মাদক সংক্রান্ত সংবাদের জের: শালিসে সাংবাদিক ও শালিসকারক রাজনৈতিক নেতাদের উপর অতর্কিত হামলা

৩১ ডিসেম্বর, ২০২০ : ৩:৩৩ অপরাহ্ণ ১১৩৯

তেপান্তর রিপোর্ট: ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের মধ্যপাড়ায় মাদক সংক্রান্ত সংবাদ সংগ্রহের জের ধরে একটি শালিস সভায় সাংবাদিক ও কয়েকজন শালিসকারক রাজনৈতিক নেতার উপর অতর্কিত সন্ত্রাসী হামলা হয়েছে। বুধবার রাত ১০ টায় মধ্যপাড়া এলাকার ঐতিহ্যবাহী “ব্রাদার্স ক্লাব” এ এই ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর পরই রাত ১২টার সময় ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানায় মামলা দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী সাংবাদিক আসাদ। বৃহষ্পতিবার বিকেল পর্যন্ত এই মামলা গ্রহন করেনি থানা পুলিশ। তবে ব্রাদার্স ক্লাবের পক্ষ থেকে থানায় কোন মামলা করা হয়নি।

হামলার শিকার ব্যক্তিরা হলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল “স্বাধিকার” এর সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ, তার ভাই আনোয়ার, এশিয়ান টিভির ব্রাহ্মণবাড়িয়ার স্টাফ রিপোর্টার হাবিবুর রহমান পারভেজ, ব্রাদার্স ক্লাবের সভাপতি ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুল আলম খোকন, জেলা শ্রমিকলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালেক, তার ছেলে জনি, ব্রাদার্স ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বাসেতসহ আরো কয়েকজন।

আসাদের করা মামলার আসামীরা হলো, মধ্যপাড়া বর্ডার বাজারের কাদির মিয়ার ছেলে নয়ন মিয়া, তার ছেলে বিনয়, উত্তর পৈরতলার কাদির মিয়ার ছেলে হৃদয়, বর্ডার বাজারের সুরুজ মিয়ার ছেলে শহিদ মিয়া, তার ছেলে অর্থি ও দক্ষিণ পৈরতলার বাদল মিয়া। তাদের নেতৃত্বে অন্তত ৫০ জনের একটি দল এই হামলা চালায় বলে অভিযোগ। এসময় ক্লাবের চেয়ার-টেবিল ভাংচুর করা হয়েছে।

সাংবাদিক আসাদুজ্জামান আসাদ জানিয়েছেন, গত ২৯ ডিসেম্বর বর্ডার বাজার এলাকার শহিদ মিয়ার ছেলে অর্থি রাস্তার গলিতে দাড়িয়ে গাজা সেবন করছিল। এসময় একই এলাকার আতিকুর রহমানের ছেলে আরাফাত তাতে বাধা দেন। এক পর্যায়ে আরাফাত সাংবাদিক আসাদকে ফোন দিয়ে এবিষয়ে পত্রিকায সংবাদ প্রকাশের জন্য অনুরোদ করেন। তখন আসাদ ঘটনাস্থলে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে বাক-বিতন্ডা ও মারমুখো আচরণ শুরু হয়। এই বিষয়টি মিমাংসার জন্য বুধবার (৩০ ডিসেম্বর) রাতে ব্রাদার্স ক্লাবে শালিসে বসে দুই পক্ষ। তখন বাক-বিতন্ডার এক পর্যায়ে অর্থির পক্ষের লোকজন আসাদের উপর ও শালিসকারকদের উপর অতর্কিত হামলা করে। এসময় বাইরে থেকেও প্রচুর লোক ক্লাবে ঢুকে এই ঘটনা ঘটায়। মামলার এজাহার ও সাংবাদিক আসাদের বয়ানে এমনটাই জানা গেছে।

এবিষয়ে জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও এই শালিসের শালিসকারক মাহবুবুল আলম খোকন বলেছেন, এটি একটি ন্যক্কারজনক ঘটনা। কোন শালিসে এমন হামলার ঘটনাকে কোন ভাবেই সমর্থন করা যায়না।

হামলার পর ক্লাবের দৃশ্য।

জেলা শ্রমিকলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালেক এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে বলেছেন, শালিসের মধ্যে এমন আচরন কোনভাবেই মেনে নেওয়া যাবেনা। শালিসে বাক-বিতন্ডার এক পর্যায়ে কে যেন দরজা খোলে দিলো তখন একদল যুবক রুমে ঢুকে সবাইকে এলোপাথাড়ি মারধোর শুরু করলো। এখানে তারা কাউকে মান্যগণ্য করেনি। পৈরতলার প্রভাব দেখিয়ে তারা এখানে যা ইচ্ছা তাই করে গেছে। এঘটনার সঠিক বিচার দাবী করছি।

এবিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার ওসি আব্দুর রহিম এজাহার পেয়েছেন বলে জানিয়েছে।
তবে মামলা এখনো রেকর্ড করা হয়নি কেন এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেছেন “দেখছি”।

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।