ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তান্ডব: ৭ মামলায় আসামী সাড়ে ৮ হাজার, হেফাজতের কারো নাম নেই

৩১ মার্চ, ২০২১ : ১:১৫ অপরাহ্ণ ৬৩০

তেপান্তর রিপোর্ট: ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গত তিন দিনে হেফাজত ও মাদ্রাসা ছাত্রদের নারকীয় তান্ডবে ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় মঙ্গলবার পর্যন্ত ৭টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এর মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সদর থানায় ৫টি ও আশুগঞ্জ থানায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়। এসব মামলায় এখন পর্যন্ত ১৪জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আসামী সাড়ে ৮ হাজার। এর মধ্যে কোন হেফাজত কর্মীকে আসামী করা হয়নি।

দায়েরকৃত ৭টি মামলার মধ্যে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় এস.আই মিজানুর রহমান বাদি হয়ে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেছেন। (মামলা নং-৪১ ও ৪২, তারিখঃ-২৭-০৩-২১ইং)। মামলায় দুটিতে অজ্ঞাতনামা চার থেকে ৫ হাজার লোককে আসামী করা হয়েছে।

আনসার-ভিডিপির কার্যালয় ভাংচুর ও অগ্নি সংযোগের ঘটনায় আনসারের সার্কেল অ্যাডজুটেন্ট শাহাদাত হোসেন বাদি হয়ে ১টি মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-৪৫, তারিখঃ-২৮-০৩-২১ইং)। এই মামলায় অজ্ঞাতনামা ৪০০/৫০০ লোককে আসামী করা হয়েছে।

ইউনির্ভাসিটি অব ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হামলার ঘটনায় ইউনির্ভাসিটির রেজিষ্ট্রার খন্দকার এহসান হাবিব বাদি হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছেন ( মামলা নং-৪৪, তারিখ ২৮-০৩-২১ ইং)। এই মামলায় অজ্ঞাতনামা ২০০/৩০০ লোককে আসামী করা হয়েছে।

এ ছাড়া পৌর এলাকার পশ্চিম মেড্ডা পীরবাড়ি এলাকায় পুলিশের সাথে হেফাজত কর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশের এস.আই মোসলেম উদ্দিন বাদি হয়ে পৃথক একটি মামলা দায়ের করেছেন। (মামলা নং-৪৩, ২৭-০৩-২১ইং)। এই মামলায় ১৪ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা ১০০০/১৫০০ লোককে আসামী করা হয়েছে।

এ ছাড়া আশুগঞ্জ টোলপ্লাজায় হামলা-ভাংচুরের ঘটনায় আশুগঞ্জ হাইয়ের সার্জেন্ট জহিরুল হক বাদি হয়ে অজ্ঞাতনামা ৪০০/৫০০ লোকের বিরুদ্ধে একটি এবং আশুগঞ্জ টোলপ্লাজার দায়িত্বপ্রাপ্ত জয়নাল আবেদীন অজ্ঞাতনামা ৪০০/৫০০ লোকের বিরুদ্ধে অপর মামলাটি দায়ের করেন।

এ দিকে ঘটনায় সোমবার বিকেলে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার এবং সোমবার বেলা ১১টার পর পুলিশের চট্টগ্রাম বিভাগের ডিআইজি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

বিভাগীয় কমিশনার এ.বি. এম. আজাদ এনডিসি পুড়িয়ে দেয়া বিভিন্ন স্থাপনা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের জানান, ক্ষয়-ক্ষতি নিরুপন করা হচ্ছে। প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানকে ক্ষয়-ক্ষতি নিরুপন করার জন্য বলা হয়েছে। তিনি বলেন, ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণ নিরুপণের পর সরকারি সহযোগিতার ব্যবস্থা করা হবে। তিনি বলেন, ঘটনার সাথে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে বিচারের ব্যবস্থা করা হবে।

অপরদিকে বেলা ১১ টার দিকে পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আনোয়ার হোসেন আগুনে পুড়িয়ে দেয়া বিভিন্ন স্থাপনা পরিদর্শন করে তিনি বলেন, ঘটনা তদন্ত করতে অতিরিক্ত ডিআইজিকে প্রধান করে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুর রহিম বলেন, হামলা-ভাংচুরের ঘটনায় এ পর্যন্ত সদর থানায় ৫টি মামলা হয়েছে। আরো মামলার প্রস্তুতি চলছে। এ পর্যন্ত ১৪জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

আশুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাবেদ মাহমুদ বলেন, হামলা-ভাংচুরের ঘটনায় মঙ্গলবার সকালে আশুগঞ্জ থানায় দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও প্রশাসন) মোহাম্মদ রইছ উদ্দিন বলেন, তিনদিনের সংঘর্ষের ঘটনায় ১২জনের মৃত্যু হয়েছে। তিনি বলেন, সংঘর্ষের সময় তিনি সহ পুলিশের ৮০ সদস্য আহত হন।

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।