৭ দিনের নির্দেশ ৭০ দিন পার, বলাৎকার মামলার তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দিচ্ছেনা পিবিআই

১৮ ডিসেম্বর, ২০২০ : ৭:৪০ অপরাহ্ণ ১৫৭৫

তেপান্তর রিপোর্ট: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে সাগর মিয়া নামে এক কিশোরকে বলাৎকারের ঘটনা তদন্ত করতে ২০২০ সালের ৯ সেপ্টেম্বর আদালত পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) কে নির্দেশ দিয়েছিলেন। সেই নির্দেশে ৭ কার্যদিবসের মধ্য ঘটনা তদন্ত করে আদালতে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছিল। কিন্তু ৭ কার্যদিবসের স্থলে ৭০ কার্যদিবস পার হয়ে গেলেও এখনো পর্যন্ত পিবিআই আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেনি। শুধু তাই নয়, প্রতিবেদন দাখিল করতে না পারার কারন দেখিয়ে আদালতে কোন প্রকার পিটিশন দেননি তদন্তকারী কর্মকর্তা, এমনটিই অভিযোগ। এদিকে মামলার বাদি অভিযোগ করে বলছেন, পিবিআই’র তদন্তকারী কর্মকর্তা শাহ আলম আসামী পক্ষের কাছ থেকে টাকা খেয়ে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করছেনা। এছাড়াও এই তদন্তকারী কর্মকর্তা কিছু টাকার বিনিময়ে মামলাটি আপোষ করার প্রস্তাব দিয়েছে আমাকে (বাদিকে)।

মামলার এজাহার থেকে জানা গেছে, ২০২০ সালের ২৫ মে রাত সাড়ে ৮টায় বিজয়নগর উপজেলার আলাদাউদপুর গ্রামের ইকবাল মিয়ার ছেলে সাগর মিয়া (১৬) কে তিন জন মিলে বলাৎকার করে। এই তিন জন হলো, বিজয়নগর উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক কাউসার মিয়া (৩৮), দুলাল মিয়ার ছেলে ইয়াসিন মিয়া (২১) ও মৃত রহম আলীর ছেলে লোকমান মিয়া (৫০)। তাদের সবার বাড়ি বিজয়নগর উপজেলার সাতগাও গ্রামে। এঘটনার পর তার প্রতিবেশি চাচা চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সালমান তারেক বাদি হয়ে আদালতে মামলা দায়ের করেন। বিজয়নগর থানা পুলিশ মামলা না নেওয়ায় বাধ্য হয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া বিজ্ঞ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৩ এ মামলা করেন সালমান তারেক।

এজাহার থেকে আরো জানা যায়, ভিকটিম সাগরকে বলাৎকার করার জন্য আগে থেকেই অভিযুক্ত তিন জন পরিকল্পনা করে রেখেছিল। তারপর সাগরের মুখ গামছা দিয়ে বেধে চান্দুরা ইউনিয়নের ফুলতলী টু আব্দুল্লাহ্পুর রাস্তার পাশে একটি পোল্ট্রি খামারে নিয়ে সাগরকে বলাৎকার করে তিন জন। পরে সাগর চিৎকার শুরু করলে আশপাশের মানুষ এসে তাকে উদ্ধার করে। পরে ঘটনা এলাকার সর্দার-মাতাব্বরদের জানালে তারা করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ন্যায় বিচারের আশ্বাস দেন। একই সাথে করোনার কারনে আদালত বন্ধ থাকার কারনে সাথে সাথে মামলাও করেতে পারেননি ভুক্তভোগী।

এবিষয়ে মামলাটির বাদি সালমান তারেক তেপান্তরকে জানিয়েছেন, তদন্ত প্রতিবেদন দিতে তদন্তকারী কর্মকর্তা শাহ আলম গাফিলতি করছেন। চলতি বছরের ০৯,০৯ তারিখে মামলা হওয়ার পর ৩০,১০,২০২০ তারিখে ভিকটিমের মেডিকেল সার্টিফিকেট (এমসি) রেডি হয়ে গেছে। কিন্তু তদন্তকারী কর্মকর্তা সেটি সংগ্রহ করেননি এবং তদন্ত প্রতিবেদনও আদালতে প্রেরণ করেননি। আদালতের বেধে দেওয়া ৭ দিন সময়ের পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতে এ বিষয়ে কোন পিটিশন জমা দেননি। কিন্তু এর মধ্যে মামলাটি আপোষ করে ফেলার জন্য পিবিআই কর্মকর্তা শাহ আলম বাদি পক্ষকে প্রস্তাব দিয়েছেন। আপোষ করতে রাজি না হলে আসামী পক্ষ বাদি পক্ষকে মামলা দিবে বলেও বলেছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা শাহ আলম। এরপর কথা অনুযায়ী ১৮ ডিসেম্বর আমার বিরুদ্ধে আসামীরা একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করেছে।

এবিষয়ে মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)’র পরিদর্শক শাহ আলম তেপান্তরকে বলেন, তদন্ত প্রতিবেদন দিতে দেড়ি হওয়ায় আমি আদালত থেকে সময় বাড়িয়ে নিয়েছি। মামলাটি আপোষের জন্য বাদিকে প্রস্তাব দিয়েছেন কিনা জানতে চাইলে এই কর্মকর্তা বলেন, “বাদি কত কথাই বলবে”। তবে এখন তদন্ত শেষ, প্রতিবেদন কিছুদিনের মধ্যেই দাখিল করা হবে।

তবে বাদী পক্ষের দাবী, তদন্তকারী কর্মকর্তা তদন্তের সময় বাড়নোর জন্য কোন প্রকার পিটিশন আদালতে দেননি। পিটিশন না দিয়েই মনগড়া মতো সময় ক্ষেপন করছেন তিনি।

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।