জুস খাইয়ে অজ্ঞান করে ৫ জন মিলে যুবককে বলৎকার,মামলা নিচ্ছেনা পুলিশ

১৯ নভেম্বর, ২০২০ : ১:২৩ পূর্বাহ্ণ ৭৫৫

তেপান্তর রিপোর্ট: ২০ বছরের যুবক বিল্লালকে জুসের সাথে চেতনা নাশক খাইয়ে অজ্ঞান করে তারই পরিচিত ৫ ব্যক্তি। অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার পর ৫ জন মিলে পালাক্রমে বলৎকার করে বিল্লালকে। এই ঘটনার আবার ভিডিও ধারণ করে রাখে বলৎকারকারীরা। যদি এবিষয়ে মুখ খোলা হয় তাহলে সেই ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখানো হয়। এমন অভিযোগ ভুক্তভুগীর। ঘটনাটি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিজয়নগর উপজেলার চাষ্ষা মোড়া গ্রামের। কিন্তু এবিষয়ে সু-বিচারের জন্য পুলিশের কোন সহায়তা পাচ্ছেনা বলে অভিযোগ ভুক্তভুগী বিল্লাল মিয়ার। বিল্লাল বিজয়নগরের ঘিলাতলী গ্রামের মৃত আব্দুর রশীদের ছেলে।

অভিযুক্তরা হলো, বিজয়নগরের সাতগাও গ্রামের মৃত কালো মিয়ার ছেলে ও বিজয়নগর উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক কাউসার মিয়া (৩৮), আব্দুল্লাহ পুরের সুধাম কর্মকারের ছেলে পরিমল কর্মকার (৩৫), আব্দুল্লাহ পুরের মৃত জিন্নত আলীর ছেলে মোহাম্মদ আলী (৪৫), আব্দুল্লাহ পুরের মৃত আব্দুল মান্নান মিয়ার ছেলে মাহবুবুর রহমান (৩৫) ও একই গ্রামের নিতাই কর্মকারের ছেলে লিটন কর্মকার (৩০)। এই ঘটনার পর ভুক্তভুগী বিল্লাল ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে ভর্তি হলে প্রথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর রোগীকে ঢাকায় রের্ফাড করার পরামর্শ দেন এবং ডাক্তার বিল্লালের শরীরে আননোন পয়জন (অপরিচিত বিষ) এর অস্তিত্ব পান।

গত ৩ নভেম্বর এই ঘটনা ঘটার পর থানা মামলা না নেওয়ার কারনে ৯ নভেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়া চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অভিযোগ দায়ের করেন বিল্লাল মিয়া। অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পেলে তা এজাহারগণ্যে রেকর্ড করার জন্য এবং ৩০ দিনের মধ্যে আদালতে অবগতি প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য বিজয়নগর থানার ওসিকে নির্দেশ দেন আদালত। কিন্তু বিজয়নগর পুলিশের তদন্তকারী কর্মকর্তা আতিকুর রহমান বলছেন, আদালতে অবগতি প্রতিবেদন পাঠাতে সময় লাগবে এক মাসেরও বেশি সময়। কারন হিসেবে তিনি বলেছেন, ভিকটিমের মেডিকেল রিপোর্ট হাতে পেতে ১ মাস সময় লাগবে। আর সেই মেডিকেল রিপোর্ট ছাড়া কোন কিছুই বুঝা সম্ভব না। তাই এক মাসের বেশি সময় লাগবে আদালতে প্রতিবেদন পাঠাতে। কিন্তু আদালতের ৩০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন পাঠানোর নির্দেশের কি হবে এমন প্রশ্ন করলে তদন্তকারী কর্মকর্তা আতিকুর রহমান সাংবাদিকের কাছে কোন উত্তর দিতে পারেননি। এছাড়াও মেডিকেল রিপোর্ট পেতে ১ মাস সময় কেন লাগবে এমন প্রশ্ন বাদীর।

তাছাড়া এই অভিযোগটির প্রাথমিক সত্যতা পেলে মামলা গ্রহন করতে আদালত নির্দেশ দিয়ে থাকলেও থানায় সেই নির্দেশ পৌছার ১০ দিন হয়ে গেলেও এখনো তার কিছুই হয়নি। ফলে বাদী অভিযোগ করছেন, ১ নং আসামী রাজনৈতিক নেতা ও প্রভাবশালী হওয়ায় পুলিশ আসামীদের সাথে যোগসাজসে মামলা না নিতে ইচ্ছাকৃত ভাবে টালবাহানা করছে।

বিল্লাল কোন উপায় না পেয়ে ১৮ নভেম্বর পুলিশের অসহযোগীতার্পূণ ও অপেশাদার আচরনের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক বরাবর পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন।

আদালতে দায়েরকৃত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ৩ নভেম্বর বিল্লাল তার কর্মস্থল চাষ্ষা গ্রামের মৎস খামারের দুচালা টিনের ঘরে বসে খামার পাহাড়া দিচ্ছিলেন। তখন রাত ১১/১২ টার সময় অভিযুক্ত পাঁচ ব্যক্তি সেখানে জুয়া খেলতে যায়। তখন বিল্লাল তাদের বাধা দেন। তখন ৩ নম্বর আসামী মোহাম্মদ আলী ভুক্তভুগী বিল্লালকে বেয়াই সন্মোধন করে জুস খেতে দেয়। সেই জুস খাওয়ার পরই বিল্লাল অজ্ঞান হয়ে যান। এরপরই তারা পাঁচ জন মিলে পালাক্রমে বিল্লালকে বলৎকার করতে শুরু করে। তখন মৎস খামারের মালিক সামিরুল ইসলাম এসে এই ঘটনা দেখে ফেলেন। সামিরুল দেখেন ১ নং আসামী কাউসার বলৎকার করছে এবং ২ নং আসামী পরিমল মোবাইল দিয়ে তা ভিডিও করছেন। এই অবস্থায় সামিরুল তাদের এই কাজে বাধা দেন। তখন রেগে গিয়ে পরিমল হাতের লোহার টর্চ লাইট দিয়ে সামিরুলকে বারি দিয়ে পুকুরে ফেলে দেয়। এবং এই ঘটনা কাউকে না বলতে হুমকি দিয়ে যায়।
যুবলীগ নেতা কাউসার মিয়ার বিরুদ্ধে বলৎকারের অভিযোগ নতুন নয়। গত ২৫ মে ১৬ বছর বয়সী সাগর মিয়া নামে এক কিশোরকে বলৎকারের অভিযোগে মামলা হয়েছিল তার বিরুদ্ধে।

ভুক্তভুগী বিল্লাল জানান,আসামীরা রাজনৈতিক নেতা হওয়ায় ও প্রভাবশালী হওয়ায় পুলিশ আমার মামলা নিচ্ছেনা বরং আমাকে হয়রানী করছে। তদন্তকারী কর্মকর্তা আমার সাথে খারাপ আচরন করে। ফোন করলে আমাকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে। ওইদিন বললো আমি যেন ঘটনার সময়কার আমার পোষাক নিয়ে ফাড়িতে যাই। কিন্তু সেখানে গিয়ে ৩ ঘন্টা বাহিরে দাড়িয়ে থেকেও দেখা করতে পাড়িনি। ফোন করলে আমার সাথে খারাপ আচরন করে। ফোন করে বললাম জামা-কাপড় এনেছি। তখন তদন্ত কর্মকর্তা বললো সেই জামা ধুয়ে যেন পানি খাই। এবিষয়ে আমি মাননীয় এমপি র আ ম উবায়দুল মোক্তাদির চৌধুরী স্যারকে জানিয়েছি। তিনি বলেছেন তুমি থানায় যাও আমি ওসিকে বলে দিচ্ছি। কিন্তু তখন থানায় গিয়ে আমি ওসি সাহেবকে পাইনি।

এ বিষয়ে বিজয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুল ইসলাম তেপান্তরকে জানান, বিষয়টি তদন্তের দায়ীত্বে আছেন ইসলামপুর ফাড়ির ইনচার্জ। আদালতের নির্দেশ আছে ৩০ দিনের মধ্যে রিপোর্ট দিতে। অথচ এখনো ১০ দিন হয়নি।
তদন্ত কর্মকর্তার টালবাহানার বিষয়ে তিনি কিছু জানেনা বলেও জানান ওসি।

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

  • 107
    Shares