নবীনগরে শিশু ধর্ষণ করে গর্ভপাতের অভিযোগে গ্রেপ্তার ১

১ মার্চ, ২০২১ : ৫:৫৮ অপরাহ্ণ ৫৩৫

মো. সফর মিয়াঃব্রা‏হ্মণবাড়িয়ার নবীনগর পশ্চিম ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড চরলাপাং নতুন পাড়ার এক নাবালিকা মেয়ে (১২) কে ধর্ষণ করে তারই আত্মীয় মো. বাবুল মিয়ার ছেলে মো. রনি মিয়া (১৯)। এতে ওই নাবালিকা মেয়ে অন্ত:সত্ত্বা হয়ে পড়লে রনি ও তার পরিবারের লোকজন তার (ধর্ষিতার) অবৈধ গর্ভপাত করান। এ বিষয়ে পিতা আক্তার হোসেন ৫ জনকে আসামি করে নবীনগর থানায় একটি এজাহার দাখিল করলে তদন্তকারী কর্মকর্তা এস.আই মনির হোসেন ২৮ ফেব্রুয়ারী রবিবার রাতে মূল আসামী রনিকে গ্রেপ্তার করে এবং সোমবার দুপুরে তাকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করে।

এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ধর্ষণের শিকার শিশুটির পিতা পেশায় একজন জেলে। মাথা গোজার ঠাঁই হিসেবে নিজের ভিটে বাড়ি ছাড়া তেমন কিছুই নাই। ছোট একটি বসতঘরে পরিবারের সকল সদস্যদের নিয়ে কোন রকম দিনাতিপাত করছেন তিনি । জেলে পেশার কারণে প্রায় রাতেই তিনি বাড়িতে থাকতেন না। ওই সুযোগে গত ০২/০৯/২০২০ইং তারিখে পাশ্ববর্তী মো. বাবুল মিয়ার ছেলে মো. রনি মিয়া, আক্তার হোসেন এর নাবালিকা মেয়েকে হত্যার ভয় দেখিয়ে তাদের নিজ ঘরে নিয়ে জোর পূর্বক ধর্ষণ করে এবং একই কায়দায় রনি সেই মেয়েকে একাধিকবার ধর্ষণ করে বলে জানা যায়। এ অবস্থায় মেয়েটি অন্ত:সত্ত্বা হয়ে পড়লে গত ২৩/০২/২০২১ইং তারিখে রনি ও তার পরিবারের লোকজন উপজেলার মুক্তি প্রাইভেট হাসপাতালে নিয়ে গর্ভপাত করায়। এতে ওই নাবালিকা মেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়লে পরদিন নবীনগর সদরে বড় বোন তানিয়ার ভাড়াটিয়া বাসায় রেখে রনি তার পরিবারের লোকজন গা ঢাকা দেয়।

পরে বড় মেয়ের ফোন পেয়ে শিশুটির পিতা ঘটনা জানতে পেরে দ্রুত মেয়ের চিকিৎসার ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। এ বিষয়ে মেয়েটির পিতা বাদী হয়ে ২৮ ফেব্রুয়ারী রবিবার নবীনগর থানায় একটি এজাহার দাখিল করলে আসামী রনিকে গ্রেপ্তার করে সোমবার দুপুরে তাকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করে।

গর্ভপাতের বিষয়ে জানতে মুক্তি প্রাইভেট হাসপাতালের মালিক মো. হাবিব জানান, আমার প্রতিষ্ঠানে এই ধরণে অবৈধ কাজ করা হয় না। কোন কুচক্রী মহল আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করতে আমার বিরুদ্ধে এই ষড়যন্ত্র করতে পারে বলে আমার ধারণা।

এ বিষয়ে নবীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আমিনুর রশিদ জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে মূল আসামীকে গ্রেপ্তার করে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। ভিকটিমকে মেডিক্যাল টেষ্টের জন্য আগামীকাল জেলা সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হবে।

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।