নবীনগরের কনিকাড়া’য় দুই মৎস্যজীবী সমিতির পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

৪ জানুয়ারি, ২০২১ : ৫:১২ অপরাহ্ণ ৯১

মো. সফর মিয়া: ব্রাহ্মণবাড়িয়া নবীনগরে মৎস্যনীতিমালা উপেক্ষা করে অমৎস্যজীবীদের সমবায় সমিতির সদস্য করে মৎস্যকার্ড নিয়ে একটি প্রভাবশালীমহল জলমহাল নিয়ন্ত্রন করছে,পাল্টাপাল্টি এমন অভিযোগ দুই মৎস্যজীবী সমিতির। উপজেলার কনিকাড়া দাসপাড়া মৎসজীবী সমিতি ও মিতালী মৎস্যজীবী সমিতি একে অপরের বিরুদ্ধে মুখোমুখি অবস্থানে। এতে মৎস্যজীবীদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

দাসপাড়া মৎস্যজীবী সমিতির ৪ সদস্য ও মিতালী মৎস্যজীবী সমিতির ৭ সদস্য অমৎস্যজীবী দাবী করে উভয় সমিতি তাদের নামে ইস্যুকৃত মৎস্যকার্ড বাতিলের দাবীতে মৎস্য ও প্রানী সম্পদ মন্ত্রনালয়ের সচিব বরাবরে আবেদন করেছে। গতকালসোমবার(০৪/০১)মিতালী মৎস্যজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক কৃষ্ণ চন্দ্র দাস এর অভিযোগের প্রেক্ষিতে সরেজমিন এলাকায় গিয়ে জানা যায়, অভিযুক্ত মজিবুর রহমান,মোখলেছুর রহমান,কৃষ্ণ দাস ও মিজান মিয়া তারা প্রবাসে অবস্থান করে অর্থশালী.ব্যবসায়ী,রাজমিস্ত্রী, গৃহস্থ ও এলাকায় প্রভাবশালী ব্যক্তি।

তারা কোন সময়ই মৎস্যজীবী ছিলেন না। এলাকার মৎস্যজীবী হরিচরণ দাস, শংকর চন্দ্র দাস, সিধন দাস, রাম প্রসাদ, রাধামহন তারা বলেন, প্রশাসনকে ভুল বুঝিযে প্রভাবখাটিয়ে সমিতি করে সদস্য হয়ে মৎস্য আহরণ করছে। আমরা অসহায় জেলে প্রকৃত মৎস্যজীবী হয়েও বঞ্চিত হচ্ছি, আমরা তাদের কার্ড বাতিলপূর্বক যাচাই বাছাই করে প্রকৃত মৎস্যজীবীদের জলমহাল ইজারা দেওয়ার জন্য সরকারের কাছে অনুরোধ করছি। মিতালী মৎস্যজীবী সমিতি ২০০৯ সাল থেকে জলমহাল নীতিমালা অনুসরণ করে তিতাস নদী-বুড়ি নদী লীজ নিয়ে মৎস্য আহরণ করে আসছে। এ বছরও ৬ বছরের জন্য উন্নয়ন প্রকল্পে জলমহাল ইজারা টেন্ডার জমা দিয়েছি,এ টেন্ডার বাতিলের জন্য দাসপাড়া মৎস্যজীবী সমিতি মিতালী মৎস্যজীবী সমিতির নামে মিথ্যা ভিত্তিহীন অভিযোগ করেছে।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত মোখলেছুর রহমান প্রকৃত মৎস্যজীবী দাবী করে বলেন, আমি কোন সমিতির সদস্য না, মিতালীতে ছিলাম অনিয়মের কারনে সেখান থেকে চলে আসি। মজিবুর ও মিজান বলেন, মোখলেছ,কৃষ্ণ আমাদের সমিতির সদস্য না, ছোট বেলা থেকেই মৎস্য ব্যবসার সাথে জড়িত, আমরা বিধি মোতাবেক সমিতি সদস্য হয়ে কার্ড সংগ্রহ করে মৎস্য বিপণণ ও আহরণ করছি।

অপরদিকে দাসপাড়া মৎস্যজীবী সমিতির সভাপতি শত্যদাস ও সাধারণ সম্পাদক মজিবুর রহমান মিতালী মৎস্যজীবী সমিতির ৭ সদস্য শিক্ষক ফরিদ আহমেদ, মুক্তিযোদ্ধা কুদ্দুস মিয়া, সরকারি গ্রাম পুলিশ সুধীর চন্দ্র দাস, ইউপি মেম্বার রফিকুল ইসলাম মানিক, শ্রমিক হবি মিয়া, আঃ কদির ও আঃ আহাদ অমৎস্যজীবী দাবী করে অভিযোগ করেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. মাসুদ বলেন,দাসপাড়া মৎস্যজীবী সমিতির ৪ সদস্যদের বিরুদ্ধে মিতালী মৎস্যজীবী সমিতির করা অভিযোগ বিষয়ে আমি অবগত নই, মিতালী মৎস্যজীবীর ৭ সদস্যদের বিরুদ্ধে দাসপাড়া মৎস্যজীবী সমিতির করা অভিযোগটি সচিব মহোদয়ের নির্দেশে তদন্তে প্রাথমিক সত্যতায় তদন্ত প্রতিবেদন পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

  • 17
    Shares