আশুগঞ্জ যুবলীগের রাজনীতি লাগাম ছাড়া:এক সাথে দুই কমিটি সক্রিয়

২২ আগস্ট, ২০২০ : ১০:৩৩ পূর্বাহ্ণ ৮৭৯

আসাদুজ্জামান আসাদ: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে গত ১৫ই আগস্ট পাল্লা দিয়ে জাতীয় শোক দিবসের কর্মসূচি পালন করেছেন উপজেলা যুবলীগের দুই কমিটির নেতারা।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৪ সালের ১৯শে অক্টোবর চর-চারতলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. জিয়াউদ্দিন খন্দকারকে আহ্বায়ক করে উপজেলা যুবলীগের ৩০ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি করা হয়। ওই তারিখ থেকে পরবর্তী ৯০ দিনের জন্যে কমিটির অনুমোদন দেন কেন্দ্রীয় যুবলীগের সে সময়কার চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ওমর ফারুক চৌধুরী ও সাধারন সম্পাদক মো. হারুনুর রশিদ। এই সময়ের মধ্যে ওয়ার্ড, ইউনিয়নের সম্মেলন শেষ করে উপজেলা সম্মেলন করার দায়িত্ব দেয়া হয় আহ্বায়ক কমিটিকে। কিন্তু ৪ বছরেও এই কমিটি সম্মেলন করতে পারেনি। এই ব্যর্থতায় গত বছরের ২৪শে জুলাই জিয়াউদ্দিনের আহবায়ক কমিটি বিলুপ্ত করে আরেকটি আহ্বায়ক কমিটি করা হয়।

সাইফুর রহমান মনিকে আহ্বায়ক করে ৩৭ সদস্য বিশিষ্ট এই কমিটি ঘোষণা করে জেলা যুবলীগ। কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির (ওমর ফারুক ও হারুনুর রশিদ নেতৃত্বাধীন) নির্দেশে এই কমিটি গঠনের কথা উল্লেখ করে জেলা যুবলীগ সভাপতি শাহানুর ইসলাম ও সাধারন সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম ফেরদৌস স্বাক্ষরিত প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে পূর্বের আহবায়ক কমিটির বিরুদ্ধে ৪ বৎসরেও সম্মেলন করতে না পারার ব্যর্থতা  এবং সাংগঠনিক শৃঙ্খলাবিরোধী বিভিন্ন অভিযোগ আনা হয়। কিন্তু এই কমিটি ঘোষণার পর ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। কমিটির ৫ যুগ্ম আহবায়কের মধ্যে ৩ নম্বরে রাখা হয় উপজেলা বিএনপি’র প্রয়াত সাধারন সম্পাদক নাসের উদ্দিন আহমেদের ছেলে শেখ মো. দাউদ অপিকে। আহবায়ক মনির পিতা সৈয়দ সিকদার ছিলেন জাতীয় পার্টির সভাপতি। কমিটির সদস্য মনিরুজ্জমান খান, তারেক সিকদার, আরমান মুন্সি, রাব্বী সওদাগর, আরিয়ান সাবের চঞ্চল, সানি চৌধুরী, লোকমান হোসেন ও মোস্তফা বিএনপি এবং জাতীয় পার্টির রাজনৈতিক বলয়ের। তাদের কেউ কেউ সরাসরি ছাত্রদল বা বিএনপি’র রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। সাইফুর রহমান মনির নেতৃত্বাধীন এই কমিটিও সম্মেলন করতে ব্যর্থ হয়। বছর পেরুনোর পর মনির কমিটিকে গত ২২শে জুলাই মেয়াদ উত্তীর্ণ বলে বিলুপ্ত করে জেলা যুবলীগ।

একই সাথে ১৫ সদস্য বিশিষ্ট নতুন কার্যকরী কমিটি ঘোষনা করা হয়। এতে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক করা হয় আশুগঞ্জ সদর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মো. সালাহ উদ্দিন ও মো. শাহীন আলম বকশীকে। যুবলীগের কেন্দ্রীয় কার্যকরী সংসদের সাথে পরামর্শ  করে এই কমিটি দেয়া হয়েছে বলে প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে জানায় জেলা যুবলীগ। কিন্তু ওইদিন রাতেই আবার আরেক প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে সালাউদ্দিন-বকশীর কমিটি বিলুপ্ত করে আগের আহবায়ক কমিটি পুনর্বহাল করেন জেলা যুবলীগ নেতারা।
এক্ষেত্রেও তারা কেন্দ্রীয় কমিটির নির্দেশের কথা উল্লেখ করেন এবং ভুল তথ্যের ভিত্তিতে কমিটি দেয়ার জন্যে ক্ষমা চান। তবে বর্তমানে দুই আহবায়ক কমিটি সক্রিয় সেখানে।

ওমর ফারুক এবং হারুনুর রশিদের সময় হওয়া এ দুটি কমিটি নিয়ে নানা গল্পকাহিনী রয়েছে। লেনদেনের কথাও যুবলীগ নেতারাই জানান। একটি কমিটির আহবায়ক জিয়া উদ্দিন খন্দকার বলেন, তার কমিটি কেন্দ্র থেকে দেয়া। তার কোন ব্যর্থতাও নেই। ৩ মাসের মধ্যেই ওয়ার্ড ও ইউনিয়নের কাউন্সিলরের তালিকা করে  কেন্দ্রে জমা দিয়েছেন। ৯২ লাখ টাকার বিনিময়ে অন্য একটি আহবায়ক কমিটি দেয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। বলেন, তারা একটি ইউনিয়নে পর্যন্ত যেতে পারেনি। এই কমিটিতে ৫ জন যুগ্ম আহ্বায়ক। যা যুবলীগ গঠনতন্ত্রে বিরল। এরপর ওই কমিটি বাতিল করে সালাউদ্দিন ও বকশীর নেতৃত্বে আরেকটি কমিটি করে দেয় জেলা যুবলীগ। তিনি বলেন, আমার কমিটি হয়েছে সেন্ট্রাল থেকে। এটি ভাঙ্গাগড়ার ক্ষমতা জেলার নেই। এই কমিটিতে তাদের হস্তক্ষেপ করার কিছু নেই।

আরেক কমিটির আহবায়ক সাইফুর রহমান মনি বলেন- তার কমিটি সেন্ট্রাল এবং জেলার অনুমোদন নিয়েই হয়েছে। কেউ ব্যাক্তিগত ভাবে নিজেকে আহবায়ক দাবি করলে কি বলার আছে। গত বছর ১৫ই আগস্ট পালন করার সময় কেন্দ্র ও জেলার নেতারা পরিস্কার বলে গেছেন তাদের কোন এ্যাকটিভেটিজ থাকবে না। তাদের বিরুদ্ধে জেলা ও কেন্দ্রই ব্যবস্থা নিতে পারেন। তিনি বলেন, অপি ছাত্রলীগের রাজনীতি করেছে। আমাকে নিয়েও বিতর্ক করা হয়। আমার পিতা জাতীয় পার্টি করেছেন, সেটি আমার প্রতিদ্বন্ধিরা আমার বিরুদ্ধে ফলাও করে। তিনি কিন্তু এরআগে ছাত্রলীগ করেছেন। খোজ নিয়ে দেখেন জিয়া কোন দল করেছে। যারা আগে কোনদিন আওয়ামী লীগ, যুবলীগ করেনি, তারা এই দল করতে পারবে না এমন প্রশ্ন তোলা একেবারেই হাস্যকর। অন্য দলের রাজনীতিতে জড়িতদের যুবলীগের সদস্য করা হয়েছে তাও ঠিক নয়। বিরোধিতার জন্যে এই অপপ্রচার করছে তারা। আমার কমিটিতে ছাত্রলীগের সাবেক প্রেসিডেন্ট-সেক্রেটারি দু’জনই আছেন জয়েন্ট কনভেনার হিসেবে। তাছাড়া মেম্বার সিলেক্ট আমি একা করিনি, সক্রিয়ভাবে স্থানীয় রাজনীতিতে জড়িত মজিবুর, কবির ও মতিউরকে নিয়েই তা ঠিক করা হয়েছে। নানা সমস্যার কারণে তারা সম্মেলন করতে পারেননি বলেও জানান তিনি।

এবিষয়ে জেলা যুবলীগ সভাপতি শাহানুর ইসলাম এবং সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম ফেরদৌস জানান, এই দুটি কমিটি কেন্দ্র থেকেই দেয়া হয়েছে। এরমধ্যে জিয়াউদ্দিন খন্দকারের নেতৃত্বাধীন কমিটি তাদের অজান্তে কেন্দ্র থেকে সরাসরি দেয়া হয়। পরের আহবায়ক কমিটিটি কেন্দ্রের চাপে তারা দিয়েছেন। তাদের ঢাকায় ডেকে নিয়ে কমিটি দিতে বলা হয়। এখন এই দুই  কমিটিই পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি পালন করছে। বিষয়টি আমরা কেন্দ্রে জানিয়েছি। এই অবস্থার কারণেই জেলা থেকে আমরা একটি কমিটি দিয়েছিলাম।

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।