সাংবাদিক বিজনকে হুমকির ঘটনায় জিডি

২৯ অক্টোবর, ২০১৯ : ৬:২৭ অপরাহ্ণ ২১১

তেপান্তর রিপোর্ট: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া পৌরসভার মেয়র ও উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক তাকজিল খলিফা কাজলের দূর্নীতির সংবাদ প্রকাশ করায় দৈনিক মানবজমিনের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার স্টাফ রিপোর্টার জাবেদ রহিম বিজনকে হত্যার হুমকি দেয়া হয়েছে। ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।

সোমবার রাতে সাংবাদিক জাবেদ রহিম বিজন ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানায় এই জিডি করেন। জিডিতে উল্লেখ করা হয়, হুমকি পেয়ে তিনি (বিজন) চরম নিরাপত্তাহীনতায় ও আতঙ্কে রয়েছেন।

গত ২৫ অক্টোবর মানবজমিন পত্রিকায় আখাউড়া পৌরসভার মেয়র ও যুবলীগ নেতা তাকজিল খলিফা কাজলকে নিয়ে “আখাউড়ায় খলিফা সাম্রাজ্য” শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়।
ওই সংবাদ প্রকাশের পরপর ফেসবুকে সাংবাদিক বিজনকে হত্যার হুমকি দেয়া হয়। সাংবাদিক বিজনের দায়েরকৃত জিডিতে বলা হয়, “কাজল ভাইয়ের সমর্থক” নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে গত ২৬ অক্টোবর রাতের কোন এক সময়ে ‘বিজনের হাতের দাম- এক কোটি, পা- পঞ্চাশ লক্ষ, হত্যা মামলাসহ দেয়া হবে দেড় কোটি লিখে একটি পোস্ট দেয়া হয়।

এছাড়া ‘বিজনকে যেখানে পাবে তাকে সাইজ যে করতে পারবে তাকে পুরস্কৃত করা হবে’ বলে পোস্ট দেয়া হয়। এ বিষয়টি জানার পর ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবের আইটি কক্ষের কম্পিউটারে বিজনসহ অন্যান্য সাংবাদিকরা হত্যার হুমকি দেয়ার পোস্টগুলো দেখতে পান। হুমকিদাতারা মেয়র কাজলের আত্মীয় ও রাজনৈতিক সহচর বলে প্রতীয়মান হওয়ার কথা জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, হত্যার হুমকির বিষয়টি আমরা তদন্ত করে দেখছি। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ ব্যাপারে আখাউড়া পৌরসভার মেয়র তাকজিল খলিফা কাজল বলেন, ফেইক আইডি থেকে কাউকে দিয়ে এটি করানো হয়েছে। ওই আইডির বিরুদ্ধে গত রোববার দুপুরে আখাউড়া উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. শাখাওয়াত হোসেন নয়ন আখাউড়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হচ্ছে। আইনমন্ত্রীর নেতৃত্বে আখাউড়া উপজেলা আওয়ামী লীগ ঐক্যবদ্ধ থাকার বিষয়টি সাবেক সংসদ সদস্য ও তাঁর অনুসারিরা কোনোভাবেই সহ্য করতে পারছেন না। তাই মিথ্যা তথ্য দিয়ে আমার বিরুদ্ধে সংবাদ করানো, ভুয়া আইডি থেকে অপপ্রচার একই সূত্রে গাঁথা। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেয়া হবে।

 

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।