নৌ শ্রমিকদের ধর্মঘটে অচল আশুগঞ্জ নদী বন্দর

২১ অক্টোবর, ২০২০ : ৫:৫৯ অপরাহ্ণ ১৬৭

তেপান্তর রিপোর্ট: বেতন-ভাতার সুযোগ-সুবিধাসহ ১১দফা দাবিতে কেন্দ্রীয় কর্মসুচির অংশ হিসেবে দ্বিতীয় দিনের মতো ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ নদী বন্দরে অনিদিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতী পালন করছে নৌ শ্রমিকরা।

নৌ-ধর্মঘটের কারণে আশুগঞ্জ নৌ বন্দরে জ্বলানি তৈল, সার, রড, সিমেন্ট, পাথর, কয়লাসহ বিভিন্ন পন্য নিয়ে আটকা অর্ধশতাধিক জাহাজ। এছাড়া পন্য উঠানামাও বন্ধ রয়েছে। এতে বন্ধ হয়ে গেছে নদী বন্দরের কার্যক্রম। বেকার হয়ে পড়েছে বন্দরের হাজারো শ্রমিক। গত সোমবার দিনগত রাত ১২টা ১মিনিট থেকে নৌ যান শ্রমিক ফেডারেশনের ডাকে সারাদেশের ন্যায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অনির্দিষ্টকালের জন্য নৌযান-শ্রমিকদের ধর্মঘট শুরু করে শ্রমিকরা। তবে আশুগঞ্জ থেকে ৬টি নৌ রুটে লঞ্চ চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। প্রতিদিন ভারতের ত্রিপুরাসহ দেশের সিলেট বিভাগ, ময়মনসিংহ বিভাগ, কিশোরগঞ্জসহ বিভিন্ন স্থানের নানা পন্য নিয়ে আশুগঞ্জ বন্দরে নোঙ্গর করে অন্তত অর্ধশতাধিক জাহাজ।

নৌযান শ্রমিক ফেরাডেশনের দপ্তর সম্পাদক হাবিবুল্লাহ বাহার মাষ্টার জানান, শ্রমিক ফেডারেশনের ১১ দফা দাবিগুলো-বাল্কহেডসহ সব নৌ-যান ও নৌ-পথে চাঁদাবাজি-ডাকাতি বন্ধ করা, ২০১৬ সালে ঘোষিত গেজেট অনুযায়ী নৌ-যানের সর্বস্তরের শ্রমিকদের বেতন, ভারতগামী শ্রমিকদের ল্যান্ডিং পাস এবং মালিক কর্তৃক খাদ্যভাতা দিতে হবে, সব নৌ-যান শ্রমিকের সমুদ্র ও রাত্রিকালীন ভাতা নির্ধারণ, এনডোর্স, ইনচার্জ, টেকনিক্যাল ভাতা পুনর্নিধারণ, কর্মস্থলে দুর্ঘটনায় নিহত শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ ১০লাখ টাকা নির্ধারণ, প্রত্যেক নৌ-শ্রমিককে মালিক কর্তৃক নিয়োগপত্র, পরিচয়পত্র ও সার্ভিস বুক দিতে হবে, নদীর নাব্যতা রক্ষা ও প্রয়োজনীয় মার্কা, বয়া ও বাতি স্থাপন, মাস্টার পরীক্ষা, সনদপত্র বিতরণ ও নবায়ন, বেআইনি নৌচলাচল বন্ধ করা, নৌ-পরিবহন অধিদপ্তরে সব ধরনের অনিয়ম ও শ্রমিক হয়রানি বন্ধ এবং নৌ-যান শ্রমিকদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। আমাদের এ দাবি মানা না হলেও ধর্মঘট অব্যাহত থাকবে।

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

  • 56
    Shares