বাঞ্ছারামপুর থানা থেকে লোক ছাড়াতে আ’লীগ নেতা নিলেন দেড় লাখ টাকা!

২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ : ৪:০৫ অপরাহ্ণ ২৫৮

আশরাফুল মামুন: অজ্ঞাত কারণে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর থানায় নারীসহ একটি দরিদ্র পরিবারের চার সদস্যকে বাড়ি থেকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। পরে থানা থেকে কোন আর্থিক লেনদেন ছাড়াই তাদের ছেড়ে দেওয়া হলেও আরিফ বিল্লাহ নামে এক আওয়ামীলীগ নেতা তাদের কাছ থেকে জোর করে ভয় ভীতি দেখিয়ে ১ লাখ ৪৯ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই টাকা তাদের ছাড়াতে পুলিশ কে দিয়েছেন বলে ঐ নেতা দাবি করেন। যদিও অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্ট আওয়ামী লীগ নেতা। টাকা ফেরত চেয়ে ভুক্তভোগী উপজেলার চর মরিচাকান্দি গ্রামের সেলিম মিয়া এবিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ নবীনগর সার্কেল এএসপির কাছে দায়ের করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার সোনারামপুর ইউনিয়নের চর মরিচাকান্দি গ্রামের হতদরিদ্র হক সাহেবের বাড়িতে গত বছরের ১ নভেম্বর রাত দেড়টার সময় বাঞ্ছারামপুর মডেল থানার এসআই রফিকুল ইসলামের নের্তৃত্বে অভিযান চালিয়ে সেলিম মিয়া, তার ভাই হালিম মিয়া, তার স্ত্রী স্মৃতি বেগম এবং মামাতো ভাই মোস্তফাকে ওসি ডেকেছেন বলে থানায় নিয়ে যান এবং ৪ নভেম্বর দুপুর পর্যন্ত আটকে রাখেন। পরে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। আটকৃতরা ছাড়া পেয়ে মোবাইল সহ অন্যন্যা ব্যবহৃত জিনিসপত্র পুলিশের কাছে ফেরত চাইলে জানিয়ে দেওয়া হয় এগুলো মরিচাকান্দী গ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা আরিফ বিল্লাহর কাছে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু আরিফ বিল্লাহর কাছে গেলে তাদের কাছ থেকে ভয় ভীতি প্রদর্শন করে উক্ত টাকা হাতিয়ে নেন বলে অভিযোগ করেন।

অভিযোগকারী সেলিম মিয়া বলেন, বাঞ্ছারামপুর থানার দারোগা রফিক, আরশাফুল ও মনিরসহ আরো কয়েকজন পুলিশ বিনা কারণে আমাদের গ্রামের আরিফ বিল্লাহ মানিকের উপস্থিতিতে আমার তিন ভাই ও ভাইয়ের বউকে ওসি স্যার ডেকেছে বলে থানায় নিয়ে যায়। আরিফ বিল্লাহ মানিক আমাদের থানা থেকে ছাড়াতে টাকা লাগবে বলে আমার পরিবারকে জানান। পরে ধারদেনা ও সুধে এনে চারদিন পর আমার মা আরিফ বিল্লাহ মানিককে ১ লাখ ৪৯ হাজার টাকা দিলে পুলিশ আমাদের সাদা কাগজে স্বাক্ষর রেখে থানা থেকে ছেড়ে দেয়।

চর মরিচাকান্দি গ্রামের উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আরিফ বিল্লাহ মানিক জানান, ‘তাদের ছাড়িয়ে আনতে আমি থানা গিয়েছিলাম, তবে তাদের কাছ থেকে কোন টাকা নেইনি। তাদের মোবাইল ও জতীয় পরিচয়পত্র আমার কাছে নেই। তাদের কোনো রকমের ভয়ভীতি আমি দেখাইনি, এটা মিথ্যা কথা।’

এব্যাপারে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার( নবীনগর সার্কেল) মকবুল হোসেন জানান, চর মরিচাকান্দি গ্রামের সেলিম মিয়ার একটি অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি আমি জানি। তাদের আমি আটক করতে বলেছিলাম, কারণ সেলিমের বোনজামাই হান্নান ডাকাতির সঙ্গে জড়িত রয়েছে এমন তথ্য আমাদের কাছে ছিল। হান্নান শ্বশুরবাড়িতে থেকে ডাকাতি করতেন। এতদিন এই বিষয়ে কেউ কোনো কথা বলেনি। এখন যেহেতু অভিযোগ পেয়েছি বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

  • 61
    Shares