যে দেশে শহীদ স্মৃতিস্তম্ভও জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানায়

৯ অক্টোবর, ২০২০ : ৮:০২ অপরাহ্ণ ৭৫৬

সাখাওয়াত সাফীন: ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরে অবস্থিত মেজর তোফায়েল-জমাদার আজম স্মৃতি স্তম্ভ। ১৯৫৮ সালের ৭ই আগস্ট তৎকালীন ইপিআর বাহিনীর দুই সদস্য মেজর তোফায়েল মোহাম্মদ এবং জমাদার আজম খান লক্ষ্মীপুরে দেশের প্রতিরক্ষার জন্য নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেন। দেশপ্রেমের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিশেবে এবং এই দুইজন বীর শহীদের পবিত্র স্মৃতিকে স্মরণীয় করে রাখতে ১৯৫৮ সালের ডিসেম্বরের ১৩ তারিখ ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার উদ্যোগে এই স্মৃতি স্তম্ভটি নির্মাণ করা হয়। এই স্তম্ভের পেছনে রয়েছে দুঃসাহসিক এক অভিযানের ইতিকথা।

সম্প্রতি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে জেলা আওয়ামী লীগ নানা কর্মসূচির পাশাপাশি পোস্টার, ফেস্টুন, ব্যানার ইত্যাদির মাধ্যমে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানায়। কিন্তু জেলার কিছু তোষামোদ শ্রেণির নেতা কর্মী শুভেচ্ছা বার্তা প্রদান করতে এই ঐতিহাসিক শহীদ স্মৃতিস্তম্ভকে ব্যবহার করে।

ফলে স্মৃতিস্তম্ভটির প্রতি অসম্মান এবং অবমাননা করার কারণে ক্ষোভ জানিয়েছে স্থানীয় জনসাধারণ।

এই ব্যাপারে জেলা সদরের স্থানীয় বাসিন্দা আতিকুর রহমান জানায়, “মনুমেন্টটি দেশের দখলকৃত ভূমি পুনরোদ্ধার করতে গিয়ে শহীদ হওয়া দুজন সৈনিকের স্মৃতির সম্মানে নির্মিত। ব্রাহ্মণবাড়িয়াবাসী গত ৬২ বছর ধরে এর সাথে পরিচিত। স্তম্ভটির এ ধরণের ব্যবহার অগ্রহণযোগ্য”।

সামির চক্রবর্তী বলেন, “কাজটি সম্পূর্ণ বুদ্ধিহীনতা আর ক্ষমতার অপব্যবহার ছাড়া কিছুই না। জেলা প্রশাসনের উচিৎ অবিলম্বে এটি সড়িয়ে ফেলে এবং আগামীতে এইধরণের হীনমনস্কতার কাজ যেন না ঘটে সেই দিকে খেয়াল রাখা।”

তাছাড়া অনেকেই অভিযোগ করেছেন, শহীদ স্মৃতিস্তম্ভটি অযত্ন আর অবহেলার শিকার। পুরো বছর জুড়েই নানা আয়োজন উপলক্ষ ছাড়াও পোস্টার, ফেস্টুন কিংবা ব্যানারে ছেয়ে থাকে এই তোফায়েল-আজম স্মৃতিস্তম্ভ। এই ব্যাপারে প্রশাসনকে দায়ী করছেন তারা।

জাতীয় স্মৃতিনিদর্শন প্রভৃতির ক্ষেত্রে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের দ্বিতীয় ভাগে চব্বিশ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে,
“বিশেষভাবে শৈল্পিক, ঐতিহাসিক গুরুত্বসম্পন্ন বা তাৎপর্যমণ্ডিত স্মৃতি-নিদর্শন বস্তু বা স্থানগুলোকে বিকৃতি, বিনাশ, বা অপসারণ থেকে রক্ষা করার জন্য রাষ্ট্র কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।”

তাহলে প্রশ্ন উঠছে, স্মৃতিস্তম্ভের সুরক্ষা দেয়ার জন্য যেখানে সংবিধানে আলাদা অনুচ্ছেদ আছে, সেখানে সুরক্ষা আসলে দিচ্ছে কে?

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।