পরিক্ষার নামে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা নিচ্ছে “গোকর্নঘাট উচ্চ বিদ্যালয়”

১০ নভেম্বর, ২০২০ : ৩:২২ অপরাহ্ণ ৮৫৪

কাজী আশরাফুল ইসলাম: ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার “গোকর্নঘাট উচ্চ বিদ্যালয়”র বিরুদ্ধে সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে  অর্ধ বার্ষিক পরীক্ষার ফি আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থী তেপান্তরের কাছে অর্ধ বার্ষিক পরীক্ষার ফি বাবদ ২৭০ টাকা থেকে শুরু করে ৩৫০ টাকা পর্যন্ত  নেয়ার অভিযোগ করেছেন। এবং এই ফি নেয়ার বিপরীতে কোন পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি বলেও তারা তেপান্তরকে জানিয়েছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, আমাদেরকে পরীক্ষার ফি জমা দেয়া বাধ্যতামূলক বলা হয়েছে এবং পরীক্ষার ফি প্রদান না করলে পরবর্তী শ্রেণীতে উত্তীর্ণ হতে দিবে না বলে হুশিয়ারি দেয়া হয়েছে। সরকারি নির্দেশনায় দেশের কোন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোন পরীক্ষা নেয়া এবং পরীক্ষার ফি বাবদ কোন ধরনের অর্থ আদায় নিষিদ্ধ করা হয়েছে।কিন্তু বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে গত ২৪শে অক্টোবর থেকে ২৯শে অক্টোবর পর্যন্ত ৬ষ্ঠ থেকে ১০ম শ্রেণির সকল শিক্ষার্থীর কাছ থেকে অর্ধ বার্ষিক পরীক্ষার ফি বাবদ এই অর্থ আদায় করে এবং প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে বিদ্যালয়ের নির্ধারিত বেতন আদায়ের রশিদও দেয়া হয়েছে।

সেইসব রশিদে দেখা যায় রশিদের উপরে বিদ্যালয়ের নাম ও সিল রয়েছে। তারিখের স্থানে ২৬-১০-২০২০ লেখা রয়েছে এবং নির্ধারিত স্থানে শিক্ষার্থীর নাম, শ্রেণি, শাখা রোল এবং অর্ধ বার্ষিক পরীক্ষার ফি বাবদ ২৭০ থেকে শুরু করে ৩০০ টাকা পর্যন্ত লেখা রয়েছে।

রশিদের সত্যতা যাচাই এবং ফি আদায়ের অভিযোগের বিষয়ে বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষের নির্ধারিত মুটোফোনে যোগাযোগ করা হলে বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক সুমন চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, “অর্ধবার্ষিক পরীক্ষার জন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ফি নেয়া হয়েছে এটা সত্য তবে এতে বিদ্যালয়ের সকল অবিভাবকের সম্মতি ছিল।বিদ্যালয়ের অবিভাবক সমাবেশে সকল অবিভাবকবৃন্দ একটি মূল্যায়ন পরীক্ষা নেয়ার জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ করেন এবং অর্ধ বার্ষিক বা বার্ষিক যেকোনো একটি পরীক্ষার ফি দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।

বিষয়টি আইনসিদ্ধ কিনা এই ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন,”অন্নদা, সাবেরা, মডেল গার্লস স্কুলের মতো সরকারি স্কুলগুলোতেও বিভিন্ন ফি’র নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে, আগে ঐগুলা বন্ধ করেন”।

সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে কেউ কোন ফি আদায় করছে কিনা কিংবা বিষয়টি জেলা শিক্ষা অফিস মাঠপর্যায়ে তদারকি করছে কিনা জানতে চাইলে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ শফিউদ্দিন বলেন, “আমাদের কাছে এখন পর্যন্ত এ ধরনের কোন অভিযোগ আসেনি। তবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে পরীক্ষা কিংবা মূল্যায়নের নামে কোন ফি নেয়া যাবে না।যদি কোন প্রতিষ্ঠান এ ধরনের কাজ করে থাকে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা নেয়া হবে এবং প্রয়োজনে শিক্ষার্থীদেরকে তাদের অর্থ ফেরত দেয়া হবে।”

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।