সরাইলে আড়াই কোটি টাকা ব্যয়ে বিদ্যালয় ভবন নির্মাণে নকশা না মানার অভিযোগ

২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ : ৮:৪২ অপরাহ্ণ ৬৫

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার শাহবাজপুর ইউনিয়নের ‘সৈয়দা হুছেনা আফজাল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে’ সরকারি বরাদ্দে চারতলা ভবন নির্মাণে ঠিকাদার নকশা না মেনে অনিয়ম করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লক্ষী রাণী দে, ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ওছমান উদ্দিন আহমেদ খালেদ, অভিভাবক সদস্য মো. রেজোয়ানসহ এলাকার কয়েকজনের ভাষ্য- ঠিকাদার বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণের আগে কোনো সিটিজেন চার্ট টাঙাননি। প্রথম ও দ্বিতীয় তলার ছাদ নির্মাণ করা হলেও শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী একবারের জন্যও এখানে আসেননি।

শিক্ষা অধিদপ্তরের জেলার সরাইল উপজেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-সহকারি প্রকৌশলী (সাইট অফিসার) মো. এনামুল হক ভূইয়াকে বারবার অনিয়মের কথা বলা সত্ত্বেও রাজমিস্ত্রি ও ঠিকাদার অনিয়ম করে কাজ সম্পন্ন করছেন। তাঁরা ভবনের ভিত্তি (বেজ), স্তম্ভ (কলাম) ও ছাদ ঢালাইয়ের পুরুত্ব, রড, সিমেন্ট, ইটের খোয়া ও বালু ব্যবহারে ব্যাপক অনিয়ম করছেন। অনিয়ম করার কারণে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে এলাকাবাসীর কথা-কাটাকাটিও হয়েছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ এবং ভবনের নকশা পর্যালোচনা করে দেখা যায়, নকশা অনুযায়ী বিদ্যালয় ভবনের ছাদ ঢালাইয়ের পুরুত্ব পৌনে পাঁচ ইঞ্চি করার কথা থাকলেও ঠিকাদার তা করেননি। ছাদ ঢালাইয়ের পুরুত্ব বিভিন্ন জায়গায় দেড় ইঞ্চি থেকে সাড়ে তিন ইঞ্চি। ভিত্তির রডের খাঁচায় এক রিং থেকে আরেক রডের রিং এর দূরত্ব ১০ থেকে ১২ ইঞ্চি ও রডের পুরুত্ব নকশা অনুযায়ী মানা হয়নি। সিমেন্ট, বালু ও ইটের খোয়া ব্যবহারের নিয়ম মানা হয়নি।

শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের জেলার সরাইল উপজেলা প্রকৌশলী মো. এনামুল হক ভূইঁয়া বলেন, ‘এলাকার লোক নানা রকম অভিযোগ করতেই পারে। কিন্তু ভবনের নির্মাণকাজ সঠিকভাবেই এগিয়ে যাচ্ছে। ছাদ ঢালাইয়ের পুরুত্বে কিছু  কিছু জায়গায় সমস্যা থাকতে পারে। টাইলস লাগানোর সময় সিমেন্ট একটু বেশি লাগানো হলে এ সমস্যা ঠিক হয়ে যাবে।

ঠিকাদার কাজী জাহাঙ্গীর বলেন, আমি সেখানে একবারের জন্যও যাইনি। কাজটি সাব-ঠিকাদারের মাধ্যমে করানো হচ্ছে। আর ‘ওখানে ভবন নির্মাণে কোনো ফাঁকির সুযোগ নেই। ভবনের নকশা না মেনে চললে প্রকৌশলীই বাধা দিতেন। নকশা অনুসরণ করে ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে।’ তাছাড়া বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের দু’তিনজন এ কাজের সার্বক্ষণিক তদারকি করেছেন। তাদের সঙ্গে আমার যোগাযোগ আছে।

সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ এস এম মোসা জানান, তারা এসবের ব্যাপারে আমাদেরকে কিছুই জানায় না। আমি বিষয়টির খোঁজ খবর নিব।

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।