ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিশ্বরোডে ভাড়া ঘরে চলছে হাইওয়ে থানার কার্যক্রম

৩০ অক্টোবর, ২০১৯ : ৫:৫২ অপরাহ্ণ ৮৪৩

মোঃ আব্দুল হান্নান: ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ঢাকা- সিলেট মহাসড়কের বিশ্বরোডের হাটিহাতা হাইওয়ে পুলিশ ফাড়ির কার্যক্রম চলছে ভারা করা ঘরে। বিশ্বরোডে দুইটি মহাসড়কে প্রায় ৮০ কিঃমিঃ দীর্ঘতম রাস্তার ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব খাটিহাতা হাইওয়ে পুলিশের। পর্যাপ্ত জনবল থাকলেও জায়গার সংকটে ধুঁকছে থানার কার্যক্রম। মহা সড়কে নির্বিঘ্নে যানচলাচল ও যাত্রীদের জানমালের নিরাপত্তা,শৃংখলার নিশ্চিত করা এবং রাষ্ট্রের গুরুত্বপুর্ণ ব্যক্তিদের (ভিআইপি) চলাচলের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন সবই হাইওয়ে পুলিশের দায়ীত্ব।

ওই ৮০ কিঃমি মহাসড়কের এসব গুরুত্বপুর্ণ কাজের দায়িত্ব সরাইল বিশ্বরোড মোড়ে অবস্থিত খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানা পুলিশের। ১৯৯৪ সালে এখানে প্রতিষ্ঠিত হয় পুলিশ ফাঁড়ি। তখন এটি জেলা পুলিশের নিয়ন্ত্রণে ছিল। ২০০৫ সালে হাইওয়ে পুলিশ গঠিত হওয়ার পর এটি হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়িতে রুপান্তরিত হয়। ২০১৫ সালের ডিসেম্বর মাসে হাইওয়ে থানায় উন্নীত হয়ে গাজীপুর অঞ্চলের অন্তর্ভূক্ত হয়। বর্তমানে এখানে জনবলের কোন কমতি নেই। জায়গা, যানবাহন সংকট সহ রয়েছে কয়েকটি সমস্যা। চার বৎসর আগে থানায় উন্নীত হলেও এখনও কার্যক্রম চলছে ভাড়া ঘরে। ৮ ফুট প্রস্থ ও ১০ ফুট দৈর্ঘ্যের ১১টি দোকান ঘর ও ১টি টিন শেডে মাসিক ভাড়া ২১ হাজার ৫৯৩ টাকা। এত অল্প জায়গাতেই চলে ৯ জন কর্মকর্তা সহ ৪০ জন পুলিশ সদস্যের দাপ্তরিক কাজ ও বসবাস। একটি ভাড়া করা দোকান ঘরে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) কার্যালয়। ১টি ঘরে বসেন দুজন এস,আই ও একজন সার্জেন্ট। এ,এস আইদের জন্য বসার কক্ষ বরাদ্দ নাই। সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে এ সমস্ত ঘরে নেই পর্যাপ্ত আলো বাতাস। সেই সরকারী বাবুর্চি বা ভাল মানের রান্নাঘর। অফিস ও থাকা ঘরের পাশেই রান্না ঘর। গ্যাসের ব্যবস্থা না থাকায় লাকড়ী দিয়ে চলে রান্না বান্নার কাজ। ধোঁয়া ছড়িয়ে পরে সমস্ত থানায়। অফিসিয়াল নথি পত্র রাখার নেই পর্যাপ্ত আসবাবপত্র। জব্দ মাদকদ্রব্য বা চোরাচালানি পন্য রাখার জন্য নেই কোন মালখানা। অপরাধীদের আটক রাখার জন্য নেই কোন হাজত খানা। মাঝে মধ্যে সড়কে দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ঘটে। লাশ রাখার নেই কোন জায়গা। ভারী যানবাহন উদ্ধারের জন্য নেই শক্তিশালী রেকার। দুর্ঘটনাপতিত যান বাহন থানায় এনে রাখারও নেই পর্যাপ্ত জায়গা। সেইগুলো রাখতে হয় মহাসড়কের আশপাশের বিভিন্ন স্থানে। টহলের জন্য রয়েছে পুরানো একটি পিকআপ। খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানার দাযিত্ব থানা ওসি মোঃ মাইনুল ইসলাম বলেন থানার জন্য নিজস্ব ভবন নির্মাণের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। অন্যান্য সমস্যাগুলো উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ অবহিত রয়েছে। গাজীপুর অঞ্চলের হাইওয়ে থানা পুলিশের এসপি সূত্রে জানা গেছে প্রায় ৪ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত থানা ভবনটি জুনে হস্তান্তরের কথা রয়েছে। কিন্তু জানা গেছে ঠিকাদারের অবহেলার কারণে ধীর গতিতে চলছে থানা ভবনের কাজ।

এ বিষয়ে হাইওয়ে পুলিশের গাজীপুর অঞ্চলের পুলিশ সুপার (এসপি) আলী আহমেদ খাঁন, থানার জন্য নতুন অবকাঠামোর কাজ চলছে বলে জানান। তিনি বলেন আগামী জুন-জুলাই মাসের মধ্যে থানাটি তার নিজস্ব নতুন ভবনে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে দাবী করেন তিনি।

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।