নবীনগরে এসএসসি ফরম পূরণে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার অভিযোগ

১৪ নভেম্বর, ২০১৯ : ৪:২২ অপরাহ্ণ ৪৯৩

অতিরিক্ত ফি দিতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে রতনপুর আবদুল্লাহ উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি পরিক্ষার্থী আমেনার পরিবার। ছবি: তেপান্তর

মোঃ সফর মিয়া: মা ও এক বোনকে নিয়ে আমার সংসার,বাবা মারা গেছে ১০ বছর আগে, লেখা পড়ার ইচ্ছা থাকলেও সংসারের অভাবের কারনে লেখা পড়া করতে পারছিনা। সেলুনে কাজ করে সংসার চলে। রাত দিন সেলুনে কাজ করে বড় বোনের পরীক্ষার ফরম পূরনের টাকা জোগার করেছি,কথাগুলো বলেছেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার রতনপুর গ্রামের মৃত গনি মিয়ার ১২ বছর বয়সী ছেলে সুমন মিয়া। সুমনের মা কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, অভাবের সংসার এক বেলা খেলে আরেক বেলা খেতে পারি না। ইস্কুলের আপা ৪হাজার টাকা চেয়েছিল, গ্রামের কিছু লোকজনের সাহায্য নিয়ে ৩হাজার টাকা দিয়ে আমার মেয়ে আমেনার ফরম পূরন করেছি।
২০২০ সালের এসএসসি পরীক্ষার সরকারি নিবন্ধন ফি বিজ্ঞান বিভাগ- ১৯৭০ টাকা,মানবিক বিভাগ ও ব্যবসায় শিক্ষা শাখা- ১৮৫০ টাকা নির্ধারণ করা হলেও তা মানছে না ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে ফরম পূরণে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিভাবকরা স্কুল কর্তৃপক্ষের ধার্য করা টাকা দিতে বাধ্য হচ্ছেন।
একাধিক অভিভাবক ও শিক্ষার্থীর অভিযোগের ভিত্তিতে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ফরম পূরণ নামে রীতিমতো বাণিজ্য হয়েছে। উপজেলার রতনপুর আবদুল্লা উচ্চ বিদ্যালয়ে বুধবার সরজমিনে গিয়ে জানাযায়, ২০২০ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে ফরম পূরন ফি বাবদ ৩হাজার ৪শত টাকা ও কোচিং ফি বাবদ ৬শত টাকা, আবার কোন কোন শিক্ষার্থীর নিকট থেকে ৫হাজার টাকা নেওয়ারও অভিযোগ পাওয়া গেছে। যাদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছে তাদেরকে কোন রশিদই দেওয়া হয়নি।
রতনপুর আবদুল্লাহ উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানিজিং কমিটির সদস্য ডাঃ মোঃ শাহজান বলেন, আমি নিজে একজনের ফরম পূরনের জন্য ৩হাজার টাকা দিয়েছি, কিন্তু আমাকে কোন রিসিট দেওয়া হয়নি। ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ইসাক মিয়া, ভোমিক, তাহমিনা আক্তার, নাহিদা, আরফিন,খাদিজা বেগম, পপি, মুক্তা, ও সুমাইয়া বলেন, আমাদের কোন বকেয়া বেতন নেই। তারপরও ফরম পুরনের জন্য ৩৪ শত টাকা আর কোচিং এর জন্য ৬শত টাকা নিয়েছে। আমরা জমা দেওয়ার টাকার রিসিট চাইলে পরে দিবে বলে আমাদেরকে বিদায় করে দেন। বিদ্যালয়ের ম্যানিজিং কমিটির সদস্য ও সাবেক সভাপতি আবু উমর মিল্কী বলেন, প্রধান শিক্ষকের ইচ্ছা মতো ফরম পূরনের টাকা নিচ্ছেন,আমার কাছে অনেকেই অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার বিষয়ে অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগ অস্বীকার করে রতনপুর আবদুল্লাহ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তানজিনা আক্তার আলেয়া বলেন, ২হাজার টাকা করে নিয়েছি, যাদের বকেয়া বেতন আছে তাদের কাছ থেকে ৫হাজার টাকাও নিয়েছি। রিসিট না থাকার কারনে রিসিট দিতে পারি নাই। পরে রিসিট এনে সবাইকে দিয়ে দেব।
নবীনগর সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ে ফরম পূরণের সাথে জানুয়ারী-মার্চ ২০২০ সালের বেতন সহ আলাদা রসিদে ৮৫০ অতিরিক্ত আদায় করা হচ্ছে এমন অভিযোগের জবাবে,নবীনগর সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবু মোছা জানান, প্রথমে বোর্ডের নির্ধারিত ফি ছাড়াও অতিরিক্ত ৮৫০ টাকা নেওয়া হলেও বর্তমানে বিভিন্ন খরচ ও বিদ্যালয়ের উন্নয়ন খাতের জন্য ৪০০টাকা নেওয়া হয়েছে। যাদের কাছ থেকে ৮৫০ টাকা নেওয়া হয়েছে তাদেরকে ৪৫০ টাকা ফেরৎ দেওয়া হবে।
নবীনগর ইচ্ছাময়ী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কাউসার বেগম বলেন, ফরম পূরনে বোর্ডের নির্ধারিত টাকার চেয়ে বেশি নেওয়া হয়নি। প্রথমে বিভিন্ন খরচের জন্য ১শতটাকা অতিরিক্ত নেওয়া হলেও পরে তা ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে নবীনগর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোকাররম হোসেন জানান,ফরম পূরনে বোর্ডের নির্ধারিত ফি”র চেয়ে কোন অবস্থাতেই অতিরিক্ত আর কোন খাতে টাকা নেওয়া যাবে না। তিনি আরো বলেন, রিসিট ছাড়া টাকা নেওয়া আইনগতভাবে অপরাধ।
বোর্ড কর্তৃক উল্লেখিত ফি’র অতিরিক্ত কোন প্রকার টাকা নেয়া যাবে না। বোর্ডের নিয়ম মেনে চলার জন্য প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের নিকট অনুরোধ করেছিলেন নবীনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ মাসুম।

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।