মন্ত্রী মহোদয়কে বিতর্কিত করার জন্য অনেকেই বলে যে তিনি আমাকে অবৈধ সুবিধা দিচ্ছেন

২৮ জানুয়ারি, ২০২১ : ৪:১৮ অপরাহ্ণ ৫৬৪

তাকজিল খলিফা কাজল। তিনি আসন্ন আখাউড়া পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামীলীগের দলীয় মনোনয়নপ্রাপ্ত মেয়র প্রার্থী। একই সাথে তিনি গত দুইবারের পৌরসভা নির্বাচনে টানা দুইবারই মেয়র হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার বিরুদ্ধে কিছু অভিযোগ ও কিছু ব্যপার নিয়ে বিতর্ক রয়েছে সর্বত্র। এরই মধ্যে তার প্রতিদ্বন্ধী এক প্রার্থীকে তার সমর্থক জুতাপেটা করার বিষয়টিও সর্বত্র নিন্দার ঝড় তুলেছে। এইসব বিষয় নিয়ে তেপান্তরের মুখোমুখি হয়েছিলেন আখাউড়া পৌরসভার বর্তমান মেয়র তাকজিল খলিফা কাজল। তবে তিনি সবগুলো প্রশ্ন আগেই জেনে নিয়ে এর মধ্যে কিছু প্রশ্ন করা যাবেনা এই শর্তে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন তেপান্তরের কাজী আশরাফুল ইসলামমুস্তাফিজ চৌধুরী

 

তেপান্তর : কেমন আছেন? নৌকা প্রতীকের জন্য অভিনন্দন।

তাকজিল খলিফা কাজল: আলহামদুলিল্লাহ ভালো। ধন্যবাদ।

 

তেপান্তর: এখন পর্যন্ত নির্বাচনের পরিবেশ কেমন দেখছেন? তাছাড়া আপনার নির্বাচনী প্রচারনা কেমন চলছে?

কাজল : আমার দলীয় মনোনয়ন নিশ্চিত হবার পর থেকেই শহর জুড়ে নির্বাচনী আমেজ বইছে।দলীয় নেতাকর্মীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে আমার সাথে প্রচার প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন।নির্বাচন উপলক্ষে পৌর এলাকার সর্বত্রই এখন উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।

 

তেপান্তর : অভিযোগ আছে সাধারণ ভোটাররা এমনকি দলীয় স্থানীয় অনেক নেতাও আপনার প্রতি বিরক্ত এবং অখুশি।কি বলবেন?

কাজল : আমার স্থানীয় বাড়ি পাশ্ববর্তী উপজেলায় হওয়া স্বত্বেও আমি দুইবার এই পৌরসভার মেয়র নির্বাচিত হতে পেরেছি এবং এটি সম্ভবপর হয়েছে আখাউড়ার সাধারণ মানুষ আমাকে ভালোবাসে বলেই। আর দলের ভেতর যারা আমার বিরোধিতা করছে তাদের মধ্যে অনেকেই দলে অনুপ্রবেশকারী এবং দলের দুঃসময়ে তাদের অনেকেই রাজপথে ছিলেন না। আমার জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে তারা নানা ধরনের অযাচিত কথাবার্তা বলে।

 

তেপান্তর : আপনি গত ২ টার্ম ধরে মেয়র আছেন। জনগণের প্রত্যাশা কি পূরণ করতে পেরেছেন?

কাজল : শতভাগ প্রত্যাশাতো আসলে পূরন করা সম্ভব হয় না, কারন আমাদের অনেক সীমাবদ্ধতা থাকে। যেমন ধরুন আমলাতান্ত্রিক জটিলতা,অর্থের স্বল্পতা, প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতি,ঠিকাদারদের স্বেচ্ছাচারিতা ইত্যাদি। তবে আমি জনগণের প্রত্যাশা পুরনের জন্য যথাসম্ভব চেষ্টা করেছি।

 

তেপান্তর : পৌরসভাকে স্বনির্ভর করতে পেরেছেন কি?

কাজল : হ্যা,অবশ্যই পেরেছি। করোনাকালীন সময়ে দেশের অনেক পৌরসভা কর্মকর্তা কর্মচারীদের বেতন ভাতা পরিশোধে ব্যার্থ হলেও আমি এই পৌরসভার সকল কর্মচারীদের বেতন ভাতা চালু রেখেছি। আমি দায়িত্বে থাকাকালীন প্রায় প্রতি বছরই প্রকল্প বাস্তবায়নের ব্যয় নির্বাহ করার পর পৌরসভার তহবিলে আয় হিসেবে উদ্ধৃত অর্থ জমা হচ্ছে।

 

তেপান্তর: গত দশ বছরে আপনার উল্লেখযোগ্য সফলতা গুলো কি কি?

কাজল: এই মুহুর্তে সবগুলো বলা হয়তো সম্ভব হবে না। তবে পৌর এলাকায় অসংখ্য ছোট বড় সড়ক নির্মাণ করেছি কিন্তু কোনটিই নিজের নামে নামকরণ করিনি।বরঞ্চ সেগুলো বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নামে নামকরণ করেছি। তাছাড়াও বছরের দুই ঈদে পৌরসভার পক্ষ থেকে তাদের জন্য বিশেষ ঈদ উপহার পাঠানোর ব্যাবস্থা করেছি। আমিই সারাদেশে প্রথমবারের মতো পৌরসভার সকল ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে দায়িত্বরত ইমাম,মুয়াজ্জিন ও পুরোহিতদের জন্য বিশেষ ভাতা চালু করেছি।

 

তেপান্তর: আপনার বিরোধী প্রার্থী নুরুল হক এর সাথে একটি মানহানিকর /বিব্রতকর ঘটনা ঘটেছে,তার অভিযোগ আপনার প্ররোচনায় এটি হয়েছে,এব্যাপারে কি বলবেন?

কাজল : এই ঘটনার সময় আমি এলাকায় ছিলাম না। তবে শুনেছি আমি দলীয় মনোনয়ন পাবার পর আমার সমর্থকেরা শহরে আনন্দ মিছিল বের করে। তখন মিছিলকারীদের উদ্দেশ্য করে তিনি নাকি উস্কানিমূলক কিছু বলেছিলেন। এসব নিয়েই মিছিলকারী কারও সাথে হয়তো উনার সামান্য বাকবিতন্ডা হয়। তবে এধরনের ঘটনা ঘটাতে আমি কাউকে প্ররোচিত করার প্রশ্নই আসে না।

 

তেপান্তর: তিনি আরও অভিযোগ করেছেন দুদক আপনার বিরুদ্ধে তদন্ত করছে, কিন্তু আপনি মন্ত্রী মহোদয়ের দ্বারা সে তদন্ত স্থগিত করে রেখেছেন? এমনকি মন্ত্রী মহোদয়ের নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন অবৈধ সুযোগ সুবিধা নিচ্ছেন?

কাজল: উনি বয়সের ভারে উদ্ভট কথা বার্তা বলে বেড়াচ্ছেন। তবে দুদক আমার বিরুদ্ধে তদন্ত করেছিল যে তা সত্য। কিন্তু প্রতিবারই এইসব অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে প্রমাণিত হয়েছে। রহস্যজনক কারণে দুদক একই চিঠি আমাকে বারংবার প্রেরন করেছে। এবং এব্যাপারটি আমি উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি। আমি মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়ের স্নেহধন্য ও বিশ্বস্ত কর্মী বিধায় উনি একজন অবিভাবক হিসেবে আমাকে বিভিন্ন ব্যাপারে দিকনির্দেশনা দিয়ে থাকেন। কিন্তু মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়কে বিতর্কিত করার জন্য অনেকেই বলে বেড়ায় যে তিনি আমাকে অবৈধ সুবিধা দিচ্ছেন। এসব কিছু বানোয়াট বক্তব্য ও গুজব বৈ আর কিছু না।

 

তেপান্তর: আপনার পরিবার এবং ঘনিষ্ঠজনদের বিরুদ্ধে মানবজমিন পত্রিকায় একটি রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছিল, এব্যাপারে কি বলবেন?

কাজল: একটি কুচক্রী মহল আমার সফলতায় ঈর্ষান্বিত হয়ে পরিকল্পিতভাবে মিথ্যে ও বানোয়াট বক্তব্য দিয়ে আমি ও আমার পরিবারের ইমেজ ক্ষুন্ন করার জন্য এই প্রতিবেদনটি করিয়েছিল।

 

তেপান্তর : অভিযোগ আছে প্রতিবেদনটি প্রকাশের দিন মানবজমিন পত্রিকা আখাউড়ায় ঢুকতে দেয়া হয়নি কিংবা আপনার ঘনিষ্ঠজনরা সব কিনে নিয়েছিল যাতে এগুলো সাধারণ মানুষের নাগালের বাহিরে থাকে, কি বলবেন?

কাজল: এসব হাস্যকর কথাবার্তা! পত্রিকা কী চাইলেই সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে রাখা যায়? আর কেউ যদি তখন এসব করার চেস্টা করে থাকে তাহলে তারা অতিউৎসাহী এবং তারা তাদের নির্বুদ্ধিতার পরিচয় দিয়েছে।

 

তেপান্তর: অনেকেই বলছেন ওই পত্রিকার রিপোর্টের তথ্য এবং অভিযোগগুলো সঠিক। সাধারণ ভোটাররা আপনার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন এবং আপনি বিজয়ী হলে কেবল মন্ত্রী মহোদয়ের কৃপায় হবেন! এব্যাপারে কি বলবেন?

কাজল: আমি আগেও বলেছি যে ঐ রিপোর্টের অনেক তথ্য ও অভিযোগই ছিল উদ্দেশ্যপ্রনোদিত। আমি ২০০২ সাল থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত মোট পাঁচবার নির্বাচন করেছি। দলের নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটারদের সমর্থন আর ভালোবাসা না থাকলে আমি কিছুতেই পুনরায় দলীয় মনোনয়ন পেতাম না। আশা করি ভোটাররা ব্যালটের মাধ্যমেই তা প্রমাণ করবে।

 

তেপান্তর: আপনার ইশতেহার কি প্রকাশ করেছেন?

কাজল : না, এখনো প্রকাশ করিনি। তবে খুব শীঘ্রই করবো।

 

তেপান্তর: আপনার ইশতেহারে উল্লেখযোগ্য কি কি থাকছে?

কাজল: বিদ্যমান রাস্তাঘাট উন্নয়ন ও ড্রেনেজ ব্যাবস্থা আধুনিকায়নের মাধ্যমে একটি সুপরিকল্পিত ও পরিচ্ছন্ন শহর গড়ার পরিকল্পনাগুলো উল্লেখ থাকবে।

 

তেপান্তর: পুনরায় বিজয়ী হলে পৌরবাসীর জন্য উল্লেখযোগ্য কি কাজ করতে চান?

কাজল: এখনই আসলে সবকিছু বলা সম্ভব হচ্ছে না। তবে পৌরসভার মার্কেট নির্মাণ কাজটি পুনরায় চালু করবো। বর্তমান সরকার এডিবির অর্থায়নে, নগর উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় কিছু পৌরসভায় প্রায় একশ বিশ কোটি টাকার মহাপরিকল্পনা হাতে নিচ্ছে। আখাউড়া পৌরসভায় যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এই প্রকল্পের কাজ শুরু করার চেষ্টা করবো।

 

তেপান্তর: যদি দিতে বলি গত দশ বছরে আপনার কাজের মূল্যায়নে আপনি নিজেকে ১০ এর মধ্যে কত মার্ক দিবেন?

কাজল : এই প্রশ্নের উত্তরটি আমার পরিবর্তে পৌর এলাকার সাধারণ মানুষ দিলে ভালো হবে। তবে, আমি নিজেকে অবশ্যই পূর্ণ নম্বর দেব। কারন এই দীর্ঘ সময় ধরে আমি আমার দায়িত্ব পালনে সদা তৎপর ছিলাম।নিরলসভাবে কাজ করেছি বলেই হয়তো নিজের উপর আমি সন্তুষ্ট।

 

তেপান্তর : আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ,এই ব্যস্ত সময়ে আমাদেরকে সময় দেয়ার জন্য।পৌরবাসীর সেবক হওয়ার প্রতিযোগিতায় আপনার জন্য শুভকামনা রইল।

কাজল : আপনাকেও অনেক ধন্যবাদ।

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।