ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বাড়ছে খুন, ধর্ষণ ও শিশু নিখোজের ঘটনা

১২ সেপ্টেম্বর, ২০২০ : ৩:৫৫ অপরাহ্ণ ৬৩৪

তেপান্তর রিপোর্ট: সম্প্রতি সময়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় খুন,ধর্ষণ ও শিশু অপহরন বা নিখোজের ঘটনা উদ্বেগজক ভাবে বাড়ছে। গত ২ মাসে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় অন্তত ১৩ টি খুনের ঘটনা ঘটেছে। ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে ৭ টি ও শিশু অপহরন এবং নিখোজের ঘটনা ঘটেছে ৩টি।

খুন:

গত ৭ জুলাই বাঞ্ছারামপুরের পাড়াতলি গ্রামে টাকার জন্য ছেলের হাতে হুমায়ুন কবীর নামে ৭০ বছর বয়সী এক বাবা খুন হয়েছেন। অভিযুক্ত ছেলের নাম রাজীব।

গত ১৪ জুলাই বিজয়নগরে কামালমুড়া গ্রামে নার্গিস (২২) নামে এক গৃহবধুকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। যৌতুকের জন্য তাকে খুন করা হয়েছে বলে মেয়ের বাবার বাড়ির লোকদের অভিযোগ। এ ঘটনায় তাৎকালিক ভাবে নার্গিসের শ্বশুর-শাশুরি পলাতক ছিল।

২৪ জুলাই নাসিরনগর উপজেলার তুল্লাপাড়া গ্রামে অঞ্জনা খাতুন (২৭) নামে এক গৃহবধু খুন হোন। অভিযোগ, তার স্বামী গাউস মিয়া পিটিয়ে ও মুখে বিষ ঢেলে হত্যা করা হয় অঞ্জনাকে।

৬ আগষ্ট নাসিরনগরের ধরমন্ডল গ্রামে হাদিস মিয়া (২৮) নামে এক ব্যক্তি খুন হোন। গাড়ির সাইড দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই দলের সংঘর্ষে এই ঘটনা ঘটে।

১০ আগষ্ট কসবার বর্ণি গ্রামে উবায়দুল হক নিরব নামে এক যুবক খুন হোন। বাড়ির সীমানা নিয়ে আপন চাচাতো ভাই রোমান ও সুমন তাকে খুন করেছে বলে অভিযোগ উঠে।

২৫ আগষ্ট বাঞ্ছারামপুর উপজেলার সলিমাবাদ গ্রামে শিফা (১৪) ও কামরুল ইসলাম (১০) নামে দুই ভাই-বোন খুন হয়। তাদের আপন মামা বাদল তাদের খুন করেন।

৩০ আগষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদরের ভাটপাড়া গ্রামে হুজাইফা নামে ৫ মাস বয়সী এক শিশুকে ভোরের অন্ধকারে পুকুরের পানিতে ফেলে হত্যা করা হয়। অভিযোগের তীর সামিনা বেগম নামে শিশুটির বাবার প্রাক্তন প্রেমিকার দিকে।

৩১ আগষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদরের বিশ্বরোডে তারেক মিয়া নামে ১৬ বছরের এক তরুন ছুরিকাঘাতে খুন হয়। ফল বিক্রির দর-দাম নিয়ে পার্শবর্তী ব্যবসায়ী জাকির এই খুন করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

৩১ আগষ্ট কসবার ভোল্লাবাগি গ্রামে জামাল মিয়া (৩০) নামে এক ব্যক্তি খুন হয়েছেন। পূর্ব শত্রুতার জেরে প্রতিবেশি আজিজুল মাষ্টার দেশীয় অস্র-শস্র ও দলবল নিয়ে জামালকে খুন করেছে বলে অভিযোগ।

১০ সেপ্টেম্বর বিজয়নগরের চানপুর গ্রামে সায়মা আক্তার (২৩) নামে এক গৃহবধু খুন হয়েছেন। এসময় তিনি অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। স্বামী সাইফুল ইসলাম যৌতুকের জন্য খুন করেছেন বলে স্ত্রীর পরিবারের অভিযোগ।

১১ সেপ্টেম্বর আশুগঞ্জের মৈশাইর গ্রামে ছাদির মিয়া (৪০) নামে এক ব্যক্তি খুন হয়েছেন। মাছ দরার ফাদ পাতাকে কেন্দ্র করে তারই আপন ভাতিজা ইয়াসিন দলবল নিয়ে চাচা জামালকে কুপিয়ে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ।

১১ সেপ্টেম্বর কসবার চারুয়া গ্রামে কবির মিয়া (৫২) নামে এক ব্যক্তি খুন হয়েছেন। পাওনা টাকা চাইতে গিয়ে তিনি খুন হোন বলে জানা গেছে। এঘটনায় হামলাকারী সেলিম ও তার স্ত্রী পারভিনকে আটক করেছে পুলিশ।

ধর্ষণ:

গত ২ জুলাই আখাউড়ার মোগড়া হাই স্কুলের সপ্তম শ্রেণীর ছাত্রী দিয়া আক্তার (ছদ্মনাম) মোগড়া হাই স্কুলের শিক্ষক আশরাফুল আলম হিরনের বাসায় প্রাইভেট পড়তে যায় সে। প্রাইভেট শেষে আশরাফুল আলম হিরন মাষ্টার তাকে কৌশলে অন্য একটি রুমে নিয়ে ধর্ষণ করেন। এ ঘটনায় মামলা হওয়ার পর অভিযুক্ত শিক্ষকের জেল হয়।

১৫ জুলাই আখাউড়ার হীরাপুর গ্রামে ৭ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে। অভিযুক্ত (৭০) বছর বয়সী মতিউর রহমান মুক্তা। এঘটনায় ১৮ আগষ্ট মামলা হয়েছে।

গত ৯ আগষ্ট আশুগঞ্জের তারুয়া গ্রামে খাদিজাতুল কোবরা নামে এক মাদ্রাসা ছাত্রীকে তার মাদ্রাসারই শিক্ষক ধর্ষণ করেছে বল অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত শিক্ষকের নাম অলিউল্লাহ সোবহানী। এই ঘটনায় মামলা হয়েছে।

১৮ আগষ্ট নাসিরগরের কচুয়া পাড়া গ্রামে ১৫ বছরের এক কিশোরী ধর্ষণ হয়েছেন। ধর্ষকের নাম আইকুল। রাতে মেয়েটি তার খালার বাড়িতে যাওয়ার সময় এই ঘটনা ঘটে।

১৮ আগষ্ট কসবার সৈয়দাবাদে ১১ বছরের এক ছেলে শিশু বলৎকারের শিকার হয়েছে। ছুটিতে থাকা প্রবাসী শরীফ এই কান্ড ঘটিয়েছে বলে অভিযোগ আছে।

২৫ আগষ্ট নাসিরনগরের বুড়িশ্বর দক্ষিণ গ্রামে আলেমা বেগম নামে এক গৃহবধুকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে। অভিযুক্তের নাম নুরু মিয়া। তখন ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে পরিবারের ৬ জনকে পিটিয়ে আহত করে চলে যায়।

গত ৪ সেপ্টেম্বর নাসিরনগরের ভুবন গ্রামে ১ম শেণীর এক শিক্ষার্থী ধর্ষণের শিকার হয়েছে। ভুবন গ্রামের কালা মিয়ার ছেলে মেরাজ (১৫) এই ধর্ষণ করেছে বলে থানায় মামলা হয়েছে।

শিশু অপহরন ও নিখোজ:

১ সেপ্টেম্বর নবীনগরের কালঘড়া গ্রাম থেকে মাহি (১৪) নামে এক শিশু নিখোজ হয়। এই ঘটনার ৫ দিন পর চট্রগ্রাম থেকে তাকে উদ্ধার করে পুলিশ।

একই সময়ে নিখোজ হয় নবীনগরের বাঙ্গরা বাজার এলাকার স্কুল ছাত্র ইসহাক। তাকেও উদ্ধার করা হয় চট্রগ্রাম থেকেই।

এবং গত ৬ সেপ্টেম্বর আখাউড়ার দেবগ্রাম থেকে অপহরন হয় সিফাত মোল্লা নামে ২ বছর বয়সী এক শিশু। এর ২ দিন পর নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলা থেকে সিফাতকে উদ্ধার করা হয়। এঘটনায় ২ জনকে আটক করা হয়। অপহরনের পর তারা মুক্তিপন দাবী করেছিল।

সাধারণ মানুষ মনে করছেন, মানুষের সচেতনতা ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর বিচক্ষণ ভূমিকা থাকলে আইনশৃঙ্খলার এত অবনতি হতো না।

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

  • 581
    Shares