নারীকে রাস্তায় দৌড়িয়ে-পিটিয়ে উল্টো নারীকেই মামলা দিলেন উকিল

৬ সেপ্টেম্বর, ২০২০ : ১:৩১ অপরাহ্ণ ৩৩৩২

তেপান্তর রিপোর্ট: ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের উত্তর মৌড়াইলে (দক্ষিন সরকার পাড়া) চলাচলের রাস্তার আগাছা পরিষ্কার করাকে কেন্দ্র করে কথা কাটাকাটি, মারধোর ও মামলার ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগ উঠেছে, মামলার বাদি উকিল হওয়ার সুবাধে আইনশৃঙ্খলা বিঘ্ন করার অভিযোগ এনে দ্রুত বিচার আইনের ৪/৫ ধারায় মিথ্যা মামলা ঠুকে দিয়েছেন এক নারীর বিরুদ্ধে। গত ১৫ আগষ্ট এই মারামারির ঘটনা ঘটেছে। আর মামলা করা হয়েছে ঘটনার ৩ দিন পর ১৮ আগষ্ট।

অনুসন্ধান করে জানা গেছে, এডভোকেট বদরুল আলম ও আকলিমা আক্তার শহরের উত্তর মৌড়াইল (দক্ষিন সরকার পাড়া) এলাকার বাসিন্দা ও একে অপরের প্রতিবেশি। ৩০ বছর আগে বদরুল আলমের বাড়ির পিছনে আকলিমার বাবা ২ শতক জায়গা কিনেন এবং সেখানে ঘর তোলে রাখেন তারা। এডভোকেট বদরুল আলম ও আকলিমাদের বাড়িতে যাওয়ার জন্য ৩ ফুটের একটি চলাচলের রাস্তা রয়েছে সেখানে। সেই রাস্তার পাশেই নিজের জায়গায় বদরুল বিভিন্ন গাছ লাগিয়ে রেখেছেন। কিন্তু সেই গাছ বড় হয়ে ৩ ফুটের চলাচলের রাস্তায় এসে পড়ে থাকে। গত ১৫ আগষ্ট সেই আগাছা পরিষ্কার করতে গিয়েছিল আকলিমা। এই নিয়ে বদরুল ও আকলিমার মধ্যে কথা কাটাকাটি ও গালিগালাজ হয়। এক পর্যায়ে বদরুল,তার ছেলে ও বদরুলের অনুসারীরা আকলিমাকে মারধোর শুরু করেন বলে আকলিমা জানান। এছাড়াও আকলিমাকে রাস্তায় এক লোক দৌড়িয়ে পিটাচ্ছে এমন একটি ভিডিও তেপান্তরের হাতে আছে।

এই ঘটনার ৩ দিন পর এডভোকেট বদরুল নিজে বাদি হয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এর আদালতে আকলিমাকে ১ নং আসামী করে ও তার স্বামী শাহ আলমকে ২নং আসামী করে তাদের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। এই মামলাটি কোন সাধারণ মামলা নয়। সেটি হল আইনশৃঙ্খলা বিঘ্ন করার অভিযোগ এনে দ্রুত বিচার আইনের ৪/৫ ধারায় মামলা।

এঘটনার পর আকলিমার স্বামী শাহ আলম মামলা থেকে অব্যাহতি ও ন্যায় বিচার পাওয়ার জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আইনজীবী সমিতি বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন। সেই আবেদনের অনুলিপি দেওয়া হয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক,পুলিশ সুপার ও সদর থানার ওসি বারবর। শাহ আলম বিজয়নগর উপজেলার বিষ্ণুপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক।

মামলার পর পুলিশি তদন্তে বাদি বদরুলের সব অভিযোগ মিথ্যা বলে প্রমানিত হয়। পুলিশের চার্জশিটে মামলার আসামীরদেরকে মামলার দায় হতে অব্যাহতি দেওয়ার জন্য আবেদন জানানো হয়।

মামলার এজাহারে বলা হয়, আকলিমা রড ও রাম দা দিয়ে বাদি বদরুল ও সাক্ষিকে পিটিয়েছে ও হুমকি দিয়েছে। কিন্তু পুলিশের চার্জশিটে এই অভিযোগ মিথ্যা প্রমান হয়েছে। এমন কোন ঘটনা ঘটেনি তা চার্জশিটে লিখা হয়েছে।

তারপর মামলায় আকলিমার স্বামী শাহ আলমকে করা হয়েছে ২নং আসামী। কিন্তু পুলিশ তদন্ত করে ও শাহ আলমের মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে সিডিআর এর মাধ্যমে কল লিষ্ট বের করে দেখা গেছে ঘটনার সময় শাহ আলম তার গ্রামের বাড়ি বিজয়নগর উপজেলার জামালপুর (নূরপুর) গ্রামে অবস্থান করছিল। এবিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তা চার্জশিটে লিখেছেন, বাদির অভিযোগ ও আসামী শাহ আলমের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরের কল লিষ্ট পরষ্পর বিরুধী। ২নং আসামী ঘটনা সংগঠিত করেছে বলে মামলায় উল্ল্যেখ করলেও আদৌ শাহ আলম এই এলাকাতেই ছিলেন না।

ওই চার্জশিটে এটাও বলা হয়েছে যে, সদর হাসপাতালের এমসি’র(মেডিক্যাল সার্টিফিকেট) তথ্য অনুযায়ী ভুতা কোন কিছুর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে বদরুলের শরীরে।

চার্জশিটে বলা হয়েছে, কাঠের ঠুকরা দিয়া বাদি ও সাক্ষী আব্দুর রাজ্জাককে বারি দিলেও আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) আইনের সংশোধন ২০১৯ এর ৪/৫ ধারার অপরাধের কোন ঘটনা সংঘঠিত হয়নি।

এডভোকেট বদরুল আলম

এবিষয়ে মামলার ১নং আসামী ও ভুক্তভোগী আকলিমা আক্তার জানান, এডভোকেট বদরুল আলম একজন মামলাবাজ। সে তার আপন ভাইয়েরর জায়গা দখল করার জন্য ভাইয়ের বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছে। এছাড়াও বদরুলের কয়েক প্রতিবেশির বিরুদ্ধেও মামলা দিয়েছে বদরুল। সে একজন মামলাবাজ। সে নিজে উকিল হওয়ার কারনে পান থেকে চুন খসার ঘটনা ঘটলেই যার তার নামে মামলা দিয়ে দেয়। উকিলাতির ক্ষমতার অপব্যবহার করে সে। আমাকে বদরুল ও তার ছেলে রাস্তায় দৌড়িয়ে পিটিয়েছে। এলাকাবাসী তার সাক্ষী।

এ বিষয়ে এডভোকেট বদরুল আলম তেপান্তরকে বলেন, চার্জশিটের ক্ষেত্রে পুলিশ আমাকে ইয়ে করেছে, কিন্তু কোর্ট আমাকে ইয়ে করবেনা। কিন্তু এই “ইয়ে” মানে কি সেটা তিনি বলেননি।
বদরুল বলেছেন, এই চার্জশিটের বিরুদ্ধে তিনি কোর্টে নারাজি দিবেন। এবং আসামীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা বের করবেন।

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।