হত্যা চেষ্টার অপরাধে শিক্ষকের জেল, আছে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ

২৪ মার্চ, ২০২১ : ২:২৮ অপরাহ্ণ ৫৭২

তেপান্তর রিপোর্ট: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জের শরীফপুর গ্রামে এক ব্যক্তিকে হত্যা চেষ্টার অপরাধে এক শিক্ষককে ২ বছরের কিছু বেশি সময় জেল দিয়েছেন আদালত। গত ৯ মার্চ এই রায় দেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আদালত। ওই শিক্ষকের নাম সাজিদুল ইসলাম সাচ্চু (সাচ্চু মাষ্টার), তিনি আশুগঞ্জের শরীফপুর গ্রামের মালেক মিয়ার ছেলে ও নবীনগরের বড়াইল নাজির ভূইয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের কম্পিউটার শিক্ষক । শুধু তাই নয়, তার বিরুদ্ধে আপন ছোট ভাইয়ের স্ত্রীকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগও আছে। সাচ্চুর ছোট ভাই প্রবাসী কাউসার মিয়ার স্ত্রী লিজা আক্তার (২২) কে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে গত ২০ ফেব্রæয়ারি ২০২০ তারিখে আশুগঞ্জ থানায় মামলা করেন লিজা। যদিও বিষয়টি পরবর্তীতে পারিবারিক ভাবে মিমাসংসা করে ফেলা হয়। এই ঘটনার ২/৩ দিন আগে আশুগঞ্জের যাত্রাপুর গ্রামের কুদ্দুস মিয়া নামে এক ব্যক্তি সাচ্চু মাষ্টারের বিরুদ্ধে মারামারির অভিযোগে আরেকটি মামলা করেন বলে জানা গেছে।

মামলার এজাহার, চার্জশিট থেকে ও খোজ-খবর নিয়ে জানা গেছে, জায়গা-জমি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে পূর্ব বিরুধের জের ধরে গত ২০১৭ সালের ১৪ অক্টোবর হত্যার উদ্যেশে গ্রামের মৃত আব্দুস সোবহানের ছেলে মজিবুর রহমানকে (৪১) কুপিয়ে ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা করে সাচ্চু মাষ্টার ও তার সহযোগী মন্তু মিয়া ও আব্দুর রাজ্জাক। স্বামীকে হামলা থেকে বাচাতে মজিবুরের স্ত্রী মনোয়ারা বেগম এগিয়ে গেলে তাকেও মারাতœক ভাবে আঘাত করা হয়। এর আগে ১২ অক্টোবর শরীফপুর শের আলী মার্কেটে ভুক্তভোগী মজিবুর রহমানের চাচাতো বোন শেফালি ও চাচাতো ভাই আনোয়ারকেও পিটিয়ে গুরুত্বর আহত করে সাচ্চু মাষ্টার।
মামলার পর প্রথমে পুলিশি তদন্ত ত্রæটিপূর্ণ হওয়ায় পরে আদালতের নির্দেশে সিআইডির তদন্তে হামলার ঘটনার সত্যতার মিলে। এর প্রেক্ষিতে ২০২১ সালের ৯ মার্চ সাচ্চু মাষ্টারকে ২ বছরের কিছু বেশি সময় জেল দেন আদালত।

এদিকে ২০২০ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি আপন ছোট ভাইয়ের স্ত্রীকে ধর্ষণ চেষ্টার অবিযোগ করেছেন তারই ছোট ভাইয়ের স্ত্রী লিজা আক্তার। মামলার এজাহারে বলা হয়, লিজার স¦ামী প্রবাসে থাকার সুযোগে প্রায়ই লিজাকে উত্ত্যক্ত করতো সাচ্চু। ১৫ ফেব্রæয়ারি রাতে ঘরের দরজায় টুকা দিলে লিজা দরজা খোলা মাত্রই সাচ্চু লিজার মুখে ও শরীরে ঝাপটে ধরে খাটে শুইয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করে। তখন লিজা সাচ্চুকে বুকে লাথি দিয়ে খাটের নিচে ফেলে দিয়ে চিৎকার করলে লিজার শ্বশুর, দেবর ও আশপাশের লোকেরা এসে জড়ো হলে সাচ্চু পালিয়ে যায়।

এবিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ খোরশেদ আলম তেপান্তরকে জানান, শিক্ষক যদি কোন অপরাধে জেল খাটেন তবে নিয়ম অনুযায়ী তিনি সাময়ীক বহিষ্কার হবেন এবং জেলে থাকা অবস্থায় তিনি অর্ধেক বেতন পাবেন।

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।