ফেসবুকে ফটোশপ করে নারী সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মীর অশ্লীল ছবি প্রচার

২ নভেম্বর, ২০১৯ : ১১:৪৫ অপরাহ্ণ ২১৯

হুমায়ুন আহমেদ সৃজন: সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এক নারী সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মীর ছবি ফটোশপ করে অশ্লীল ছবির সাথে জুড়ে দিয়ে প্রচারের ঘৃণ্যতম অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে জানা গেছে, গত ৩০ অক্টোবর বিকেলে ফেসবুকে ‘জাকির খান’ নামীয় একটি আইডি যার ইউআরএল- https://www.facebook.com/profile.php?id=100039004488410 থেকে ওই নারী সাংবাদিককে জড়িয়ে বিভিন্ন অশ্লীল স্ট্যাটাস ও বেশকিছু অশ্লীল ছবি ফটোশপ করে তার মুখাবয়ব বসিয়ে পোস্ট করা হয়েছে। ‘জাকির খান’ নামের আইডি থেকে ওই নারী সাংবাদিকের ফেসবুক স্ট্যাটাসগুলির মন্তব্য অপশনে ফটোশপড অশ্লীল ছবিগুলোর সাথে নানা ধরনের অশ্লীল মন্তব্য করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে গত ৩০ অক্টোবর প্রথমে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন ওই নারী সাংবাদিক। পরবর্তিতে রাজধানীর শাহবাগ থানায় শনিবার(২ নভেম্বর) সাধারন ডায়েরী করেছেন তিনি। যার জিডি নং-৯৭/ ০২ নভেম্বর। পাশাপাশি লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে র‌্যাব- ১১, ডিএমপির সাইবার ক্রাইম হেল্প ডেস্ক (ডিবিতে স্থানান্তর), বিটিআরসিতে। এছাড়াও মৌখিকভাবে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে নারায়নগঞ্জের পুলিশ সুপার কার্যালয়, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ঢাকা ইউনিট সহ বিভিন্ন প্রশাসনিক দপ্তরে।

এ বিষয়ে ওই নারী সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী বলেন- দীর্ঘদিন যাবত সাংবাদিকতা ও বিশেষ করে প্রবাসী নারী গৃহ শ্রমিকদের উদ্ধার করে দেশে ফিরিয়ে আনা ও তাদের কল্যাণে নানামুখি কার্যক্রমের মাধ্যমে সারাদেশের অসংখ্য মানুষ আমাকে চেনে ও জানে। ফলে পেশাগত কারণে বিভিন্নজনের মোবাইল/ক্যামেরার মাধ্যমে সোস্যাল মিডিয়ায় আমার সাভাবিক ছবি থাকা অসাভাবিক কিছু নয়। সেইসাথে পেশাগত ও পাবলিক ফিগার হওয়ার কারণে বিভিন্ন সময় নানা বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়লেও আমাকে সব সময়ই ফেসবুকে একটিভ থাকতে হয়। কিন্তু গত ৩০ অক্টোবর বিকেলে হঠাৎ আমার স্বামী কাউসার সাহেবের মাধ্যমে জানতে পারি ‘জাকির খান’ (https://www.facebook.com/profile.php?id=100039004488410) নামে এই ফেসবুক আইডিটিতে আমার এই চলমান ফেসবুক আইডি থেকে ছবি সংগ্রহ করে প্রোফাইলে দেয়া সহ বিভিন্ন নোংরা ও কুরুচিপূর্ণ স্ট্যাটাস পোস্ট দেয়া হয়েছে। যেখানে আমার আসল ছবির পাশাপাশি বেশ কিছু ছবি এডিটিং এর মাধ্যমে অর্ধনগ্ন ও অশ্লীলভাবে তৈরি করে সেই সাথে অশ্লীল ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের সহিত আমার ব্যক্তিগত চরিত্র হরণের চেষ্টা করে তা পোস্ট করা হয়েছে। এবং সেই পোস্টগুলোকে আমার স্বামী ও আত্মীয়-স্বজন থেকে শুরু করে সহকর্মীদের ফেসবুক একাউন্টে ট্যাগ করা হচ্ছে ও প্রত্যেকের ফেসবুক পোস্টে গিয়ে সেসব এডিটিং করা অশ্লীল ছবি দিয়ে বাজে মন্তব্য করা হচ্ছে আমার বিষয়ে। আমি এ বিষয়ে সম্ভাব্য সকল প্রশাসনিক দপ্তরে অভিযোগ জানিয়েছি। তারা আমাকে আশ্বস্ত করেছেন খুব অল্প সময়ের মধ্যেই মূল অপরাধী ধরা পড়বে ও তাকে যথাযোগ্য শাস্তির আওতায় আনা হবে।

এদিকে বিষয়টির তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ থেকে শুরু করে সাংবাদিক মহল। তারা অতি দ্রুত মূল অপরাধীকে শনাক্ত করে তাকে আইনের আওতায় এনে শাস্তি প্রদানের জন্য প্রশাসনিকভাবে সব ধরনের সহযোগিতা কামনা করেছেন।

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।