বিজয়নগরে ডাক্তার স্বামী মৃত্যুর পর স্ত্রীই এখন ডাক্তার

২০ আগস্ট, ২০২০ : ৬:০৮ অপরাহ্ণ ৫৬১

শফিকুর রহমান শাহীন: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে এক হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক মৃত্যুর পর তার স্ত্রী এখন ডাক্তার বনে গেছেন। দিচ্ছেন প্রায় সকল রোগের ঔষধ। এই ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ দেওয়া হয়েছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার পাহাড়পুর ইউনিয়নের তোফায়েল নগর বাজারে ” খাজা হোমিও হল ” এর স্বত্ত্বাধিকারী ডাক্তার ইউনুস মিয়া দীর্ঘ প্রয় ৩০ বছর যাবৎ সুনামের সাথে চিকিৎসা সেবা দিয়ে আসছিলোন। জটিল ও কঠিন রোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি গত ১ বছর পূর্বে ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে তিনি দুই ছেলে, দুই মেয়ে ও দুই স্ত্রী রেখে যান।

মৃত্যুর চার বছর আগে, ডাক্তার ইউনুছ মিয়া পার্শ্ববর্তী মাধবপুর উপজেলার ধর্মঘর ইউনিয়নের সুলতানপুর গ্রামের নাজমা আক্তার ( নিঃসন্তানকে) বিয়ে করেন। তারপর থেকেই মূল পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে দ্বিতীয় স্ত্রী নাজমা আক্তারের সাহিত বসবাস শুরু করেন এবং সেখানেই তিনি ইন্তেকাল করেন।

ডাক্তারের মৃত্যুর পরই “খাজা হোমিও হলে”র রোগী দেখা ও চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়ে নেন নাজমা আক্তার। কিন্তু তার কোনো প্রাতিষ্ঠানিক সার্টিফিকেট, ডাক্তারি করার কোনো অভিজ্ঞতা, এমনকি ড্রাগ লাইসেন্সও নেই। কোন কিছু না থাকা সত্ত্বেও সে ডাক্তার সেজে রোগী দেখেন। এ নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। জনমনে প্রশ্ন উঠে সে কি ডাক্তার? যদি কোনো রোগী ক্ষতিগ্রস্ত হয় সে ক্ষেত্রে এর দায়ভার কে নেবে!

এ বিষয়ে নাজমা আক্তারের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি স্বীকার করেন যে ফার্মেসী চালানো এবং ডাক্তারী করার, কোন যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা তার নেই।

এ বিষয়ে সরেজমিনে স্থানীয় তুফায়েল নগর বাজার ব্যবসায়ী আশরাফুল ইসলাম ( অনিক), নুর মিয়া,তাজন মিয়া সহ আরো অনেকে জানান, ডাক্তারের ২য় স্ত্রী নাজমা আক্তার পূর্বে কোনদিন ডাক্তারি করতে দেখিনি। উনি ( ডাক্তার) মারা যাওয়ার পর নাজমা ডাক্তার সেজে ফার্মেসিতে রোগী দেখেন এবং চিকিৎসা করেন। মানুষকে ঔষধ দিতে দেখা যায়। তার প্রতিষ্ঠানিক কোন সার্টিফিকেট আছে কিনা আমাদের জানা নেই। পূর্ব কোন অভিজ্ঞতা নেই। ঔষধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় যদি কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এর দায়ভার কে নেবে?

এ বিষয়ে বিজয়নগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কে এম ইয়াসির আরাফাত এর সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ডাক্তার সেজে কেউ যেন প্রতারনার মাধ্যমে সমাজের ক্ষতি করতে না পারে এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন সর্বদা তৎপর রয়েছে।

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

  • 339
    Shares