আখাউড়া পৌরসভার নির্বাচন, পাল্টে যাচ্ছে ভোটের সমীকরণ

২৬ জানুয়ারি, ২০২১ : ১০:০৪ অপরাহ্ণ ১৮০৯

আশরাফুল মামুন: অর্থনৈতিক বানিজ্যিক ও রাজনৈতিক ভাবে অধিক গুরুত্বপূর্ণ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া পৌরসভার নির্বাচন। আইনমন্ত্রীর নির্বাচনীয় এলাকা হিসেবে এই পৌরসভার মেয়র নির্বাচন রাজনৈতিক পটভূমিতে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে। আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারী চুড়ান্ত বিজয়ের হাসি কে হাসবে সেই কৌতুহল এখন তুঙ্গে। মূলত আওয়ামীলীগ ও বিএনপির প্রার্থী এবং বিদ্রোহী প্রার্থী নির্বাচনের মাঠে সক্রিয় থাকলেও নেই অন্য কোন রাজনৈতিক দলের প্রার্থী।

এদিকে আওয়ামীলীগ ও বিএনপিতে সম্প্রতি কিছু ঘটনার সমীকরণে নাটকীয় মোড় নিয়ে এই পৌরসভার ভোটের হিসাব নিকাশ পাল্টে দিচ্ছে। এর মধ্যে আজ মঙ্গলবার আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মোবারক হোসেন রতন মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেওয়ায় দলীয় মনোনয়ন পাওয়া দুইবারের মেয়র তাকজিল খলিফা কাজল ও তার সমর্থকরা রয়েছেন এখন খোশ মেজাজে। তারা ভেবেই নিয়েছেন রতন শাহ এর মনোনয়ন প্রত্যাহারে যদি ইতিবাচক কিছু প্রাপ্তি হয় সেটা কাজলের ঝুলিতেই জমা পড়বে। মনোনয়ন স্থগিতের পর আপিলের মাধ্যমে যুবলীগের নেতা মোঃ সফিকুল ইসলাম নিজের মনোনয়ন বৈধ করে নিয়ে এসে মাঠে থাকার ঘোষণা দিচ্ছেন তিনি।

পৌরসভার ভোট ব্যাংক হিসেবে খ্যাত দেবগ্রামের সন্তান হওয়ায় এই বিদ্রোহী প্রার্থী কে নিয়ে আওয়ামীলীগ ও বিএনপি প্রার্থীর ভোটের চিন্তা নতুন করে কষতে হবে। এদিকে সাবেক পৌর মেয়র আওয়ামীলীগ নেতা বিদ্রোহী প্রার্থী নুরুল হক ভূইয়া কে লাঞ্ছিত করে প্রশাসনের চাপে পড়ে সোহাগ মোল্লা স্বেচ্ছায় আত্নসমর্পণ করে এখন হাজত বাস করছেন। নুরুল হক ভূইয়ার আগে তেমন একটা প্রচার না থাকলেও একমাত্র ছেলে চিত্রনায়ক রোশান তার পিতার পক্ষে নির্বাচনী প্রচারনায় নামলে ব্যাপক সাড়া মেলে। দেশের জাতীয় দৈনিক পত্রিকা গুলো ফলাও করে তার প্রচারনা তুলে ধরে। সোহাগ মোল্লা কাজলের সমর্থক বলে প্রচারিত হওয়ার পর নুরুল হক ভূইয়া কে লাঞ্ছিতের বিষয়টি আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের কানে গেছে। এ ঘটনার পর যেমন নুরুল হক ভূইয়ার ব্যাপক প্রচার প্রসার হয়েছে তেমনি বিভ্রতকর অবস্থায় পড়ে কাজল ঐ সোহাগ মোল্লার পরিবার কে আর পাত্তা দিচ্ছে না।

রোশান তার ছবি নিয়ে ব্যস্ত সময় পাড় করলেও নির্বাচন কে সামনে রেখে তার পিতার পক্ষে প্রচারে নামবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন। ধারনা করা হচ্ছে তখন তার পিতার নির্বাচনী মাঠের ইমেজ অনেকটা বেড়ে যাবে। আওয়ামীলীগের নির্বাচন শিবিরের স্বস্তির হাওয়া বইলেও বিএনপির নির্বাচনী শিবিরে একটি কমিটি গঠন করা কে কেন্দ্র করে হঠাৎ করেই উপজেলা বিএনপি তছনছ হয়ে যায়। বিএনপি প্রার্থী হাজী জয়নাল আবেদীন আব্দু এই পরিস্থিতি দেখার জন্য মোটেই প্রস্তত ছিলেন না।

সবকিছু ঠিকঠাক এবং স্বাভাবিক ই ছিল। সদর উপজেলার বরিশল গ্রামের কবির ভূইয়া তার এক ভাই সানি লন্ডনে তারেক জিয়ার ব্যাক্তিগত সহকারী। এই সুবাদে তার আপন ভাই সেলিম ভূইয়া কে আখাউড়া পৌর বিএনপির আহবায়ক করে ৩১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি ঘোষণা করে। এ কমিটি ঘোষণার পর ক্ষোভে ফেটে পড়েন উপজেলার নেতা কর্মীরা। তাদের অভিযোগ সেলিম ভূইয়া সদর উপজেলার বাসুদেব ইউপি বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক। তিনি আখাউড়া পৌর রাজনীতির সাথে কোন সময় সম্পৃক্ত ছিলেন না। এরপরেই উপজেলা বিএনপি তে ভাংগন দেখা দেয়। একে একে ১১ জন নেতা কর্মী নবগঠিত পৌর বিএনপি কমিটি থেকে পদত্যাগ করেন। দলের টিকিটে নির্বাচনে গেলেও দল এখন এলোমেলো। এখন দল গোছাবেন নাকি নির্বাচনের মাঠে কাজ করবেন? এই প্রশ্ন যখন সামনে তখন জয়নাল আবেদীন আব্দুর একটাই ভরসা জনগণের মাজে আস্থা ও বিশ্বাস তেরী করা।

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।