আখাউড়ায় শিক্ষা অফিসারের সামনেই নকলের মহোৎসব

১৪ নভেম্বর, ২০১৯ : ৭:০০ অপরাহ্ণ ৪০৯

তেপান্তর রিপোর্ট: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শওকত আকবর খানের উপস্থিতিতে জেএসসি পরীক্ষায় নকলের মহোৎসব হয়েছে। কেন্দ্র সচিব, সহকারী কেন্দ্র সচিব ও বিভিন্ন বিদ্যালয়ের গণিতের শিক্ষকরা এ নকল কাণ্ড ঘটিয়েছে।
বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ রেলওয়ে সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ে গণিত পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে নকলের এ মহোৎসব চলে। বিদ্যালয় ভবনের দেয়ালে ‘নকলমুক্ত পরীক্ষা কেন্দ্র’ লিখা ব্যানার সাঁটিয়ে ভেতরে শিক্ষকদের সহযোগিতায় এমন নকলকাণ্ডের ঘটনায় ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা।
সরজমিনে বৃহস্পতিবার সকাল পৌনে ১১টায় আখাউড়া রেলওয়ে সরকারী উচ্চ বিদ্যালয় পরীক্ষা কেন্দ্রে গেলে দেখা যায় ১০৭, ১০৮ ও ১১০ নম্বর কক্ষে দেবগ্রাম সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শেখ মাহফুজুর রহমান, একই স্কুলের গণিতের শিক্ষক মো. শাহনোয়াজ, রেলওয়ে উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. হাবিবুর রশিদ, শাহপীর কল্লাহ শহীদ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পারভীন আক্তার পরীক্ষার্থীদের প্রশ্নের উত্তর বলে দিচ্ছেন। এসময় উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা
কর্মকর্তা শওকত আকবর খান এবং সহকারী কেন্দ্র সচিব কাজী মো. তারেককে বাড়ান্দায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। এসময় সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে গণিতের শিক্ষক হাবিবুর রশিদ হাতে থাকা উত্তরপত্রটি (নকল) পকেটে লুকিয়ে ফেলেন এবং বহিরাগত অন্য শিক্ষকরা দ্বিগবিদিক ছুটাছুটি করে সটকে পড়েন। এসময় মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শওকত আকবর খানকে তার উপস্থিতিতে শিক্ষকরা কীভাবে নকল কাণ্ড চালাচ্ছে চ্যালেঞ্জ করলে তিনি বহিরাগত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা না নিয়ে দ্রুত কেন্দ্র ত্যাগ করেন। এসময় সহকারী কেন্দ্র সচিব কাজী মো. তারেককে গণিতের শিক্ষক হাবিবুর রশিদের পকেট নকল রয়েছে এমন তথ্য দিয়ে নকলটি বের করার অনুরোধ জানালে তিনি তল্লাশী না চালিয়ে উল্টো ওই শিক্ষককে চলে যেতে ইশারা করেন।
পরীক্ষা কেন্দ্রে দায়িত্ব না থাকা সত্বেও শাহপীর কল্লা শহীদ উচ্চ বিদ্যালয়ের গণিতের শিক্ষক মো. শাহ আলম ও একই বিদ্যালয়ের শিক্ষক গোলাপ
উদ্দিনকে পরীক্ষা কেন্দ্রের কক্ষে ঘুরাঘুরি করতে দেখা যায়।
রেলওয়ে স্কুল কেন্দ্রের সামনে অপেক্ষমান হাবিবা টুম্পা, শাকিলা জামান, ইকবাল হোসেন, মো. আলাউদ্দিনসহ একাধিক অভিভাবক বলেন, আমাদের
ছেলে-মেয়েরা সারা বছর পড়াশুনা করে পরীক্ষা দিতে এসেছে। তারা মেধার মাধ্যমে প্রতিযোগিতা করে ভাল রেজাল্ট অর্জন করবে। কিন্তু শিক্ষকরা যদি
এখনই তাদেরকে নকলে উদ্বুদ্ধ করেন তাহলে ওই শিক্ষার্থীরা আর পড়াশোনায় মনোযোগি হবে না। জাতি হবে মেধাশূণ্য।
রেলওয়ে সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও কেন্দ্র সচিব মো. আমিনুল
ইসলাম বলেন, পরীক্ষা কেন্দ্রে ডিউটি না থাকা শিক্ষকরা কীভাবে কেন্দ্রে এসেছে তা আমার জানা নাই। বিষয়টি আমার নজরে আসার পর তাদেরকে
সতর্ক করে বের করে দিয়েছি। তিনি এ বিষয়ে কোন রিপোর্ট না করার অনুরোধ করে পরীক্ষার পর দেখা করবেন বলে তিনি সাংবাদিকদের জানান।
আখাউড়া সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাজমুল হাসান দায় সারা ভাবে বলেন, আমি রেলওয়ে স্কুলের পরীক্ষা কেন্দ্রে
কিছুক্ষণ অবস্থান করি। পরে মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দিয়ে অন্য কেন্দ্রে চলে যাই। আমি চলে আসার পর কিছু হয়েছি কিনা আমার জানা নেই।

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।