বিব্রত এমপি শিউলি আজাদ,দায় নিচ্ছেনা কেউ

২০ ডিসেম্বর, ২০২০ : ৭:১৯ অপরাহ্ণ ৭৩৬

তেপান্তর রিপোর্ট: আশুগঞ্জের শরীফপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান কর্তৃক আয়োজিত “মুক্তিযোদ্ধা গণসংবর্ধনা” অনুষ্ঠানে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তাজুল ইসলাম নামে আশুগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের আমিরকে সংবর্ধনা দেওয়ার পর সমালোচনা শুরু হলে অনুষ্ঠান সংশ্লিষ্ট কেউই এর দায়ভার নিতে চাচ্ছেননা। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথী সংসদ সদস্য শিউলী আজাদ ক্ষদ্ধ হয়ে রোববার বিকেলে বলেছেন, বিষয়টি মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রীকে জানানো হয়েছে। এর দায়ভার আয়োজকদের নিতে হবে। আমি জানতাম না অন্যদের সঙ্গে এ ধরনের কাউকে সংবর্ধনা দেওয়া হবে। মন্ত্রী মহোদয়কে বলেছি এমন হয়ে থাকলে যেন মুক্তিযোদ্ধার তালিকা থেকেই তাঁর নাম বাদ দিয়ে দেওয়া হয়। নইলে আমাদের নানাভাবে বিব্রত হতে হবে।

এ বিষয়ে নৌকা প্রতীকের শরীফপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. সাইফুদ্দিন চৌধুরী বলেন, ইউনিয়নের যে তালিকা তাতে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তাজুল ইসলামের নাম রয়েছে। উনি উপজেলার বিভিন্ন অনুষ্ঠানেও যোগ দেন। স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের মাধ্যমে তাকে দাওয়াত দেওয়া হয়। মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা আমি তৈরি করিনি। সেটা করেছে ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড। এখন আমার বিরুদ্ধে থাকা কিছু লোকজন এ নিয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে।

আর শরীফপুর ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার ফয়েজ আহমেদ ফুল মিয়ার কাছে জানতে চাইলে প্রথমে তিনি বলেন, তাজুল ইসলাম জামায়াতপন্থী। তাকে ওই অনুষ্ঠানে দাওয়াত দেওয়া হয়নি। তিনি কিভাবে অনুষ্ঠানে এলেন জানি না। তবে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকায় তার নাম রয়েছে।
কিছুক্ষণ পর তিনি ফোন করে বলেন, দাওয়াতের ভার ডেপুটি কমান্ডারকে দেওয়া হয়েছিল। মূলত তাঁর কাছ থেকে দাওয়াত পেয়েই তাজুল ইসলাম অনুষ্ঠানে এসেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সংবর্ধিত তাজুল ইসলাম পেশায় হোমিও চিকিৎসক। একই সঙ্গে তিনি দীর্ঘ দিন শরীফপুর ইউনিয়ন জামায়াতের আমিরের দায়ীত্ব পালন করে বর্তমানে আশুগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের আমির হিসেবে দায়ীত্ব পালন করছেন। কয়েক বছর আগে বঙ্গবন্ধুর ছবি ছেঁড়ার অভিযোগে হওয়া মামলায় তিনি জেলও খাটেন। এ ছাড়া নাশকতা করাসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে। যে কারণে সংবর্ধনা অনুষ্ঠান নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে (ফেসবুক) এ নিয়ে তীব্র সমালোচনা হচ্ছে।

শরীফপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. সাইফুদ্দিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন তরুণ শিল্পপতি মো. বিল্লাল ভূইঁয়া। এতে মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষে বক্তব্য রাখেন ফয়েজ আহমদ ফুল মিয়া, এ কে এম ছাদির, মো. ছানাউল্লাহ, তাজুল ইসলাম, হাবিবুর রহমান হাফ মিয়া, ইউপি সদস্য মো. ইকবাল হোসেন, ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক সভাপতি মোজ্জামেল হক তপন, ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন, ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মানিক রায় ভৌমিক, আশুগঞ্জ উপজেলা যুবলীগের সদস্য মো. সাজিদুল ইসলাম সাচ্চু প্রমুখ।

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।