জামায়াতের আমিরকে “মুক্তিযোদ্ধা গণসংবর্ধনা” দিলেন ইউপি চেয়ারম্যান, এলাকায় তোলপাড়

২০ ডিসেম্বর, ২০২০ : ১২:২৯ অপরাহ্ণ ১২২৯

তেপান্তর রিপোর্ট: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জের শরীফপুর ইউনিয়নের এক জামায়াত নেতাকে “মুক্তিযোদ্ধা গণসংবর্ধনা” দিয়েছেন শরীফপুর ইউনিয়নের আওয়ামীলীগ মনোনীত চেয়ারম্যান সাইফুদ্দিন চৌধুরী। আর এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ৩১২ মহিলা আসনের সংসদ সদস্য সরাইলের শিউলী আজাদ। শনিবার (১৯ ডিসেম্বর) এই সংবর্ধণা অনুষ্ঠান শেষে বিভিন্ন মহলে সমালোচনার ঝড় শুরু হয়েছে। সংবর্ধিত জামায়াত নেতার নাম মোঃ তাজুল ইসলাম, তিনি আশুগঞ্জ উপজেলা “জামায়াতে ইসলামী’র আমির। তবে একই সাথে তিনি মুক্তিযোদ্ধা বলেও শোনা যাচ্ছে। জামায়াত আমীরের গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে কিভাবে এমপি শিউলি আজাদ উপস্থিত ছিলেন তা নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে।

খোজ খবর নিয়ে যানা যাচ্ছে, শরীফপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাইফুদ্দিন চৌধুরী বেশ কয়েক বছর আগে বঙ্গবন্ধুর ছবি প্রকাশ্যে ছিড়ে ফেলার অপরাধে তার বিরুদ্ধে রাস্ট্রদ্রোহীতার মামলা হয়েছিল। তারপর বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃদ্ধের মাধ্যমে মামলা শেষ করে আওয়ামীলীগে যোগ দেন।

শরীফপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সাইফ উদ্দিন চৌধুরী সভাপতিত্বে এই গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন দৈনিক যুগান্তর ও যমুনা টেলিভিশনের ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি মো. শফিকুল ইসলাম, তরুণ শিল্পপতি মো. বিল্লাল ভূইঁয়া প্রমুখ।

এসময় মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষে বক্তব্য রাখেন ডা. ফয়েজ আহমদ ফুল মিয়া, এ.কে.এম ছাদির, মো. ছানাউল্লাহ, তাজুল ইসলাম, হাবিবুর রহমান হাফ মিয়া। আরও বক্তব্য রাখেন শরীফপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. ইকবাল হোসেন, ইউনিয়ন আ.লীগ নেতা মো.ছায়দুর রহমান বকসি, শরীফপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক সভাপতি মোজ্জামেল হক তপন, শরীফপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক নাছির উদ্দিন, আশুগঞ্জ উপজেলা যুবলীগের সদস্য মো. সাজিদুল ইসলাম সাচ্চু মাস্টার ও শরীফপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক মানিক রায় ভৌমিক প্রমুখ। অনুষ্ঠানে শরীফপুর ইউনিয়নে ৭৪ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা রয়েছে। তাদের মধ্যে ইতিমধ্যে মৃত্যুবরণ করেছে ৪৩ জন। আর জীবিত আছেন ৩১ জন। তাদের ৩১ জন ও প্রয়াত ৪৩ জনের পরিবারের হাতে ক্রেস্ট ও ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়।

এবিষয়ে সরাইলের আওয়ামীলীগ নেতা এডভোকেট আশরাফ উদ্দিন মন্তু ফেইসবুকে লিখেন, “তাজুল ইসলাম জামাতে ইসলামী এর আমীর এবং একজন বিতর্কিত ব্যক্তি। তবে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ এমপি মহোদয়কে অবগত করলে হয়তো এমনটি হতো না।”

শরীফপুর ইউনিয়নের ছাত্রলীগ নেতা ফাইজুর রহমান তার ফেইসবুকে লিখেন, “নৌকা প্রতিক নিয়ে নির্বাচিত ইউপি চেয়ারম্যান কতৃক জামায়াতের আমির কে সংবর্ধনা। উনি ( চেয়ারম্যান) জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর ছবি প্রকাশ্যে ছিড়ে ফেলেছিলেন, তারপর উনার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা হয়,পরে বিভিন্ন নেতৃবৃন্দের মাধ্যমে মামলা শেষ করে আওয়ামীলীগে যোগ দেয়। শরীফপুর ইউপি ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।”

এবিষয়ে শরীফপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি মোহাম্মদ শরীফ হোসেন তেপান্তরকে বলেন, আওয়ামীলীগ ও তার অংগসংঘঠনগুলো বিভিন্ন সময়ে মতের অমিল থাকলেও জাতীয় স্বার্থ বা মুক্তিযোদ্ধের চেতনায় আমরা সবাই এক। শরীফপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাইফুদ্দিন চৌধুরী একটি গণসংবর্ধনার আয়োজন করে একজন জামায়াতের আমীরকে সংবর্ধনা দিয়েছেন,যা নিয়ে সব মহলে নিন্দার ঝড় বইছে। এই অনুষ্ঠানের ব্যপারে আমি তেমন কিছু জানিনা,কারন অনুষ্ঠানের বিষয়ে চেয়ারম্যান সাহেব আমাদেরকে কিছু বলেননি। যদিও এটি গণসংবর্ধনা, কিন্তু জনগনের তেমন কোন সম্পৃক্ততা ছিলনা অনুষ্ঠানে। সেখানে তার পরিষদের কিছু সদস্য ও নিজেদের লোক নিয়েই মূলত অনুষ্ঠানটি করেছেন। আর এমপি শিউলি আজাদ মহোদয় এখানে এসেছেন, তিনিও আমাদের কিছু জানাননি। জনপ্রতিনিধিদের আচরন এমন হওয়া উচিৎ নয়।

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।