প্রাণের তিতাস এখন ভোগান্তির আরেক নাম

১৪ মার্চ, ২০২১ : ১২:১৩ অপরাহ্ণ ৭৮৩

সীমান্ত খোকন: “তিতাস একটি নদীর নাম” উপন্যাসের জনক অদৈত্য মল্ল বর্মনের সেই তিতাস এখন অনেকটাই পাল্টে গেছে। এখন আগের মতো তিতাস নদীকে কেন্দ্র করে জিবিকা নির্বাহ করা মানুষের সংখ্যা কমেছে, তবে বেড়েছে নদী দখলদার মানুষের সংখ্যা। এর ফলে তিতাস নদী অস্তিত্ব সঙ্কটে পড়েছে। তবে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঐতিহ্যবাহী এই তিতাস নদীতে এরই মধ্যে বাড়তি ঝামেলা যোগ হয়েছে, আর তা হলো “কচুরিপনা”। বছরের এই সময়টাতে তিতাস নদী ভর্তি হয়ে যায় কচুরিপনায়। এর স্থায়ীত্ব থাকে অন্তত জুন-জুলাই মাস পর্যন্ত। এই দীর্ঘ সময়ে নদীর ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহর ও তার আশপাশের অংশে কোন প্রকার নৌকা চলাচল করতে পারেনা, জেলেরা মাছও ধরতে পারেনা। তবে এর মধ্যে সবচেয়ে বড় যেই সমস্যাটি তা হলো, নদীর উপারের কয়েকটি গ্রামের অন্তত ত্রিশ হাজার মানুষ সহজে নদী পাড় হয়ে যাতায়ত করতে পারেনা। ফলে নদীতে অচলাবস্থা তৈরি হয়। নদীতে কোন সেতু না থাকায় বারো মাসই ওইসব এলাকার মানুষের যাতায়াতের একমাত্র ভরসা নৌকা। কিন্তু বছরের এই সময়ে নদীর জলে অতিরিক্ত কচুরিপনা তৈরি হওয়ার কারনে নৌকা দিয়েও সহজে নদী পাড় হওয়া যায়না। ফলে সদর উপজেলার মজলিশপুর ইউনিয়নের বাকাইল, শ্যামপুর,আনন্দপুর ও চানপুর গ্রাম ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের ওপারের রিষি পাড়ার মানুষদের চরম ভুগান্তিতে পড়তে হয়।

তবে সম্প্রতি মজলিশপুর ইউনিয়নের বাকাইল গ্রামের বিপরিতে নদীর ওপারের গ্রাম শ্যামপুর,আনন্দপুর ও চানপুরের গ্রামবাসী মিলে তৈরি করেছেন নৌকার ভাসমান সেতু। জীবনের ঝুকি নিয়ে এই সেতু দিয়েই প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ চলাচল করেন। এর মধ্যে নরী,শিশু ও স্কুল পড়–য়া শিক্ষার্থীও রয়েছে। এই নৌকার সেতু দিয়ে নদী পাড় হতে গিয়ে মাঝে-মধ্যেই ঘটছে দূর্ঘটনা। সেইসব নৌকা কোন কোন পরিবারের একমাত্র রোজগারের অবলম্বন। কিন্তু সেই নৌকা দিয়ে সেতু বানিয়েছেন তারা। কুচুরিপনার এই শক্ত ঝট থাকে অন্তত ৪/৫ মাস। আর এই পুড়ো সময়টা তাদের এভাবেই পাড় হতে হবে।

মজলিশপুর ইউনিয়নের বাকাইল,শ্যামপুর,আনন্দপুর ও চানপুর এলাকার বাসিন্দারা বলছেন, বছরের পর বছর জনপ্রতিনিধিরা এখানে একটি সেতু তৈরি করার আশ্বাস দিলেও এখনো সেটা করা হয়নি। ফলে মানুষের ভুগান্তিও কমছেনা। তারা অচিরেই এই এলাকায় একটি সেতু তৈরির মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান চান।

এবিষয়ে মজলিশপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তাজুল ইসলাম কোন বক্তব্য দিতে রাজী হোননি।

তবে মজলিশপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার মোহাম্মদ হাসান বলেন, এখান দিয়ে হাজার হাজার মানুষ চলাচল করে। কচুরিপনার কারনে নৌকা চলাচল করতে না পারায় অনেকগুলো নৌকা দিয়ে একটি ভাসমান সেতু তৈরি করা হয়েছে। তাছাড়া কটুরিপনা মারার জন্য কোন ঔষধ প্রয়োগ করলে নদীর পানি নষ্ট হয়ে যায়, ফলে নদীর মাছও মরে যাওয়ার সম্ভবনা থাকে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও স্থানীয় এমপির কাছে এখানে একটি ব্রীজ বানিয়ে এলাকাবাসীর ভোগান্তি কমানোর দাবী জানান মোহাম্মদ হাসান।

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।