সৌদির ত্রাস, প্রবাসীদের আতঙ্ক কুমিল্লার রফিক

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২০ : ৫:০২ অপরাহ্ণ ২০৩৭

তেপান্তর রিপোর্ট: “রফিকুল ইসলাম” নামটি যেন সৌদি প্রবাসী বাংলাদেশীদের জন্য এক আতঙ্কের নাম। শত শত প্রবাসীর জীবন ধ্বংস করে এই রফিক এখন হয়ে উঠেছে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের “টপ টেরর”। প্রবাসীদের অপহরন,মাদক,জুয়া ও হুন্ডি ব্যবসাসহ এমন কোন কু-কর্ম নেই যা সে করেনা। বিভিন্ন অপকর্মের জন্য রফিক সৌদি আরবে ৩ বার গ্রেফতার হয়ে জেলে গেলেও অদৃশ্য শক্তির বলে সে বার বারই বেড়িয়ে আসে। বের হয়েই আবার লিপ্ত হয় নানা রকম অপকর্মে। রিয়াদে র্দীঘদিন যাবৎ এমন অসৎ একটি চক্র বিভিন্ন অপরাধ করে আসলেও সম্প্রতি রফিকের নামটি সবার উপরে চলে এসেছে। রফিকের বয়স আনুমানিক ৩৫। তার দেশের বাড়ি কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর উপজেলার ধামঘর গ্রামে। তার বাবার নাম বারেক সরকার। তবে ভুক্তভুগীরা বলছেন, সৌদি পুলিশের এক শ্রেনীর অসৎ কর্মকর্তার যোগসাজসে রফিক এসব অপকর্ম করে সহজেই বুক ফুলিয়ে চলতে পারে।

তেপান্তরের অনুসন্ধানে জানা যায়, সৌদিতে বসবাসরত বাঙ্গালীদের মধ্যে যারা সচ্ছল বা ব্যাবসায়ী তাদেরকে টার্গেট করে রফিক। প্রথমে তাদের কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবী করে রফিক। কথা মতো টাকা না দিলেই ওই প্রবাসীর জীবনে নেমে আসে অন্ধকার। অপহরন করে নিয়ে গিয়ে নানা রকম শারীরিক অত্যাচার করা হয়। চাওয়া হয় মুক্তিপন। দাবী অনুযায়ী টাকা না দেওয়া পর্যন্ত নির্মম অত্যাচার করা হয়। টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে ওই প্রবাসীকে মিথ্যা মামলা দিয়ে পুলিশের মাধ্যমে দীর্ঘদিন জেল খাটানো হয় অথবা দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। ভুক্তভুগীরা বলছেন, রফিকের এমন অন্যায় অত্যাচারের শিকার হয়ে সর্বহারা হয়েছেন অন্তত কয়েকশ প্রবাসী।

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার গাইটুলি গ্রামের বাদশা মিয়ার ছেলে ইকবাল মিয়া জানান,তিনি আগে সৌদিতে থাকতেন,সেখাতে তার মোবাইল ও ইন্টারনেটের সরঞ্জামের দোকান ছিল। তখন রফিক ইকবালের কাছে ৬০,০০০ রিয়াল চাদা দাবী করে। কথামতো চাদা না দেওয়ায় তাকে পুলিশ দিয়ে আটক করিয়ে মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হেয়েছে। দেশে পাঠিয়ে ইকবালের দোকানের প্রায় ৩/৪ কোটি টাকার মালামাল নিয়ে যায় রফিক। অবশ্য এই মালামাল সৌদির পুলিশের সাথে আতাত করে অর্ধেক অর্ধেক ভাগ করে নিয়ে নেয় তারা। বাঙ্গালীদের কোন কোন দোকানের মালিকদের অপহরন করা হবে সেই দোকানগুলোকে আঙ্গুল দিয়ে ইশারা করে আগে থেকেই পুলিশকে দেখিয়ে দেয় রফিক। এই ইশারা দিয়ে দেখিয়ে দেওয়ার একটি ভিডিও তেপান্তরের হাতে আছে।

ইকবালের ছোট ভাই লোকমানও একই ভাবে রফিকের নির্মমতার শিকার হয়েছে। লোকমানকে কিছুদিন আগে অপহরন করে নিয়ে যায় রফিক। আস্তানায় নিয়ে লোকমানকে মারধোর করে। এই মারধোরের ঘটনার একটি ভিডিও তেপান্তরের হাতে আছে। ইকবাল জানান, ২০,০০০ রিয়ালের বিনিময়ে লোকমানকে মুক্তি দেয় রফিক।

২০,০০০ রিয়াল মুক্তিপনের জন্য মারধোর করা হচ্ছে মুরাদনগরের লোকমানকে।

লক্ষিপুর জেলার রামগঞ্জ উপজেলার ফতেহপুর গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে আব্দুল আজিজ তেপান্তরকে বলেন, সৌদিতে রফিকের সাথে বাদশা নামেও একজন আছে। এই দুজন মিলেই সেখানে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। আজিজ জানান, শুধু মাত্র তার এলাকারই এমন ২০/২৫ জন প্রবাসী রফিরেক বিষাক্ত ছোবলে আজ সর্বশান্ত। তিনি জানান, সৌদির রাজধাণী রিয়াদ থেকে ২০০/৩০০ কিলোমিটার দূরে আল হাসা শহরে আজিজ ব্যবসা করতেন। ব্যবসা ভালোই চলছিল। এর মধ্যে একদিন রফিক বেশ মোটা অঙ্কের টাকা চেয়ে বসে আজিজের কাছে। তখন আজিজ টাকা দিতে অস্বিকৃতি জানায়। তারপরই আজিজের কাছে একটি অবৈধ সিমর্কাড আছে মর্মে অভিযোগ তুলে রফিকের ঘনিষ্ট গোয়েন্দা অফিসারদের দিয়ে আজিজকে আটক করায়। তারপর দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। দোকানের ৩০/৩৫ লক্ষ টাকার মালামাল সহ সব মিলিয়ে প্রায় ৬০/৭০ লক্ষ টাকা রফিক নিয়ে নেয় বলে জানান আজিজ। রফিক অপহরনসহ একাধিক মামলায় একাধিকবার জেলে গেলেও কিভাবে সে সহজেই বের হয়ে আসে এটা এক রহস্য প্রবাসীদের কাছে।

রফিক রিয়াদের বাথা এলাকার ম্যানিলা প্লাজার সামনে বসবার করেন বলে জানা যায়।
তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কুমিল্লার দেবিদ্বার এলাকার এক প্রবাসী জানিয়েছেন, তাকেও একই ভাবে দেশে পাঠিয়ে দিয়েছেন রফিক। তবে তিনি ভয়ে মুখ খুলতে রাজি না।

একই ভাবে মুক্তিপন আদায় করেছে চাঁদপুরের মতলব উপজেলার রফিকুল ইসলাম মোল্লার ছেলে সাইফুল ইসলামের কাছ থেকেও। তিনি মোটা অঙ্কের টাকা মুক্তিপন দিয়ে বর্তমানে সৌদিতে বসবাস করছেন।

রিয়াদের সাধারণ প্রবাসীদের দাবী, সৌদির বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে এই দুষ্কৃতিকারী রফিককে অচিরেই আইনের আওতায় এনেে এসব অন্যায় অত্যাচারের সঠিক বিচার করা হোক।

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

  • 329
    Shares