ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে এক বছর যাবত বন্ধ চোখের অপারেশন

৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ : ৩:৩৯ অপরাহ্ণ ৬৮০

কাজী আশরাফুল ইসলাম: দীর্ঘ প্রায় এক বছর যাবত বন্ধ রয়েছে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া (সদর) জেনারেল হাসপাতালের চক্ষু বিভাগের যাবতীয় সার্জারী কার্যক্রম। সরকারিভাবে চোখের ছানি অপারেশন বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। সদর হাসপাতালে অপারেশনের জন্য প্রয়োজনীয় সকল যন্ত্রপাতি থাকা স্বত্বেও হাসপাতালের চক্ষু বিভাগের সার্জারী বিশেষজ্ঞ পদটি শূন্য থাকায় এই অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। সর্বশেষ এই পদে দায়িত্ব পালন করেছেন চক্ষু সার্জারী বিশেষজ্ঞ ডাঃ ইয়ামলি খান। তিনি বদলি হয়েছেন প্রায় এক বছর হলো। নতুন করে সার্জারী বিশেষজ্ঞ কেউ উনার স্থলাভিষিক্ত না হওয়ায় বন্ধ হয়ে গেছে ছানি অপারেশনসহ চোখের সকল প্রকার সার্জারী কার্যক্রম।

সরকারিভাবে অপারেশন কার্যক্রম বন্ধ হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। কারন সরকারিভাবে চক্ষু অপারেশনের খরচ ছিল নামমাত্র। তাছাড়াও বিভিন্ন ক্যাম্পেইনের আওতায় সদর হাসপাতালে নিয়মিত বিনামূল্যে চোখের ছানি অপারেশন করতে পারতেন দরিদ্র মানুষ। সরকারি হাসপাতালে অপারেশন বন্ধ থাকায় বাধ্য হয়েই বেসরকারি হাসপাতালে চোখের অপারেশন করাতে বাধ্য হচ্ছেন সাধারণ মানুষকে। ফলেগুনতে হচ্ছে মোটা অংকের টাকা।

অভিযোগ রয়েছে,সরকারিভাবে অপারেশন বন্ধ থাকার সুযোগ নিচ্ছে বেসরকারি চক্ষু হাসপাতালগুলো। ছানি অপারেশনের পর প্রয়োজনীয় ল্যান্সের মূল্য সম্পর্কে সাধারণ রোগীদের কোন ধারণা না থাকায় তারা অতিরিক্ত টাকা প্রদান করতে বাধ্য হচ্ছেন।
জেলা শহরের বেসরকারি একটি চক্ষু হাসপাতালে চোখের ল্যান্সের মূল্য সম্পর্কে যাচাই করতে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে জাপানী,চায়না,আমেরিকান,ভারতীয়সহ বিভিন্ন দেশের প্রোডাক্ট হিসেবে নামকরণ করে পন্যভেদে পাচ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ত্রিশ হাজার টাকা মূল্যের ল্যান্স দিয়ে অপারেশন করা হচ্ছে। বেশিরভাগ রোগীই ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা মূল্যের ল্যান্স নিতেই আগ্রহ প্রকাশ করছেন। অথচ আদতে ল্যান্সের মূল দাম এবং মানের ব্যাপারে রোগীরা অন্ধভাবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে বিশ্বাস করছেন।

ঐ হাসপাতালে সদ্য চোখের ছানি অপারেশন করা এক নারীকে প্রশ্ন করা হয়েছিল অপারেশনের খরচ এবং ল্যান্সের দাম সম্পর্কে। জবাবে তিনি বলেন,”হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলেছে সাধারণ ল্যান্স দিয়ে অপারেশন করালে ১০ থেকে ১৫ হাজার আর ভালো মানের ল্যান্স দিয়ে অপারেশন করালে ২৫ হাজার টাকা লাগবে। শেষ পর্যন্ত আমি ২২ হাজার টাকার বিনিময়ে এই হাসপাতালেই ঢাকার ডাক্তার দিয়ে অপারেশন করিয়েছি।হাসপাতালের কর্তৃপক্ষই ভালো জানে তারা কত টাকা দামের ল্যান্স ব্যাবহার করছে।”

সদর হাসপাতালের ছানি অপারেশন বন্ধ থাকার বিষয়টি স্বীকার করে সদর জেনারেল হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডাঃ শওকত হোসেন তেপান্তরকে বলেন, “সরকারিভাবে সারাদেশেই চোখের সার্জারী বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের স্বল্পতা রয়েছে। আমরা আমাদের শূন্য পদটির জন্য ইতিমধ্যে কয়েকবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করেছি। আশা করছি খুব শীঘ্রই চোখের অপারেশন পুনরায় চালু হবে।”

জেলার সর্ববৃহৎ সরকারি হাসপাতালের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদ দীর্ঘদিন শূন্য থাকার কারন জানতে চাইলে ব্রাহ্মনবাড়িয়া জেলার সিভিল সার্জন একরামুল্ল্যাহ বলেন, ” আমরা প্রতি মাসেই সকল শূন্য পদে পদায়নের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাঠাচ্ছি।চক্ষু অপারেশনের জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ব্যাতিত এই কার্যক্রম চালু করা যাবেনা।সরকারি ভাবে শূন্য পদে কাউকে পদায়ন না করা হলে নিশ্চিত করে বলতে পারছি কবে নাগাদ আবার অপারেশন শুরু হবে। ” সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সদর হাসপাতালে সরকারিভাবে চোখের অপারেশন শুরু হবে।

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।