২ আহবায়ক কমিটির কব্জায় আশুগঞ্জ যুবলীগ, পূর্নাঙ্গ কমিটি হয়নি ৬ বছরে,বেড়েছে কোন্দল

২৮ আগস্ট, ২০২০ : ৬:২৫ অপরাহ্ণ ৩০৭

তেপান্তর রিপোর্ট: দল গুছিয়ে সম্মেলন,কোনটাই হয়নি আশুগঞ্জ যুবলীগের। বরং যাদের এই দায়িত্ব দেয়া হয়েছে তারাই লিপ্ত হয়েছেন কোন্দল-কেওয়াজে। একের পর এক আহবায়ক কমিটি হয়েছে শুধু। ৩ মাস মেয়াদের দায়িত্ব নিয়ে বছরের পর বছর পার করেছেন তারা। ৬ বছর ধরে আহবায়ক কমিটিতে ভর করে চলছে এখানে যুবলীগের রাজনীতি। তাও একটি নয়, দুটি আহবায়ক কমিটি সক্রিয় ওই উপজেলাতে।
আহবায়ক কমিটিতে ভিন্ন দল-মতের লোকজনের সমাহার নিয়েও অভিযোগ আছে।

দলীয়সুত্রে জানা যায়,২০১৪ সালের ১৯শে অক্টোবর চর-চারতলা ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান মো: জিয়াউদ্দিন খন্দকারকে আহবায়ক করে উপজেলা যুবলীগের ৩০ সদস্য বিশিষ্ট আহবায়ক কমিটি হয়। ওই তারিখ থেকে পরবর্তী ৯০ দিনের জন্যে কমিটির অনুমোদন দেন কেন্দ্রীয় যুবলীগের সেসময়কার চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ওমর ফারুক চৌধুরী ও সাধারন সম্পাদক মো: হারুনুর রশিদ। এই সময়ের মধ্যে ওয়ার্ড,ইউনিয়নের সম্মেলন শেষ করে উপজেলা সম্মেলন করতে বলা হয় আহবায়ক কমিটিকে। কিন্তু ৪ বছরেও এই কমিটি সম্মেলন করতে পারেনি। এই ব্যর্থতায় গত বছরের ২৪শে জুলাই জিয়ার আহবায়ক কমিটি বিলুপ্ত করে আরেকটি আহবায়ক কমিটি করা হয়।

সাইফুর রহমান মনিকে আহবায়ক করে ৩৭ সদস্য বিশিষ্ট এই কমিটি ঘোষনা করে জেলা যুবলীগ। কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির(ওমর ফারুক ও হারুনুর রশিদ নেতৃত্বাধীন) নির্দেশে এই কমিটি গঠনের উল্লেখ করে জেলা যুবলীগ সভাপতি শাহানুর ইসলাম ও সাধারন সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম ফেরদৌস স্বাক্ষরিত প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে পূর্বের আহবায়ক কমিটির বিরুদ্ধে ৪ বৎসরেও সম্মেলন করতে না পারার ব্যর্থতা এবং সাংগঠনিক শৃঙ্খলাবিরোধী বিভিন্ন অভিযোগ আনা হয়। কিন্তু এই কমিটি ঘোষনার পর ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। অন্যান্য দলের লোকজনকে নিয়ে কমিটি গঠনের অভিযোগ উঠে।

কমিটির ৫ যুগ্ম আহবায়কের মধ্যে ৩ নম্বরে রাখা হয় উপজেলা বিএনপি’র প্রয়াত সাধারন সম্পাদক নাছির উদ্দিন আহমেদের ছেলে শেখ মো: দাউদ অপিকে। আহবায়ক মনির পিতা সৈয়দ সিকদার ছিলেন জাতীয় পার্টির সভাপতি। কমিটির সদস্য মনিরুজ্জমান খান,তারেক সিকদার,আরমান মুন্সি,রাব্বী সওদাগর,আরিয়ান সাবের চঞ্চল,সানি চৌধুরী,লোকমান হোসেন ও মোস্তফা বিএনপি এবং জাতীয় পার্টির রাজনৈতিক বলয়ের। তাদের কেউ কেউ সরাসরি ছাত্রদল বা বিএনপি’র রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। সাইফুর রহমান মনির নেতৃত্বাধীন এই কমিটিও সম্মেলন করতে ব্যর্থ হয়।

বছর পেরুনোর পর মনির কমিটিকে গত ২২শে জুলাই মেয়াদ উত্তীর্ণ বলে বিলুপ্ত করে জেলা যুবলীগ। একই সাথে ১৫ সদস্য বিশিষ্ট নতুন কার্যকরী কমিটি ঘোষনা করা হয়। এতে সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক করা হয় আশুগঞ্জ সদর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মো: সালাহ উদ্দিন ও মো: শাহীন আলম বকশীকে। যুবলীগের কেন্দ্রীয় কার্যকরী সংসদের সাথে পরামর্শ করে এই কমিটি দেয়া হয়েছে বলে প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে জানায় জেলা যুবলীগ। কিন্তু ওইদিন রাতেই আবার আরেক প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে সালাউদ্দিন-বকশীর কমিটি বিলুপ্ত করে আগের আহবায়ক কমিটি পূনর্বহাল করেন জেলা যুবলীগ নেতারা।

এক্ষেত্রেও তারা কেন্দ্রীয় কমিটির নির্দেশের উল্লেখ করেন এবং ভুল তথ্যের ভিত্তিতে কমিটি দেয়ার জন্যে ক্ষমা চান। তবে দুই আহবায়ক কমিটি সক্রিয় এখন সেখানে। ওমর ফারুক এবং হারুনুর রশিদের সময় হওয়া এ দুটি কমিটি নিয়ে নানা গল্পকাহিনী রয়েছে। লাখ লাখ টাকার বিনিময়ে আনা হয় একেকটি আহবায়ক কমিটি। যুবলীগ নেতাদের মুখে প্রকাশ্যেই রয়েছে এমন আলোচনা।
একটি কমিটির আহবায়ক জিয়া উদ্দিন খন্দকার বলেন,তার কমিটি কেন্দ্র থেকে দেয়া।

এই কমিটিতে হস্তক্ষেপ করার ক্ষমতা জেলা যুবলীগের নেই। তার কোন ব্যর্থতাও নেই। ৩ মাসের মধ্যেই ওয়ার্ড ও ইউনিয়নের কাউন্সিলরের তালিকা করে কেন্দ্রে জমা দিয়েছেন। ৯২ লাখ টাকার বিনিময়ে অন্য একটি আহবায়ক কমিটি দেয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। এই কমিটি একটি ইউনিয়নে পর্যন্ত যেতে পারেনি। এই কমিটিতে ৫জন যুগ্ম আহবায়ক। যা যুবলীগ গঠনতন্ত্রে বিরল।

আরেক কমিটির আহবায়ক সাইফুর রহমান মনি বলেন- তার কমিটি সেন্ট্রাল এবং জেলার অনুমোদন নিয়েই হয়েছে। কেউ ব্যাক্তিগত ভাবে নিজেকে আহবায়ক দাবী করলে কি বলার আছে। তিনি বলেন,আমাকে নিয়ে বিতর্ক করা হয়। আমার পিতা জাতীয় পার্টি করেছেন,সেটি আমার প্রতিদ্বন্ধিরা আমার বিরুদ্ধে ফলাও করে। তিনি কিন্তু এরআগে ছাত্রলীগ করেছেন। অপি ছাত্রলীগের রাজনীতি করেছে।

খোজ নিয়ে দেখেন জিয়া খন্দকার কোন দল করেছে। মোট কথা অন্য দলের রাজনীতিতে জড়িতদের যুবলীগের সদস্য করা হয়েছে তা ঠিক নয়। বিরোধীতার জন্যে এই অপপ্রচার করছে তারা। নানা সমস্যার কারনে তারা সম্মেলন করতে পারেননি বলেও জানান।

এবিষয়ে জেলা যুবলীগ সভাপতি শাহানুর ইসলাম এবং সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম ফেরদৌস জানান,এই দুটি কমিটি কেন্দ্র থেকেই দেয়া হয়েছে। এরমধ্যে জিয়াউদ্দিন খন্দকারের নেতৃত্বাধীন কমিটি তাদের অজান্তে কেন্দ্র থেকে সরাসরি দেয়া হয়।

পরের আহবায়ক কমিটিটি কেন্দ্রের চাপে তারা দিয়েছেন। তাদের ঢাকায় ডেকে নিয়ে কমিটি দিতে বলা হয়। এখন এই দুই কমিটিই সক্রিয়,পাল্টাপাল্টি কর্মসূচী পালন করছে। বিষয়টি আমরা কেন্দ্রে জানিয়েছি। এই অবস্থার কারনেই জেলা থেকে আমরা একটি কমিটি দিয়েছিলাম।

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

  • 126
    Shares