বাঞ্ছারামপুরে ভাই-বোন খুনের ঘটনায় মামাকে খুঁজছে পুলিশ

২৫ আগস্ট, ২০২০ : ৪:৫৫ অপরাহ্ণ ১২৩১

তেপান্তর রিপোর্ট: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে নিজ ঘরের খাটের নিচ থেকে শিফা আক্তার (১৪) ও কামরুল হাসান (১০) নামে দুই ভাই বোনের খুনের ঘটনায় তাদের মামা বাদল মিয়াকে খুঁজছে পুলিশ।

সোমবার (২৪ আগস্ট) রাতে উপজেলার সলিমাবাদ গ্রামের নিজ বাড়ির খাটের নিচ থেকে আপন দুই ভাইবোনের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহতরা ওই গ্রামের সৌদি প্রবাসী কামাল হোসেনের সন্তান। শিফা বাঞ্ছারামপুর বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী ও কামরুল হাসান সলিমাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র।

এ ঘটনার পর থেকেই নিহতদের মামা বাদল মিয়া পলাতক রয়েছেন। তাকে ধরতে রাতভর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। এদিকে মৃত্যুর ঘটনায় মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকাল পর্যন্ত নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ করা হয়নি। নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার সলিমাবাদ ইউনিয়নের সলিমাবাদ গ্রামের সৌদি প্রবাসী কামাল হোসেনের ছেলে কামরুল হাসান সোমবার বিকেল ৪টা থেকে নিখোঁজ হয়। তাকে খুঁজতে পরিবারের সদস্যরা এলাকায় মাইকিংও করে। সন্ধ্যার পর কামরুলের বোন শিফা আক্তারও নিখোঁজ হয়। পরে রাত ৮টার দিকে মা হাসিনা বেগম নিজের বাড়ির পৃথক দুটি কক্ষের খাটের নিচে রক্তাক্ত অবস্থায় তাদের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে প্রতিবেশীদের খবর দেন। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহতদের মা হাসিনা বেগম বলেন, ‘আমাদের কোনো শত্রু নেই। কে আমার ছেলে-মেয়েকে মেরে ফেলল?’

এদিকে কামাল হোসেনের পরিবারের চারজন সদস্য ছাড়াও নিহতদের মামা বাদল মিয়া একই বাড়িতে থাকতেন। ঘটনার পর থেকে বাদল মিয়া পলাতক রয়েছেন। তাকে আটক করার জন্য রাতভর পুলিশ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়েছে।

বাঞ্ছারামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সালাহউদ্দিন জানান, রক্তাক্ত অবস্থায় খাটের নিচ থেকে ভাই-বোনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের কীভাবে হত্যা করা হয়েছে সে বিষয়ে পরিবার থেকে কেউ কিছু বলতে পারছে না। তবে ওই বাড়িতে বাদল মিয়া নামে তাদের এক মামাও ছিলেন। এ ঘটনার পর থেকে তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তাকে আটকের জন্য বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালানো হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে তাকে আটক করতে পারলে অনেক কিছু জানা যাবে। পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো অভিযোগ করা হয়নি।

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।