ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হাসপাতাল বাণিজ্য: লাইসেন্স আছে ৪ টির,বাকি সব অনুমোদনহীন

২০ সেপ্টেম্বর, ২০২০ : ১১:২৯ পূর্বাহ্ণ ৭৪৭১

সীমান্ত খোকন: ব্যাঙ্গের ছাতার মতো ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে হাসপাতাল ও কথিত ডায়াগনস্টিক সেন্টার গজিয়ে উঠলেও এর মধ্যে অনুমোদন আছে মাত্র ৪ টির। অনুমোদন নেই ৪০ টির বেশি হাসপাতালের। আর আবেদন করা আছে ৩৫টি। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে গত ১৭ সেপ্টেম্বর এসব তথ্য পাওয়া গেছে। তবে সরাসরি অনুমোদন নেই এমন ৪০ টির বেশি হাসপতালের কোন তথ্য সিভিল সার্জন অফিসের তালিকায় নেই। সেখানে শুধু ৪টি অনুমোদিত হাসপাতাল, ডেন্টাল কেয়ার ও হাসপাতাল মিলিয়ে ৪১টি আবেদনকৃতসহ মোট ৪৫ টি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের তথ্য রয়েছে।

তবে সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে বলা হয়েছে, এই তালিকার বাইরে যেসব হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার পাওয়া যাবে সেগুলো সরাসরি অবৈধ। তবে আবেদনকৃত কোন হাসপাতাল লাইসেন্স পাওয়ার আগেই কার্যক্রম পরিচালনা করাও অবৈধ।

সেই হিসেবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে অনুমোদনহীন বা অবৈধ হাসপাতালের সংখ্যা প্রায় ৮০’টির মতো।

প্রশাসনের নাকের ডগায় অনুমোদন না থাকা সত্বেও দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে হাসপাতালের কার্যক্রম পরিচালনা করার পরও অনেক হাসপাতালকে আবেদনকৃত দেখানো হচ্ছে সিভিল সার্জন অফিস থেকে। তাহলে এই আবেদনকৃত হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলো এতদিন ধরে কিভাবে চলছে তা একটি বড় প্রশ্ন। এদিকে সিভিল সার্জন অফিসের তালিকায় নাম নেই (সরাসরি অবৈধ) এমন প্রায় ২০টির মতো হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে তেপান্তরের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হয়েছিল। তখন তারা প্রত্যেকেই দাবী করেছেন তাদের হাসপাতালের লাইসেন্স আছে বা আবেদন করা আছে। কিন্তু তাদের কথার পক্ষে প্রমান চাইলে তারা প্রমান দেখাতে ব্যর্থ হোন।

 

সিভিল সার্জন অফিসের তালিকায় নাম নেই (সরাসরি অবৈধ) এমন হাসপাতালগুলো হলো:

 

১: স্ট্যান্ডার্ড হসপিটাল অব টোটাল হেলথ কেয়ার, (ট্যাংকের পাড়)।

২: ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতাল (মধ্যপাড়া)।

৩: সেবা ক্লিনিক, (পাইকপাড়া)।

৪: এশিয়া হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার, (ট্যাংকের পাড়)।

৫: মনোয়ারা হাকিম হাসপাতাল, (উত্তর মৌড়াইল)।

৬: সুরমা ডায়াগনস্টিক সেন্টার এন্ড জেনারেল হাসপাতাল (ট্যাংকের পাড়)।

৭: দি মর্ডান পেইন ম্যানেজমেন্ট এন্ড ফিজিওথেরাপি সেন্টার, (ট্যাংকের পাড়)।

৮: নিউ স্কয়ার জেনারেল হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার, (ট্যাংকের পাড়)।

৯: হযরত শাহজালাল ডায়াগনস্টিক সেন্টার, পাইক পাড়া (রামকানাই স্কুল)।

১০: দি শাহজালাল ডায়াগনস্টিক সেন্টার এন্ড হাসপাতাল, পাইক পাড়া (রামকানাই)।

১১: আল মদিনা, পাইক পাড়া, (রামকানাই)।

১২: দি বাংলাদেশ হসপিটাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার, পূর্ব পাইক পাড়া (পুকুর পাড়)।

১৩: মুন ডায়াগনস্টিক সেন্টার, (পূর্ব পাইক পাড়া)।

১৪: ব্রাহ্মণবাড়িয়া চক্ষু হাসপাতাল (মৌলভী পাড়া)।

১৫: হোপ ডায়াগনস্টিক সেন্টার এন্ড হসপিটাল, মিজান টাওয়ার, (পাইক পাড়া)।

১৬: আলফা ডায়াগনস্টিক সেন্টার, (কুমারশীল মোড়)।

১৭: আল শিফা ডায়াগনস্টিক সেন্টার এন্ড ডায়াবেটিস হেলথ কেয়ার, (কুমারশীল মোড়)।

১৮: যমুনা হসপিটাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার, কুমারশীল মোড় (মদিনা মসজিদের পিছনে)।

১৯: আল খিদমাহ হাসপাতাল, কুমারশীল মোড় (মদিনা মসজিদের পিছনে)।

২০: আলিফ জেনারেল হাসপাতাল, (কুমারশীল মোড়)।

২১: নিউ ল্যাব এইড ডায়াগনস্টিক সেন্টার এন্ড হাসপাতাল, কুমারশীল মোড়, (আন্ডারগ্রাউন্ড)।

২২: তাবা ডায়াগনস্টিক সেন্টার, কুমারশীল মোড় (গলির ভিতর)।

২৩: সোনার বাংলা ডায়াগনস্টিক সেন্টার, কুমারশীল মোড়, (গলির ভিতর)।

২৪: ব্রাহ্মণবাড়িয়া ফিজিওথেরাপি সেন্টার, কুমারশীল মোড় (গলির ভিতর)।

২৫: প্রাইম ডায়াগনস্টিক সেন্টার, কুমারশীল মোড়, (গলির ভিতর)।

২৬: নাজ ডায়াগনস্টিক সেন্টার (কুমারশীল মোড়)।

২৭: সেন্ট্রাল ডায়াগনস্টিক সেন্টার এন্ড হসপিটাল, (কুমারশীল মোড়)।

২৮: দি আল রাজি ডায়াগনস্টিক সেন্টার (জেলা রোড)।

২৯: নিউ মদিনা ডায়াগনস্টিক সেন্টার এন্ড ডায়াবেটিস সেন্টার (জেল রোড)।

৩০: আল খলিল হসপিটাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার, (জেল রোড)।

৩১: নিউ ল্যাব এইড সিটি স্ক্যান এন্ড স্পাইরাইল ইমেজিং সেন্টার (কুমারশীল মোড়)।

৩২: পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার (প্রেসক্লাব ভবন)।

৩৩: মডেল ডায়াগনস্টিক সেন্টার, (মৌলভী পাড়া)।

৩৪: শমরীতা হাসপাতাল, (মৌলভী পাড়া)।

৩৫: পিএসপি ফিজিওথেরাপি এন্ড লেজার থেরাপি সেন্টার, (মৌলভীপাড়া)।

৩৬: আধুনিক শিশু ও জেনারেল হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার (মৌলভী পাড়া)।

৩৭: মেডিনোভা হাসপাতাল ( মেড্ডা)

 

আবেদনকৃত হাসপাতাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলো:

 

১: ডাঃ ফরিদুল হুদা মেমোরিয়াল ক্লিনিক, (বিরাশার)।

২: দি ডাচ বাংলা ডায়াগনস্টিক সেন্টার, (জেল রোড)।

৩: নাইটিঙ্গেল মেডিকেল সেন্টার (হালদার পাড়া)।

৪: দি ইবনে সিনা শিশু ও জেনারেল হাসপাতাল (জেল রোড)।

৫: আইডিয়াল এক্সরে এন্ড প্যাথলজি ক্লিনিক (মেড্ডা)।

৬: ব্রাহ্মণবাড়িয়া শিশু হাসপাতাল, (পশ্চিম পাইক পাড়া)।

৭: রয়েল হাসপাতাল, (জেল রোড)।

৮: হিউম্যান জেনারেল হাসাপাতাল, (মৌলভী পাড়া)।

৯: সেন্ট্রাল ল্যাব ডায়াগনস্টিক সেন্টার (কুমারশীল মোড়)।

১০: খ্রিষ্টিয়ান মেডিক্যাল সেন্টার।

১১: দি আল শিফা ডায়াগনস্টিক সেন্টার, (পূর্ব মেড্ডা)।

১২: খ্রিস্টিয়ান মেমোরিয়াল হাসপাতাল (মুন্সেফ পাড়া)।

১৩: আল মদিনা ডিজিটাল চক্ষু হাসপাতাল (খৈয়াসার)।

১৪: গ্রামীন জেনারেল হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার(কুমারশীল মোড়)।

১৫: গ্রীণ ভিউ স্পেশালাইজড হাসপাতাল (কুমারশীল মোড়)।

১৬: দি হলি ফ্যামিলি ডায়াগনস্টিক সেন্টার এন্ড হাসপাতাল (মেড্ডা)।

১৭: দি বসুন্ধরা জেনারেল হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার (পাইক পাড়া)।

১৮: ব্রাহ্মণবাড়িয়া ডায়াবেটিস সমিতি।

১৯: দি ক্রিসেন্ট ডায়াগনস্টিক সেন্টার (সদর হাসপাতাল রোড)।

২০: মানবাধিকার ডায়াবেটিক এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার।

২১: মুক্তি হসপিটাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার(মসজিদ রোড)।

২২: খৈয়াম মেডিক্যাল সেন্টার ।

২৩: মর্ডান এক্সরে ও প্যাথলজি (সদর হাসপাতাল রোড)।

২৪: নিউ লাইফ মেডিক্যাল সেন্টার, (ট্যাংকের পাড়)।

২৫: সেফ কেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টার, (পশ্চিম পাইক পাড়া)।

২৬: নিউ এ্যাপোলো শিশু ও জেনারেল হাসপাতাল, (কুমারশীল মোড়)।

২৭: দি ল্যাব এইড ডায়াগনস্টিক সেন্টার, (জেল রোড)।

২৮: দি ল্যাব এইড স্পেশালাইজড হসপিটাল,(জেল রোড)।

২৯: দি ইউনাইটেড হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার, (জেল রোড)।

৩০: দি আল বারাকা হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার, (মৌলভী পাড়া)।

৩১: সন্ধনী শিশু ও জেনারেল হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার, (জেল রোড)।

৩২: হলি ল্যাব হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার, (কুমারশীল মোড়)।

৩৩: গ্লোবাল অর্থোপেডিক জেনারেল হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার, (জেল রোড)।

৩৪: পেশেন্ট কেয়ার শিশু ও জেনারেল হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার, (জেল রোড)।

৩৫: দি বসুন্ধরা জেনারেল হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার, (পাইক পাড়া)।

 

অনুমোদিত হাসপাতালগুলো:

 

১: ডক্টর কেয়ার জেনারেল হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার।

২: স্বাধীন বাংলা চক্ষু হাসপাতাল।

৩: লাইফ কেয়ার শিশু ও জেনারেল হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার।

৪: হেলথ কেয়ার শিশু ও জেনারেল হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার।

 

সাধারণ মানুষ মনে করছেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে প্রশাসনের পর্যাপ্ত নজরদারী না থাকায় অনুমোদনহীন ভাবে এতগুলো চলছে। ফলে কয়দিন পর পর ভুল চিকিৎসায় মৃত্যুসহ নানা অভিযোগ শুনা যায়। এছাড়াও সদর হাসপাতালকে কেন্দ্র করে গজিয়ে উঠা এসব হাসপাতাল মূলত সদর হাসপাতালের রোগী ভাগিয়ে নিয়ে তাদের স্বার্থ হাসিল করছে। তবে এই মূর্হুতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এসব অনুমোদনহীন হাসপাতালের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কোন বিকল্প নেই বলে মনে করেন সাধারণ মানুষ।

এবিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিভিল সার্জন ডা.একরাম উল্লাহ তেপান্তরকে বলেন, লাইসেন্স না নিয়ে কেউ যদি হাসপাতাল বা ডায়াগনস্টিক সেন্টার খুলে কর্মকান্ড চালিয়ে যায় তাহলে সেটা অবৈধ। অনুমোদন নেই এমন সব প্রতিষ্ঠানে আমি নোটিশ দিয়েছিলাম, জানিনা সেগুলো ঠিক ভাবে সেখানে পৌছেছে কিনা। আমরা চেষ্টা করছি অনুমোদনহীন হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোকে একটা নিয়মের ভিতর আনতে। তবে যেহেতু এগুলো অবৈধ তাই এগুলোর বিরুদ্ধে আমরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সাথে নিয়ে অচিরেই ব্যাবস্থা নিবো।

 

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।