৮:০৮ অপরাহ্ণ ৩০৭২

তেপান্তর রিপোর্ট: ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মাদ্রাসা অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে তার এক ছাত্রীকে ধর্ষনের অভিযোগে আদালতে মামলা হয়েছে। সোমবার জেলার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এ ছাত্রীর মা নাছিমা বেগম বাদী হয়ে এই মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় আশুগঞ্জের তারুয়া জামিয়া ছোবহানীয়া মহিলা মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো: অলিউল্লা ছোবহানী(৩৫) এবং তার পিতাসহ ৫ জনকে আসামী করা হয়। আদালত মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেষ্টিগেশনকে।

মামলার এজাহারে বলা হয়, মো: অলিউল্লা ছোবহানী দু-মাস পূর্বে তারুয়া গ্রামে জামিয়া ছোবহানীয়া মহিলা মাদ্রাসাটি চালু করেন। মহিলা মাদ্রাসা হওয়া সত্বেও এর সঙ্গে নিজে থাকার জন্যে একটি ঘর নির্মান করেন। নাছিমার ৫ সন্তানের মধ্যে সর্বকনিষ্ট কন্যা খাদিজাতুল কোবরাকে(১৬) মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার পরই ওই মাদ্রাসায় ভর্তি করা হয়। এর কয়েকদিন পরই ওই ছাত্রীর ওপর লোলুপ দৃষ্টি পড়ে বিবাহিত এবং কয়েক সন্তানের জনক অলিউল্লাহ ছোবহানীর। নানা প্রলোভন দেখিয়ে কু-প্রস্তাব দিতে থাকে সে ছাত্রীকে। ভুল বুঝিয়ে মাদ্রাসা লাগোয়া থাকার ঘরে ডেকে নিয়ে হাত-পা টিপানো এবং শরীর ম্যাসাজ করতে বাধ্য করে ছাত্রীটিকে। তাকে এব্যাপারে মুখ বন্ধ রাখতে ভয়ভীতি দেখায়। গত ৯ই আগষ্ট অধ্যক্ষ মাদ্রাসা লাগোয়া থাকার ঘরে ডেকে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে ছাত্রীটিকে।

এ ঘটনার পর ওই ছাত্রী আত্বহত্যা করবে বলে জানালে অলিউল্লা ছোবহানী তাকে বিয়ের আশ্বাস দেয়। কয়েকটি ডায়েরীর পাতায় বিয়ের কথাবার্তা লিখে তাতে ছাত্রীর স্বাক্ষর নেয়। ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের কাজীপাড়ার মো: আশরাফুর রহমান,সদর উপজেলার হাবলাউচ্চ গ্রামের মো: কেফায়েত উল্লাহ ও আশুগঞ্জ যাত্রাপুর গ্রামের মো: আবুল বাশার আইয়ুবীকে ওই বিয়ের উকিল ও স্বাক্ষী বানিয়ে ডায়েরীর পাতায় তাদের স্বাক্ষর নিয়ে ছাত্রীকে বিয়ে হয়েছে বলে আশ্বস্থ করা হয়।

মামলায় এই ৩ উকিল-স্বাক্ষী এবং ঘটনা ধামা চাপা দিতে তৎপর অলিউল্লা ছোবহানীর পিতা আব্দুল ছোবহানকে আসামী করা হয়। অলিউল্লা ছোবহানীর বিরুদ্ধে বালাৎকারের অনেক অভিযোগ রয়েছে। এসব ঘটনায় তার কাছ থেকে সালিশ করে জরিমানাও আদায় করা হয়। মাদ্রাসার নামে টাকা উত্তোলন করে নিজের সহায়-সম্পদ গড়ার কাজে ব্যবহার করা ছাড়াও নানা অপকর্ম করে বেড়ানোর অভিযোগ করেন এলাকার মানুষ তার বিরুদ্ধে।

এবিষয়ে অভিযুক্ত অলিউল্লা ছোবহানী তেপান্তরকে জানান, বিষয়টি মীমাংসা করার জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আলেম-ওলামারা চেষ্টা করছেন। আর মেয়েকে আমি ধর্ষণ করিনি, তাকে আমি বিয়ে করেছি। সে আমার ২য় স্ত্রী। বিয়ের ৩ দিন পর মেয়ের পরিবারকে বিষয়টি জানিয়েছি। তারা তা মেনে না নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ করেছে। ৪ তারিখে বিয়ে করেছি তাহলে ৯ তারিখে ধর্ষণ মামলা হয় কি করে? এই ব্যক্তি আরো বলেন, অভিযোগকারীদের যেমন সাংবাদিক আছে তেমনই তারও সাংবাদিক আছে। উল্টাপাল্টা নিউজ করলে সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা করবেন বলেও জানান তিনি।

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।