সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে “ড্রেস ফি” নিচ্ছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া টেকনিক্যাল স্কুল

২২ সেপ্টেম্বর, ২০২০ : ৭:৫০ অপরাহ্ণ ৮৬৫

কাজী আশরাফুল ইসলাম: একের পর এক অভিযোগ যেন পিছু ছাড়ছেনা ব্রাহ্মণবাড়িয়া টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজের। কিছুদিন পর পর বিভিন্ন বিষয় নিয়ে অভিযোগ উঠে। প্রতিষ্ঠানটির অনিয়ম নিয়ে একাধিকবার হয়েছে পত্রিকার হেডলাইন। কিন্তু তবু থেমে নেই। নতুন নতুন অভিযোগ উঠছে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে।

তবে এবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজে নিয়ম বহির্ভূত ভাবে ভর্তি ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ড্রেস বানানোর নামে ১১৫০ টাকা করে নিচ্ছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে সরকারি বেসরকারি কলেজগুলোতে একাদশ শ্রেণির ভর্তিতে সরকার নির্ধারিত ফি সমূহের অতিরিক্ত কোন অর্থ আদায় করতে নিষেধ করা স্বত্বেও ব্রাহ্মণবাড়িয়া টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজ কোন বিধি-নিষেধ মানছেনা। একাদশ শ্রেণীর জন্য সরকার কর্তৃক নির্ধারিত ভর্তি ও বিবিধ ফি ১৪৪০ টাকার বাইরেও ড্রেস বানানোর জন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ১১৫০ টাকা আদায় করা হচ্ছে।

যদিও সরকারের ভর্তিসংক্রান্ত নীতিমালায় অতিরিক্ত অর্থ আদায় বেআইনী ঘোষণা করা হয়েছে এবং কোন প্রতিষ্ঠান সরকার নির্ধারিত ফি ব্যাতিত অতিরিক্ত কোন ফি আদায় করলে উক্ত প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যাবস্থা নেয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এর মাঝেই খোদ সরকারি এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ড্রেস ফি’র নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজে একাদশ শ্রেণীতে ভর্তি সংক্রান্ত অফিস বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয় এবং সরকার নির্ধারিত ভর্তি ফি ১৪৪০ টাকা মোবাইল ব্যাংকিং সেবা শিওরক্যাশের মাধ্যমে পরিশোধের নির্দেশ দেয়া হয়। কিন্তু এই নোটিশে ভর্তি-ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদেরকে ভর্তি ফি ব্যাতিত ড্রেস ফি বাবদ অতিরিক্ত ১১৫০ টাকা প্রতিষ্ঠানের হিসাব শাখায় প্রদান করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ সোলাইমান কর্তৃক সাক্ষরিত নোটিশটি নিয়ে ইতিমধ্যে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ড্রেস ফি প্রদান না করলে কলেজ কর্তৃপক্ষ ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করছে না।

সরকারি প্রতিষ্ঠান কেন এই করোনাকালে শিক্ষার্থীদেরকে ড্রেস ফি’র নামে অতিরিক্ত টাকা জমা দিতে বাধ্য করছে এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পাচ্ছে না কেউই।

রুপা বেগম নামে একাদশে ভর্তিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, করোনার মহামারীতে ভর্তি ফি যোগাড় করতেই অনেক অবিভাবকদেরকে হিমশিম খেতে হচ্ছে, সেখানে কেন অতিরিক্ত অর্থ চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে তা বোধগম্য হচ্ছে না।’

ভর্তিচ্ছুক শিক্ষার্থী কাজী রেজাউল বলেন,’ আমরা আমাদের ড্রেস যে কোন দোকান থেকে বানাতে চেয়েছিলাম কিন্তু অধ্যক্ষ মহোদয় আমাদেরকে কিছুতেই সেই সুযোগ দিতে চাচ্ছেন না।’

সরকার নির্ধারিত ফি ছাড়া ভর্তি ফি’র সাথে ড্রেস ফি নেয়ার কথাটি স্বীকার করেছেন কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ সোলাইমান মিয়া। ড্রেস ফি নেয়াটা কতটুকু ন্যায় সংগত এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি তেপান্তরকে বলেন, ‘ প্রতিষ্ঠানের ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন হবার পর অনেক শিক্ষার্থী ড্রেস বানাতে চায় না। তাছাড়া তাদেরকে সর্বনিম্ন মূল্যে ভালো কাপড়ের ড্রেস দেয়ার জন্যই আমরা একটি নির্দিষ্ট ট্রেইলারের দোকানের সাথে চুক্তি করেছি।’ কেউ যদি অর্থের অভাবে ড্রেসের ফি পরিশোধ না করতে পারে তাহলে ঐ শিক্ষার্থীকে তার সাথে যোগাযোগ করতে অনুরোধ জানান।

তবে সরকারি প্রতিষ্ঠানে এভাবে নিয়মের বাইরে গিয়ে নোটিশের মাধ্যমে ড্রেস ফি আদায় কতটা আইনসিদ্ধ এমন প্রশ্নের জবাব কৌশলে এড়িয়ে যান অধ্যক্ষ।

সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবি,এই মহামারী চলাকালীন সময়ে ভর্তির টাকার সাথে বাধ্যতামূলক ড্রেস ফি যাতে প্রত্যাহার করা হয়। প্রয়োজনে ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবার পর ড্রেস বানানোর জন্য তাদেরকে অতিরিক্ত সময় দেয়া হোক।

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।