নির্বাচনের পরিবেশ বলতে একরকম ত্রাস সৃষ্টি করে রাখা হয়েছে

৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ : ১২:৪৭ অপরাহ্ণ ১১২৬

সারাদেশে স্থানীয় পর্যায়ে পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তারই ধারাবাহিকতায় তৃতীয় পর্যায়ে ১৪’ই ফেব্রুয়ারী আখাউড়ায় পৌর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচনের অন্যতম প্রার্থী বিএনপি থেকে মনোনীত জয়নাল আবেদিন আব্দু। নির্বাচনের পরিবেশ,প্রচার-প্রচারণা,তাদের দলীয় কোন্দল এবং ভোটারদের প্রতিক্রিয়া নিয়ে তেপান্তরের সাথে একান্তে কথা বলেছেন তিনি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন কাজী আশরাফুল ইসলামমোস্তাফিজ চৌধুরী

তেপান্তর: কেমন আছেন? ধানের শিস প্রতীকের জন্য অভিনন্দন।

জয়নাল আবেদিন: ভাল আছি,ধন্যবাদ

 

তেপান্তর: নির্বাচনী প্রচারনা কেমন চলছে?

জয়নাল আবেদিন: আপনারা জানেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদি দল(বিএনপি) থেকে আমাকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। প্রতীক বরাদ্দ হওয়ার পর থেকেই প্রচার-প্রচারণা চালানোর চেষ্টা করে যাচ্ছি, কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, ক্ষমতাসীনদের পক্ষে ত্রাস সৃষ্টি করে রাখা হয়েছে বিভিন্নভাবে বাধার সম্মুখীন হচ্ছি।

 

তেপান্তর: প্রচারণা চালাতে কেমন ধরনের সমস্যা বা বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন? নির্বাচনের পরিবেশ কেমন দেখছেন?

জয়নাল আবেদিন: দেখুন আমি একটি বৃহত্তর দলের প্রার্থী, কিন্তু আমি প্রতীক পাওয়ার পর নিজ বাড়িতে স্থানীয় নেতাকর্মী এবং মুরুব্বিদের নিয়ে পরামর্শ সভার আয়োজন করি যেখানে প্রায় ৬০/৭০ জন উপস্থিত ছিলেন। সভায় কোন মাইক ব্যবহার করা হয়নি। কিন্তু ওই সভায় আমার স্বাগত বক্তব্য দেয়ার সাথে সাথেই মাননীয় নির্বাহী মাজিস্ট্রেট এসে সভা বন্ধের নির্দেশ দেন। কারণ হিসেবে বলেন আমি কোন অনুমতি নেয়নি। আমি তাকে বললাম আমি একজন মেয়র প্রার্থী আমার বাড়িতে এমনিতেই জনসমাগম থাকবে, তাছাড়া আমি কোন নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গ করি নাই। উত্তরে তিনি বলেন, আমাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করতে বাধ্য করবেন না। তখন বাধ্য হয়ে উক্ত সভা ভেঙে দেয়। পুরো ঘটনাটি ডিএসবির এএসআই মোস্তফা সাহেব প্রত্যক্ষ করেছেন। তাছাড়া আমার পৌরসভায় ৯ টি ওয়ার্ড রয়েছে,১নং ওয়ার্ডে আমার সমর্থকরা একটি অফিস দিতে গিয়ে বাধার সম্মুখীন হলে আমি বর্তমান মেয়র কাজল সাহেবকে ফোন করে বিষয়টি অবগত করলে তিনি বলেন এব্যাপারে তিনি কিছু জানেন , এটা সেখানের গ্রাম্য ব্যাপার বলে জানান। যাইহোক তারপরও যেভাবেই হোক আমার সমর্থকরা অফিস তৈরী করে যা আমি উদ্ভোধন করে আসি। কিন্তু সন্ধ্যার পরপরই সেটা ভেঙে ফেলা হয়।ঘটনার সাথে সাথে আমি ওসি সাহেবকে ফোন করলে তিনি বলেন কারা করেছে নাম দেন,আমি বললাম নামতো বলতে পারবোনা তাছাড়া কারা করেছেন এটাতো আপনি বের করার কথা। তখন তিনি আমাকে রিটার্নিং অফিসারের নিকট লিখিত অভিযোগ দিতে বলেন।নির্বাচনের পরিবেশ বলতে একরকম ত্রাস সৃষ্টি করে রাখা হয়েছে।

 

তেপান্তর: ভোটারদের কাছ থেকে কেমন রেসপন্স পাচ্ছেন?

জয়নাল আবেদিন: আলহামদুলিল্লাহ, ভোটারদের রেসপন্স খুবই আশাব্যঞ্জক। তবে তাদের মধ্যে ভয় তারা ভোট দিতে পারবে কিনা।

 

তেপান্তর: এবার প্রথমবারের মতো পৌরসভায় ইভিএমে ভোট হবে। ইভিএম নিয়ে কী ভাবছেন?

জয়নাল আবেদিন: দেখুন ইভিএম এ ভোট হওয়ায় ভোটাররা কিছুটা স্বস্তি পাচ্ছে, তবে শঙ্কার বিষয় হচ্ছে কেন্দ্রে ভোটাররা ফিংগার দেয়ার সাথে সাথেই ভিতরে নৌকার লোকেরা ভোট কাস্ট করে ফেলতে পারে এবং ভোটাররা এব্যাপারে খুবই শঙ্কিত।

 

তেপান্তর: ইশতেহার প্রকাশ করেছেন? করে থাকলে গুরুত্ব পেয়েছে কোন কোন বিষয় গুলো?

জয়নাল আবেদিন: না,এখনো করিনি।

 

তেপান্তর: নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটারদের কী ধরনের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন?

জয়নাল আবেদিন: দেখুন, আমার প্রথম কথাই হচ্ছে পৌরসভাকে মাদকমুক্ত করা। আর বিগত সময়ের সকল অনিয়ম দূর করা।

 

তেপান্তর: অভিযোগ আছে আপনার ঘনিষ্ঠ অনেকেই মাদকের সাথে যুক্ত আছে কিংবা ছিল,কি বলবেন?

জয়নাল আবেদিন: আমি হলফ করে বলতে পারি আমার পরিবার এবং ঘনিষ্ঠ কেউ মাদকের সাথে কোন ধরনের সম্পৃক্ততা নেই। এমনকি আমার ছেলেরা কেউ ধূমপানও করে না।

 

তেপান্তর: অভিযোগ আছে আপনারা ঠিকভাবে প্রচার প্রচারণা না চালিয়ে ঢালাওভাবে অভিযোগ দিচ্ছেন।

জয়নাল আবেদিন: এটাতো তারা বলবেই কারণ তারা তাদের যে ত্রাসের রাজত্ব সেটা টিকিয়ে রাখতে চায়। আপনি আমার নিজের ৬ নং ওয়ার্ডে ঘুরে দেখুন আমার কোন অফিস দেখবেন না কারণ আমাকে করতে দেয়া হয়নি। অথচ নৌকার প্রার্থীর ৫টির অধিক অফিস করা হয়েছে। নির্বাচনের আচরণবিধি অনুযায়ী যেখানে ৯টি ওয়ার্ডে কেবল ৫টি অফিস করার কথা।

 

তেপান্তর: রিটার্নিং অফিসারের কাছে লিখিত কোন অভিযোগ দিয়েছেন কি?

জয়নাল আবেদিন: না,কার কাছে দিব বলেন?

 

তেপান্তর: আপনার দল বিএনপির এবং অংগসংগঠনগুলোর কাছ থেকে কেমন সহযোগিতা পাচ্ছেন? জেলার বা কেন্দ্রের কোন নেতা কি আপনার প্রচার প্রচারণায় অংশগ্রহণ করছেন?

জয়নাল আবেদিন: জেলার নেতারা প্রচারণায় অংশগ্রহণ এখনো করেনি তবে শীঘ্রই করবেন।

 

তেপান্তর: বলা হয় আপনার দলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্ধই আপনাকে পিছিয়ে রেখেছে, কি বলবেন?

জয়নাল আবেদিন: এটা সত্য যে আমাদের কিছুটা দ্বন্দ্ব আছে এবং দলের একটা অংশ দূরে সরে আছে। তবে আমি তাদের সাথে প্রতিনিয়ত যোগাযোগ করে যাচ্ছি, তাদের বলছি আমি ব্যক্তি কোন ব্যাপার না কিন্তু আমাদের দল এবং দলের প্রতীকের জন্য হলেও মিলেমিশে কাজ করতে হবে। আশা করি তারা দ্রুতই মাঠে নেমে পড়বেন।

 

তেপান্তর: বিজয়ী হলে পৌরবাসীর জন্য উল্লেখযোগ্য কি কাজ করতে চান?

জয়নাল আবেদিন: মাদকের কথাতো বললাম,তাছাড়া ট্যাক্সটা সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে আসব,আর রাস্তা, কালভার্ট-ব্রিজ এগুলোর কাজতো আছেই।

 

তেপান্তর: আপনার পৌরসভা দেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় আইন বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আনিসুল হকের নির্বাচনী এলাকা,এব্যাপারে মাননীয় মন্ত্রীর নিকট আপনার প্রত্যাশা কি?

জয়নাল আবেদিন: আমি মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়কে অত্যন্ত বিনয়ের সহিত বলতে চাই,এটা স্থানীয় সরকার নির্বাচন। এখানে আপনার সম্মান রক্ষার্থে একটা অবাধ,সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার ব্যাবস্থা করতে সর্বোচ্চ সহায়তা করেন। এমনকি আমি প্রশাসনের কর্তা ব্যাক্তিদেরও একই কথা বলব। কেননা অনেকের মাধ্যমে জানতে পেরেছি নির্বাচনের ২/৩ দিন আগে রাস্তায় পুরনো মোটরসাইকেল এবং স্কুটিতে আগুন ধরিয়ে আমার পরিবার এবং নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে গ্রেফতার এবং হয়রানি করা হবে এবং আমি নিজেও একই শঙ্কায় আছি।

 

তেপান্তর: বর্তমান মেয়রসহ আপনার অন্য প্রতিদ্বন্দী প্রার্থীদের ব্যাপারে আপনার মূল্যায়ন কি?

জয়নাল আবেদিন: দেখুন আমি কারো বিরুদ্ধে বলবনা।মূল্যায়ন করবেন ভোটাররা।

 

তেপান্তর: আপনার প্রতিদ্বন্দীদের চেয়ে নিজেকে কোন কোন ক্ষেত্রে এগিয়ে রাখবেন?

জয়নাল আবেদিন: এক্ষেত্রে আমি বলব আমি একজন নির্লোভ,নিরহংকার,সৎ মানুষ। আমি এলাকায় একজন সালিশকারক। আমার কাছে দল মত নির্বিশেষে সবাই সমান। আমারে কোন দূর্নীতিতে পাবেন না।

 

তেপান্তর: ধন্যবাদ এই ব্যস্ত সময়ে আমাদেরকে সময় দেয়ার জন্য,পৌরবাসীর সেবক হওয়ার প্রতিযোগিতায় আপনার জন্য শুভকামনা রইল।

জয়নাল আবেদিন: আপনাকেও ধন্যবাদ।

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।