ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় রিক্সার লাইসেন্স: “হনুমান নাচ দেখায়,মরম আলী পয়সা পায়”

৩০ আগস্ট, ২০২০ : ১২:২২ অপরাহ্ণ ১২৫৭

তেপান্তর রিপোর্ট: ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে যানজট নিরসনের জন্য ব্যাটারিচালিত রিক্সা ও অটোরিক্সার (পঙ্খিরাজ) সংখ্যা কমিয়ে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভা। তাই ২০০০ ব্যাটারিচালিত রিক্সা ও ১০০০ অটোরিক্সা (পঙ্খিরাজ) এর লাইসেন্স দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় পৌরসভা। লাইসেন্সের মাধ্যমে রিক্সা চলাচল নিয়ন্ত্রন করে যানজন কমানোর পরিকল্পনা পৌরসভার। কিন্তু এই লাইসেন্স নিয়ে শুরু হয়েছে বাণিজ্য। রিক্সাওয়ালাদের অভিযোগ, পৌরসভা কার্যালয়ে গেলে লাইসেন্স করার ফরম দেওয়া হয়না। ফরম কিনতে হয় বিভিন্ন নেতাদের কাছ থেকে। ১০ টাকার ফরম কিনতে হয়ে ২৫০০ থেকে ৩০০০ টাকা করে, ক্ষেত্র বিশেষ আরো বেশি। এর মধ্যে রিক্সা নেই এমন অনেক লোকদের লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে স্বজনপ্রীতি দেখিয়ে। সেই লাইসেন্সের মালিক আবার তার লাইসেন্স ভাড়া দিচ্ছে প্রকৃত রিক্সাওয়ালাদের কাছে। এতে করে প্রকৃত রিক্সাওয়ালারা লাইসেন্স পাওয়া থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। আর বসে থেকে লাইসেন্সের ভাড়া দিয়ে নিজের পকেট ভারি করছেন এক শ্রেণীর লোক।

তেপান্তরের অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ২২ জুন রিক্সার লাইসেন্সের আবেদন ফরম সংগ্রহ করার জন্য শহরে মাইকিং করা হয়। কিন্তু যেদিন বিকেলে মাইকিং করা হয় সেদিনই ছিল ফরম সংগ্রহ করার শেষ দিন, এবং ২৫ জুন ছিল জমা দেওয়ার শেষ দিন। তাই রিক্সাওয়ালারা ফরম সংগ্রহ করতে পারেনি। পরে পৌরসভা কার্যালয়ে ফরমের জন্য গেলে তাদের ধুর ধুর করে তারিয়ে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে সেই ফরম চলে গেলো কিছু রাজনৈতিক নেতার হাতে। এর মধ্যে জেলা শ্রমিকলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফ খান আশা এবং জেলা আওয়ামীলীগের এক শীর্ষ নেতার নাম সবচেয়ে বেশি আলোচিত। তারা মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে রিক্সাওয়ালাদের কাছে ফরম বিক্রি করেছেন বলে রিক্সাওয়ালারা জানিয়েছেন।

রিক্সাওয়ালারা তেপান্তরের কাছে বলেছেন, নেতাদের কাছ থেকে অনেক দাম দিয়ে লাইসেন্সের ফরম কিনতে হয়েছে। নেতারা বলেছেন, যদি এসব কথা বাইরে কারো কাছে বলা হয় তাহলে তোমার সমস্যা হবে। এজন্য রিক্সাওয়ালাদের বেশিরভাগই এবিষয়ে মুখ খুলতে রাজি হয়না।

শহরের বাগানবাড়ি এলাকার রিক্সাওয়ালা নজরুল ইসলাম তেপান্তরকে জানিয়েছেন, তিনি তার রিক্সা চালানোর জন্য ভাস্কর পাল নামে একজনের লাইসেন্স ২৫০০ টাকায় ভাড়া নিয়েছেন। ভাস্কর পালের রিক্সা না থাকায় তিনি লাইসেন্স ভাড়া খাটাচ্ছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেকজন রিক্সাওয়ালা জানান, এমন অনেক ব্যক্তি আছেন যাদের গাড়ি নাই গ্যারেজও নাই তাদেরকে বন্ধুত্বের খাতিরে লাইসেন্স দিয়েছেন নেতারা। সেইসব ব্যক্তিরা লাইসেন্স পেয়ে ভাড়া দিচ্ছেন।

শহরের পীরবাড়ি এলাকার রিক্সাওয়ালা ফারুক বলেছেন, শুনেছি পৌরসভাতে গেলে ফরম না দিয়ে উল্টো খারাপ আচরন করে। তাই যাইনা। নিজস্ব লোক থাকলে হয়ত নেতাদের কাছ থেকে ফরম কিনতে পারতাম। আমার যেহেতু ওরকম লোক নেই তাই আমার লাইসেন্স পাওয়া হবেনা।

এবিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার সচিবের সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তা সম্ভব হয়নি।

তবে জেলা শ্রমিকলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফ খান আশা তেপান্তরকে বলেছেন, এখানে কোন অনিয়ম হয়নি। ফরমের মূল্য ১০ টাকা। এর বেশি কোন টাকা নেওয়া হয়নি। যদি কেউ নিয়ে থাকে তাহলে খোজ নিয়ে দেখা হবে। যেহেতু রিক্সার সংখ্যা অনেক বেশি তাই সবাইকে দেওয়াতো সম্ভব না। এখানে যাচাই-বাছাই করে যারা পাওয়ার যোগ্য তারাই ফরম পেয়েছে।
তবে তিনি এটাও বলেছেন, কোন ব্যক্তির রিক্সা আছে নাকি নেই সেটা দেখার দায়ীত্ব ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার।

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।