ইউএনও পরিদর্শনের পরও যেন তেন ইটেই সলিং শাহবাজপুর সড়কে

২২ এপ্রিল, ২০২১ : ১:৫২ অপরাহ্ণ ৫৪৬

তেপান্তর রিপোর্ট: স্থানীয় জনগনের বাধার মুখে বন্ধ থাকা শাহবাজপুর ইউনিয়ন পরিষদের তিন নং ওয়ার্ডের খন্দকার পাড়ার সামনের সড়কের মেরামত ও ইট সলিং সরাইল উপজেলা নির্বার্হী অফিসার পরিদর্শনের পরও যেন তেন ইট দিয়ে কাজ সেরেছে শাহবাজপুর ইউনিয়ন পরিষদ।

স্থানীয় জনগনের চাপের মুখে টানা দুইদিন কাজ বন্ধ রাখার পরই সড়কটি পরিদর্শনে আসেন সরাইল উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফুল হক মৃদুল। সেসময় সড়ক পরিদর্শন করে তিনি মাছুর পাড়া প্রান্ত থেকে খন্দকার পাড়ার ব্যবহৃত সলিংয়ের বিভিন্ন অংশের ইট পরিবর্তন করতে বলেন তিন নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্যকে।

তবে উপজেলা নির্বার্হী অফিসার যাবার পর আবারও মানহীন ইট সলিং ব্যবহার করার মাধ্যমে সড়কটির কাজ সম্পন্ন করে ফেলেন ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য। স্থানীয় জনগন বাধা দিলে জামাল মেম্বার তাদেরকে জানান, ইউএনও এসবই বেছে বেছে লাগাতে বলেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শাহবাজপুরে এক প্রভাবশালী ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য ও স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা এসব ইট সরবরাহ করেছেন। যে কারণে কেউ হামলা মামলার ভয়ে কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হয়নি।

রাস্তায় বাজে ইটের কাজটি প্রথমে বন্ধ করে দেন স্থানীয় যুবক ও গণমাধ্যমকর্মী সৈয়দ রিয়াদ। তেপান্তর প্রতিনিধি তার সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, এটা একটা গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। গ্রামের একমাত্র বালিকা বিদ্যালয়েরও সড়ক এটি। আমি সর্বাত্বক লকডাউনেও ঢাকা থেকে এসেছি এই কাজটি যেন ভালোভাবে করে অনুরোধ করতে। ভাল ইট দিয়ে কাজ না করলে স্থানীয়রা কাজটি বন্ধ করে দেয়।

তিনি আরও বলেন, আমি বুঝতে পারি এরা সঙ্গবদ্ধভাবে দুর্নীতি করছে, তাই উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে ফোন করি। তিনি সড়কটি পরিদর্শনও করেন তবে তিনি আসার পরও কাজটি যেন তেন ভাবেই শেষ করেছে এরা। দুটি রাস্তার মুখে কেবল ভাল ইট ব্যবহার করেছে। শুনেছি যারা বাধা দিচ্ছে তাদের অনেককে বিষ্ফোরক মামলার আসামী করারও ভয় দেখানো হচ্ছে।

রিয়াদ আরও বলেন, আমরা ভাবতেও পারিনা একটি গ্রামেও এইভাবে উন্নয়ন কাজে দুর্নীতি হতে পারে। এই কাজটি নাকি সব ইউনিয়ন সদস্য মিলে করছে, এটাই আমাকে এই ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য জানালো। তাদের কাজ ভাল না লাগলে অন্য কোথায় কাজ করে ফেলারও প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিত করেন ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য।

তিনি আরও বলেন, এরা প্রতিটি সড়কেই এমন ইট লাগিয়েছে বলেই আমাকে জানায়। এটা শোনার পর মনে হলো আমি এই কাজে বাঁধা দিযে মস্ত বড় অন্যায় করেছি। কি একটা অবস্থা শেখ হাসিনার সরকার যেখানে দুর্নীতিতে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছে এরা সেখানে দুর্নীতির দোকান খুলে বসেছে।

স্থানীয় একজন নিজের নাম প্রকাশ না কারার শর্তে বলেন, ইউএনও আসার পরও এরা যখন এসব ইট লাগাচ্ছে তখন বুঝতে হবে শর্ষের মধ্যেই ভূত আছে। ইউএনও আসার পর ভাবছিলাম কাজ ভাল হবে কিন্তু তা আর হলো না। তাহলে ইউএনও কাজটা কি? তিনি মেম্বার চেয়ারম্যানকেও ভয় পান?

ইউনিয় পরিষদের একজন সদস্য নিজের নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এই কাজটা থেকে আমরা ইউনিয়নের প্রত্যেক ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য পাঁচ হাজার টাকা কওে পেয়েছি।’ তবে স্থানীয় একজন জানান টাকার ভাগটা আরও বেশি।

এবিষয়ে অভিযুক্ত জামাল মেম্বার ও চেয়ারম্যানের বক্তব্য জানতে তাদের মোবাইলে কল করেও কোন সাড়া পাওয়া যায়নি।

তবে এই বিষেয় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক হায়াত উদ দৌলা খানের সঙ্গে কথা বললে তিনি তেপান্তরকে বলেন, আপনি রাস্তার ডিটেইল আমাকে এসএমএস করুন আমি বিষয়টি দেখছি।

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

  • 163
    Shares