নবীনগরে “আশ্রয়ন প্রকল্প” কাজে বাঁধা দিয়ে সরকারি সম্পত্তি দখলের পায়তারা প্রভাবশালীদের

২৭ নভেম্বর, ২০২০ : ২:১৪ অপরাহ্ণ ৩৭০

মো. সফর মিয়া: মুজিববর্ষের অঙ্গীকার বাংলাদেশের কোনো মানুষ ভূমিহীন-গৃহহীন থাকবে না, আর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই শ্লোগানকে সামনে রেখে সরকারি জায়গায় নির্মিত আশ্রয়ন প্রকল্প কাজ চলছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার বিটঘর ইউনিয়নে । সেই কাজে বাধা দিচ্ছে একটি প্রভাবশালী মহল। উপজেলার বিটঘর ইউনিয়নের দানবীর মহেশ ভট্রাচার্য্যের নাম ভাংগিয়ে নির্মিত আশ্রয়ন প্রকল্পের জায়গাটি দখলের অপচেষ্টা চালাচ্ছে ওই মহলটি।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীর এ বছরে দেশের গৃহ ও ভূমিহীন ৬ লাখ ৮ হাজার পরিবারকে একটি করে পাকাবাড়ি নির্মাণ করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি রয়েছে সরকারের। এরই অংশ হিসাবে নবীনগর উপজেলায় ৬০টি গৃহের “আশ্রয়ন প্রকল্প” নির্মাণ কাজের জন্য বরাদ্দ এসেছে। এরই মধ্যে উপজেলার বিটঘর ইউনিয়নে ৩২ টি ঘরের জন্য সরকারের ১নং খাস খতিয়ান ভুক্ত ১১৩৯ নং দাগে ৭৪ শতাংশ জায়গায় প্রকল্পের কাজ শুরু করে নবীনগর উপজেলা প্রশাসন। চলমান কাজের প্রায় ৫০% কাজ সমাপ্তির পথে।

শুক্রবার(২৭/১১) সরেজমিনে এলাকায় গেলে স্থানীয় সুবিধাভোগী লক্ষী রানী দেব,নিলুফা আক্তার,রবি চন্দ্র দেব,গুরুপদ চন্দ্র সাহা,মিলন মিয়াসহ অনেকেই জানায়, স্থানীয় সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল কাইয়ুম ও স্থানীয় আ’লীগ নেতা মোঃ সফিকুল ইসলাম এর নেতৃত্বে গত মঙ্গলবার কিছু লোক মানববন্ধন করে নির্মান কাজের বাধাঁ প্রদান করেন। বাধাঁ প্রদানের ফলে একদিন কাজ বন্ধ থাকে।পরবর্তীতে প্রশাসনের হস্তপেক্ষে বুধবার থেকে কাজ শুরু হয়। অভিযোগ রয়েছে,ওই মহলটি দীর্ঘদিন ধরে উক্ত জায়গা দখল করে নার্সারী ভাড়া দিয়ে, লীজসহ নানা ভাবে দখল করে সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে আসছিল। মহেশ ভট্রাচার্য্যের কোন উত্তরসুরী নেই। জায়গাটি হাতছাড়া হয়ে গেলে স্বার্থের বিঘ্ন ঘটবে বিধায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দানবীর মহেশ ভট্টাচার্য এর সম্পত্তি বলে দাবি করে সমাজ ও একটি শ্রেণীর সম্প্রদায়ের মাঝে অস্থিরতা সৃষ্টি করে সাধারণ মানুষের আবেগকে কাজে লাগানোর চেষ্ঠা করছে মহলটি।

এ ব্যাপারে আ’লীগ নেতা সফিকুল ইসলাম বলেন, আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ মিথ্যা ভিত্তিহীন আমি কোন সরকারি জায়াগ লীজ বা কোন জায়গা দখল করিনি,নার্সারী ভাড়া দেয়নি। এটি মহেশ ট্রাস্ট নাসার্রী ভাড়া দিত তারা টাকা নিত,এ জায়গা সি এস এ মহেশ ভট্রাচার্য়্যের নামে রয়েছে,খাস খতিয়ান কি ভাবে হলো জানিনা।
এ ব্যাপারে সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল কাইয়ুম এর সাথে যোগাযোগ করলে,তিনি ফোন রিসিভ করেন কিন্তু আশ্রায়ন প্রকল্পে বাধাঁ এ প্রসংগে তার বক্তব্য জানাতে চাইলে তিনি ফোনটি কেটে দেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি ইকবাল হাসান বলেন,”এটা কোন ব্যক্তি মালিকানা জায়গা নয়, সরকারের ১নং খাস খতিয়ান ভুক্ত জায়গা। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে প্রকল্প কাজ মনিটরিং করা হচ্ছে, সরকারের নির্দেশনা মোতাবেক সরকারি খাস জায়গায় এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে”।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা একরামুল ছিদ্দিক বলেন, “একটি মহল এই জায়গা নিয়ে এলাকার অভিভাবক ও জনপ্রতিনিধিসহ সমাজকে ভুল বোঝানোর চেষ্টা করছে, এটি সরকারি জায়গা এবং সরকারের নির্দেশনা মোতাবেক কাজ চলমান আছে। এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে এলাকার সুবিধা বঞ্চিত অসহায় নির্যাতিত ৩২টি পরিবার একটি স্থায়ী ঠিকানা পাবে”।

এ ব্যাপারে স্থানীয় সাংসদ মোহাম্মদ এবাদুল করিম বুলবুল বলেন,সরকারি জায়গায় সরকারি কাজ হচ্ছে বাধা দেওয়ার সুযোগ নেই,যদিও জায়গা মহেশ ভট্রাচার্য্যের হয়ে থাকে কিন্তু তার উত্তরসুরী নেই বিধায় সরকারি খাস খতিয়ানে অন্তুর্ভূক্ত হয়েছে,সমস্যা কোথায় এ জায়গাতো গ্রামের গৃহহীনরা ভোগ করবে,এটাতো প্রধানমন্ত্রীর মাববতার কাজ,। বিষয়টি দেখছি।

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।