“বিএনপি নেতা কর্মীদের ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে আমার ১৭ বছর গেলো কই?”

২৬ নভেম্বর, ২০২০ : ১১:১৬ পূর্বাহ্ণ ৪৫৭

ফজলে রাব্বি: ১৫-ই আগস্ট ১৯৭৫ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং তাঁর পরিবারকে নির্মমভাবে হত্যার মাধ্যমে পুরো বাংলাদেশে স্বাধীনতা বিরোধী অপশক্তি মাথাচাড়া দিয়ে উঠে। গ্রাম,শহর,নগর-বন্দর থেকে শুরু করে সকল জায়গায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করার জন্য দীর্ঘমেয়াদি নীলনকশা প্রণয়ন করে তৎকালীন বিএনপি এবং তার সহযোগী অঙ্গসংগঠন। তার-ই ধারাবাহিকতায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলার নবীনগর উপজেলার আলমনগর গ্রামেও  আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে, গ্রাম্য কোন্দলকে পুঁজি করে ব্যাপক সংঘর্ষ এবং রক্তক্ষয়ী দাঙ্গা-হাঙ্গামা শুরু করে বিএনপি ও তার সহযোগী অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

এই আধিপত্য বিস্তার এবং গ্রাম্য কোন্দলের জেরে ৬-ই নভেম্বর ২০০০ সালে মোঃ আনোয়ার হোসেন নিহত হন, যিনি  তৎকালীন সন্ত্রাসী-শক্তি ছাত্রদলের অন্যতম নেতা ছিলেন।

মোঃ আনোয়ার হোসেন নিহত হবার পর তার বড় ভাই বাদী হয়ে স্থানীয় বিএনপি-জামাত কর্মীদের মদদপুষ্টে  নবীনগর থানায় ২১ জনকে আসামী করে একটি ষড়যন্ত্রমূলক হত্যা মামলা (জিআর ২৫৬/২০০০) দায়ের করেন। এই ষড়যন্ত্রমূলক মামলার ৪ নং আসামী করা হয় নবীনগর পৌর যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির অন্যতম সদস্য এবং কেয়া স্টুডিওর কর্ণধার মোঃ নাজমুল হককে।

২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হবার পর বিএনপি জোট সরকার ক্ষমতায় এলে বিএনপির সিনিয়র জাতীয় নেতৃবৃন্দের সহযোগিতায় এবং ইন্ধনে এই মামলাটিকে
দ্রুত বিচার ট্রাইবুনাল নং (৩/২০০০৪)ইং এ নথিভুক্ত করে চট্টগ্রামে স্থানান্তরিত করা হয়।

দীর্ঘ ১৬ মাস হাজতবাসের মধ্য দিয়ে আলমনগরের তৎকালীন যুবলীগ নেতা নাজমুল হকের কারাবন্দি অন্ধকার জীবন শুরু হয়।
বিএনপির জাতীয় সিনিয়র নেতৃবৃন্দের হস্তক্ষেপে এ মামলায় রায় আসে নিহত মোঃ আনোয়ার হোসেনের পক্ষে। যার ফলশ্রুতিতে, যুবলীগনেতা মোঃ নাজমুল হককে সর্বমোট ১৭ বছর কারাগারে থাকতে হয়।

২০২০ সালের ১৫-ই আগস্ট মহামান্য রাষ্ট্রপতি মোঃ আব্দুল হামিদের বিশেষ ক্ষমতাবলে
দেশরত্ন শেখ হাসিনার অন্যতম ভ্যানগার্ড
যুবলীগনেতা মোঃ নাজমুল হক কারামুক্তি লাভ করেন। কারামুক্তির পরপরই তিনি ১৫-ই আগস্ট জাতীয় শোকদিবস উপলক্ষে আয়োজিত
শোকসভা ও মিলাদ মাহফিলে অংশগ্রহণ করে
বলেন “বিএনপি নেতা কর্মীদের ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে আমার ১৭ বছর গেলো কই?
কেউ কি হিসাব দিতে পারবেন? আজও আমি বঙ্গবন্ধুর কথা শুনলে পাগল হয়ে যাই! আমি স্থির থাকতে পারি না। আমি আমার জীবন-যৌবন কারাগারে কাটিয়ে দিয়েছি একমাত্র আওয়ামীলীগের জন্য।

আজ শুধুমাত্র আওয়ামীলীগ করার কারণে আমাকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে দীর্ঘ ১৭ বছর কারাবন্দি করে পরিবার থেকে,সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছিলো বিএনপি  সরকার এবং বিএনপির স্থানীয়  নেতৃবৃন্দ!

তিনি আরো বলেন ” মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা ২০০৮ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকে কারাবন্দীদের আবাসন ও সুযোগ সুবিধা ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। কয়েদীদের
স্বাস্থ্যসেবা,খাবার মান উন্নয়ন, স্বাস্থ্যকর আবাসনের সুযোগ দিয়েছে এই আওয়ামীলীগ সরকার। সেইজন্য মমতাময়ী প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনাকে জানাই হাজারো সালাম এবং শ্রদ্ধা। আশা করি, ভবিষ্যতে বঙ্গবন্ধুকন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনা আমার মতো ত্যাগী নেতৃবৃন্দকে নবীনগর উপজেলা আওয়ামীলীগের  উপযুক্ত চেয়ারে আসীন করে অবশ্যই মূল্যায়িত করবেন।
জয় বাংলা!
জয় বঙ্গবন্ধু!
বাংলাদেশ চিরজীবী হোক ”

লেখা: ফজলে রাব্বি
দপ্তর সম্পাদক, (নোবিপ্রবি শাখা)
বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম
ইমেইল:fozlerabbi58@gmail.com

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।